Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নোবেল পুরস্কার : হাসিনা থেকে মুজিব

এমএ নোমান
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। মোসাহেব ও খয়ের-খাঁ শ্রেণীর নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা শেখ হাসিনাকে বিশ্বনেত্রী, বঙ্গভাষাকন্যা, বিশ্বশান্তির অগ্রদূত, ডটার অব পিস, গণতন্ত্রের মানসকন্যা ইতাদি উপাধীতে ভূষিত করে তাকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার জন্য অব্যাহতভাবে দাবি জানিয়ে আসছে। শেখ হাসিনা নিজেও জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বর্তমান অশান্ত বিশ্বে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে বিশ্বশান্তির মডেল উপস্থাপন করে আওয়ামী দাবিকে আরও প্রাসঙ্গিক ও যৌক্তিক করে তুলেছেন।
জাতির কন্যা শেখ হাসিনা এখনও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাননি। তাই বলে তার জন্য নোবেল পুরস্কারের দাবি স্তিমিত হয়ে যায়নি। তাদের এ দাবির সঙ্গে নতুন করে শেখ হাসিনার পাশাপাশি জাতির জনকের নামও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ‘বঙ্গবন্ধুকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হোক’ এই দাবি জানিয়ে চার রঙের পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা রাজধানী। মরহুম শেখ মুজিবের ছবি সম্বলিত এ পোস্টারে তাকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের পর থেকে একজন বংলাদেশীসহ সর্বমোট তিনজন বাঙালি এ পুরস্কার অর্জন করেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার অনবদ্ধ সাহিত্যকর্ম গীতাঞ্জলীর জন্য ভারতীয় নাগরিক হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করে গোটা বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষি মানুষের মাথা উঁচু করেন। পরবর্তী সময়ে অপর ভারতীয় নাগরিক অমর্ত্য সেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ভারতের নাগরিক হলেও তিনিও হচ্ছেন বাংলা ভাষাভাষী। স্বাভাবিক কারণেই এ নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের উত্সাহের কমতি ছিল না। তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের মনে একটি আক্ষেপ বরাবরই লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যদি নোবেল পুরস্কার পেতেন—এ ধরনের একটি প্রত্যাশা সব শ্রেণী-পেশার নাগরিকের মনে ছিল। শেষ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস ক্ষুদ্র ঋণ কার্যকর্মের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এনে বাংলাদেশী নাগরিকদের বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন।
ড. ইউনূসের এ নোবেল প্রাপ্তিকে খুব সহজে ও ইতিবাচকভাবে নিতে পারেনি শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী বুদ্ধিজীবীমহল। বর্তমান সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একাধিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে, যেখানে ভারতীয় নাগরিক নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনকে অতিথি করে সম্মানিত করা হয়েছে। কিন্তু ড. ইউনূসকে তাতে আমন্ত্রণও জানায়নি ক্ষমতাসীনরা। বরং গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস ও ড. ইউনূসকে ঘায়েল করার সব আয়োজনও করা হয় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। ড. ইউনূস সরকারের প্রতিহিংসা থেকে বাঁচতে উচ্চ আদালতে গিয়েও হেরে যান।
উচ্চ আদালতে শুনানির এক পর্যায়ে ড. ইউনূসের আইনজীবী ড. কামাল হোসেন তার নোবেল পুরস্কারে সরকার ঈর্ষান্বিত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে এর প্রতিকার চান। আওয়ামী লীগ ড. ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তিকেই তাদের জন্য অপমানজনক বলে মনে করছে। আর এ কারণেই তাকে এখন অপদস্ত করার সব আয়োজন করেছে। ড. কামালের এ আর্গুমেন্টের বিষয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাংবাদিকদের তিনি উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, শান্তিতে নোবেল পাওয়ার মতো বিন্দুমাত্র যোগ্যতাও ড. ইউনূসের নেই। তিনি কোন যুক্তিতে নোবেল পেলেন? মাহবুবে আলম আরও বলেন, বাংলাদেশে যদি কেউ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করে থাকেন তিনি হলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমা। তারাই পাহাড়ে শান্তিচুক্তি করে স্থায়ী শান্তি এনেছেন।
তাদের বাদ দিয়ে ড. ইউনূসকে নোবেল পুরস্কার দেয়া ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।
অ্যাটর্নি জেনারেলের এই বক্তব্যের আগেও বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্য একই দাবি উপস্থাপন করেছেন। সেদিন সরকার দলীয় ওই সংসদ সদস্য শেখ হাসিনাকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার দাবি জানাতে সংসদে একটি প্রস্তাব পাস করার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ রাখেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে এখন আওয়ামী লীগের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কাজেই জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়ার জন্য প্রস্তাব পাস করা সম্ভব হবে। এ প্রস্তাব পরে নোবেল কমিটিতে পেশ করা হলে জননেত্রীর জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া খুব সহজ হবে। তবে শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কার না পেলেও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে তিনি দেড় ডজন ডক্টরেট ডিগ্রিসহ বিভিন্ন পদক ও খেতাব পেয়েছেন। যা ড. ইউনূস কিংবা অমর্ত্য সেনও পাননি।
শেখ হাসিনার দাবি পূরণ না হতেই এবার নতুন করে শেখ মুজিবকে মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার দেয়ার দাবি জোরালোভাবেই ছড়িয়ে পড়েছে। গোটা রাজধানী জুড়েই পোস্টার লাগানো হয়েছে। ন্যাশনাল লেবার পার্টির পক্ষ থেকে লাগানো এসব পোস্টারে লেখা হয়েছে যে, একটি নিরপেক্ষ ও যৌক্তিক আহ্বান। বঙ্গবন্ধুকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হোক।
এই পোস্টারে আরও লেখা রয়েছে যে, পৃথিবীর ইতিহাসে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সেরা আহ্বান করেছিলেন বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ‘তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এই দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।’ তার এ ডাকটিই পরীক্ষিত শতভাগ সেরা আহ্বান। বঙ্গবন্ধু নোবেল পুরস্কার পরিষদ করে এ দাবি নোবেল কমিটির কাছে পৌঁছে দিতে শেখ হাসিনার প্রতি আবদার রাখা হয়েছে পোস্টারটিতে।
পোস্টারটি এর মধ্যেই সর্বমহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। শত শত পথিক পোস্টারটি বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন এবং নানা ধরনের মন্তব্যও করছেন। কেউ কেউ বলছেন—নোবেল পুরস্কার কে আগে পাবেন—বঙ্গবন্ধু, নাকি তার কন্যা শেখ হাসিনা?