Amardesh
আজঃআজঃ ঢাকা, রোববার ২১ অক্টোবর ২০১২, ৬ কার্তিক ১৪১৯, ৪ জিলহজ ১৪৩৩ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনে বিপর্যস্ত সুন্দরবন

এহতেশামুল হক শাওন, খুলনা
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
অতিমাত্রায় পর্যটকের চাপ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের নিবীড় পরিবেশে বিপর্যয় ডেকে আনছে। একই সময়ে শত শত পর্যটকের আগমন, বনের অভ্যন্তরে তাদের পদচারণা ও উচ্চ স্বরে কোলাহল, লাউড স্পিকারে গান বাজিয়ে ও শব্দ করে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং যত্রতত্র বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রাণীদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটকবাহী জলযানগুলো থেকে নির্গত তেল পানিদূষণ ঘটাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে পরিকল্পিত পর্যটন গড়ে তোলার লক্ষ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে বন বিভাগ। এরই মধ্যে নীতিমালার খসড়া পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বেশিসংখ্যক পর্যটক সুন্দরবন এলে শব্দদূষণ, পানিদূষণ ও পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা থাকে বেশি। সুন্দরবনে আসা জলযানগুলো (লঞ্চ, মাঝারি জাহাজ) থেকে নির্গত তেল এখানকার পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই আমরা পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় খসড়া নীতিমালা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি।’ ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সুন্দরবনের জন্য বন বিভাগের খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ও নির্মল পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে বিভিন্ন স্থানের জন্য ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ পর্যটক সংখ্যা বন বিভাগ নির্ধারণ করবে। পর্যটকবাহী জলযানে জেনারেটরের পরিবর্তে সৌরশক্তি ব্যবহার উত্সাহিত করা হবে। তবে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে রাত ৯টার পর জেনারেটর চালানো যাবে না। জীববৈচিত্র্য বা প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো শব্দযন্ত্র যেমন—মাইক, মাইক্রোফোন, রাসায়নিক দ্রব্য, পটকা, বাজি ইত্যাদি পর্যটকবাহী জলযানে রাখা যাবে না। পর্যটকদের ব্যবহৃত যেকোনো পরিবেশ দূষণকারী দ্রব্য যেমন—পলিথিন, প্লাস্টিক, কৌটা ইত্যাদি বা খাবারের উচ্ছিষ্ট নদীতে ফেলা যাবে না। এ জন্য জলযানেই বর্জ্য রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে। সুন্দরবন ভ্রমণে ব্যবহৃত লঞ্চ সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর কর্তৃক হালনাগাদ ফিটনেস সনদপত্র থাকা সাপেক্ষে প্রতিটি লঞ্চে সর্বোচ্চ ৭৫ জন পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে পরিবহন অধিদফতর কর্তৃক তা রাত্রিকালীন ধারণক্ষমতার মধ্যে থাকতে হবে। সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে বন বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক জলযানের বেশি রাতের সময় অবস্থান করতে পারবে না। সুন্দরবন ভ্রমণকালে বনাঞ্চলের যত্রতত্র জলযান ভেড়ানো বা নোঙর করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট অনুমোদিত স্থানে জলযান নোঙর করা বা ভেড়ানো গেলেও পর্যটকরা যত্রতত্র ঘোরাফেরা করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে বনের ভেতরে দায়িত্বরত বনকর্মীদের অনুরোধ বা নিষেধ মেনে চলতে হবে। সুন্দরবনের পর্যটকবাহী জলযান চলাচলের জন্য বন বিভাগের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। বন বিভাগ প্রয়োজনে রুট পরিবর্তন করতে পারবে। জানা যায়, সুন্দরবনের খসড়া নীতিমালায় পর্যটকদের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডের প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি পর্যটকবাহী জলযানের ন্যূনতম একজন করে প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড এবং ৫০ জনের অধিক পর্যটকের জন্য ন্যূনতম দু’জন প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড থাকতে হবে।