Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৬ আগস্ট ২০১২, ১০ ভাদ্র ১৪১৯, ৬ শাওয়াল ১৪৩৩    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০ টায়
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ঈদ অবকাশে মুখরিত পর্যটন কেন্দ্রগুলো

আলাউদ্দিন আরিফ
পরের সংবাদ»
একটু অবসর আর হাতে কিছু অর্থকড়ি থাকলেই ভ্রমণপিয়াসু মানুষ ছুটে চলেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোর দিকে। ঈদের লম্বা ছুটি তাদের এনে দিয়েছে অবারিত সুযোগ। সপরিবারে বা বন্ধু-বান্ধবসহ তারা চলে গেছেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। তাই ঘুরে বেড়ানোর এই অসময়েও মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। কক্সবাজার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, রাঙামাটি, বান্দরবান, নীলগীরি, চট্টগ্রামের বাশখাঁলি, পতেঙ্গা, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, দেশের সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবন, বগুড়ার মহাস্থানগড়, সিলেটের জাফলং, লালাখাল, মালিনিছড়া, মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড, দিনাজপুরের স্বপ্নপুরি, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ও কিশোরগঞ্জের এগারসিন্ধুর এবং মসুয়ার জমিদার বাড়ি, শেরপুরের গজনীসহ যেখানে পর্যটন কেন্দ্র, সেখানেই দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। ঢাকার লালবাগের কেল্লা, শিশুপার্ক, সংসদ ভবন, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দনপার্কেও দেখা গেছে প্রচণ্ড ভিড়। আয়োজকদের ধারণা ছিল, অন্যবারের মতো এবারও ঈদে ভিড় হবে না। কারণ একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে অঝোর বর্ষা। কিন্তু ঈদের লম্বা ছুটি তাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে। এবার দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যাও ছিল অবিশ্বাস্য রকম বেশি। তবে আজ থেকে ভ্রমণপিয়াসু মানুষ ঘরমুখো হচ্ছে। পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খানও মনে করেন, এবার পর্যটকের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তার মূল কারণ দীর্ঘ ছুটি আর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কক্সবাজার : পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে এবার রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে। ঈদের দিন থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিয়াসু মানুষের আগমনে নিরাপত্তা কর্মীরাও বেশ তত্পর। এবার কক্সবাজারকে আগে থেকেই সাজানো হয়েছে নতুন রঙে। হোটেল-মোটেলের পুরনো জিনিসপত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। দেয়ালের পুরনো আস্তর তুলে লাগানো হয়েছে প্লাস্টিক পেইন্ট কিংবা ডিসটেম্পার। রেস্তরাঁসমূহেও ধোয়ামোছা করা হয়েছে ও রঙে রঙে সাজানো হয়েছে।
পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা মহেশখালী, হিমছড়ি, ইনানি, দরিয়ানগর, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, টেকনাফ সি-বিচ, সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা সেজেছে নতুন করে। কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেটগুলোতে নানা রকমের বাহারি বার্মিজ পণ্যের সমাহার নিয়ে দোকানিরা বসে আছেন পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায়। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোন গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান জানান, পর্যটক আসবে এমনটাই আশা করা যাচ্ছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কারণে তার উল্টোও হতে পারে। পর্যটকরা যাতে কক্সবাজার এসে বিভিন্ন পর্যটন এলাকা হিমছড়ি, ইনানি, সাফারি পার্কে সহজে ভ্রমণে যেতে পারেন, সেজন্য সরকারি উদ্যোগে দ্বিতলবিশিষ্ট বাস সার্ভিসের দাবি জানান তিনি। তবে অভিযোগ রয়েছে, পর্যটন মৌসুমে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ পর্যটক কক্সবাজারে আসার কারণে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। এ সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানাভাবে হয়রানি করা হয় তাদের।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. জয়নুল বারী সাংবাদিকদের বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টাঙানোর নির্দেশসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সেলিম মো. জাহাঙ্গীর বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সজাগ আছে। পর্যটন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
টেকনাফ : ঈদের লম্বা ছুটিতে এবার ভিড় লেগেছে টেকনাফেও। সেখানকার হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সৈকতে এখন পর্যটকদের সমারোহ। হাজার হাজার পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত টেকনাফের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। হোটেল নেটং, নেটং পাহাড়া, টেকনাফ সমুদ্র সৈকতসহ সর্বত্র পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে।
সেন্টমার্টিন : ঢল নেমেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনেও। সেন্টমার্টিন ও ছেঁড়া দ্বীপে মানুষ আর মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে কিছু মুহূর্ত কাটাতে বঙ্গোপসাগর তীরে বসেছে মানুষের মিলনমেলা। শীতের শুরুতে সাগরও রয়েছে শান্ত। বর্তমানে আবহাওয়া চমত্কার। এ সুযোগে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সাগর, পাহাড়, নদী দেখতে কেয়ারি সিন্দাবাদ নামক বিলাসবহুল জাহাজ নিয়ে নৌ-বিহারে আটপৌর জীবনে রোমাঞ্চকর সুখানুভূতিতে সৃষ্টি হয়েছে দারুণ প্রাণচাঞ্চল্য। সব মিলিয়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অনাবিল আনন্দ উপভোগ করতে বিক্ষুব্ধ তরঙ্গাবারিত জলরাশি, সারি সারি পাহাড় আর বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি প্রবাল বেষ্টিত সেন্টমার্টিন সৈকত এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। পর্যটকরা সাগরে বিক্ষুব্ধ তরঙ্গাবারিত জলরাশিতে গোসল করে আনন্দে সমুদ্র সৈকত মাতিয়ে রেখেছেন। এ সৈকতে দাঁড়িয়ে সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়া দৃশ্য ও স্রষ্টার অপূর্ব নিদর্শন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। আনন্দে-উচ্ছ্বাসে সমুদ্রের ঢেউয়ে আছড়ে পড়ছে অনেকেই। সৈকতে বেড়াতে এসে ভ্রমণপিপাসুদের মনের যেন উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। শুধু দেশীয় নয়, বিদেশি পর্যটকরাও মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেন্টমার্টিনের এদিক-ওদিক। পর্যটকরা দলে দলে জুটি বেঁধে আসছে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার ও টেকনাফের সেন্টমার্টিনে ৩৮০টির মতো হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। এতে পর্যটক ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ লক্ষাধিক। ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করেছেন হোটেল-মোটেল মালিকরা। তাই কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউসগুলোতে ঈদের পরদিন থেকেই সব রুম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী আরও ক’দিন ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনের এই রেশ থাকবে বলে আশা করছেন এখানকার হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ। তারা আরও জানিয়েছেন, পর্যটনের এই ভরা মৌসুম আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। ঈদের ছুটি এবং পর্যটন মৌসুম উপলক্ষে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেকেই স্বপ্নীল নৌ-বিহারে সাগর, পাহাড় নদী দেখতে বেছে নিয়েছে প্রমোদতরী কেয়ারি সিন্দাবাদকে। প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটকরা দ্বীপগুলোতেও পাড়ি দিচ্ছেন। কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম আমার দেশকে জানান, ঈদের পরদিন থেকেই পর্যটক যাচ্ছে ব্যাপক হারে। এ অবস্থা বেশ কিছুদিন থাকবে।
বান্দরবান : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার বিস্ময় পর্যটন শহর পাহাড়ি কন্যা নামে খ্যাত বান্দরবান পার্বত্য জেলা হাজার হাজার পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। বান্দরবানে সব পর্যটন কেন্দ্রে যেন ঈদের আমেজ বিরাজ করছে। সর্বত্রই মানুষে মানুষে ভরা। ঈদের পরের দিন থেকে এসব পর্যটক বান্দরবানে অবস্থান করছে। অনেকে আবার বান্দরবানের বড় ঈদ জামাতেই শরিক হয়ে ঈদ করেছে। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরদার করা হয়েছে প্রতিটি স্পটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের যেসব নামকরা পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে বান্দরবান তার চেয়ে কম সুন্দর নয়। বান্দরবানে পর্যটনের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম হয়েছে এবং হবে। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছে প্রশাসন।
বান্দরবানে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং (বিজয়), নীলগিরি, নীলাচল, বগালেক, প্রাকৃতিক ঝরণা রিজুক, শৈলপ্রপাত, ‘বাংলার দার্জিলিং’খ্যাত চিম্বুক, নীলাকাশ ছুঁয়ে যাওয়া নীলগিরি, নীলাচল, প্রান্তিক লেক, মিরিঞ্জা, উপ-বন, সবুজ আর স্বচ্ছ এবং জীববৈচিত্র্যেপূর্ণ মেঘলা, খরস্রোতা সাঙ্গু নদী, উপজাতীয়দের জীবনাচারসহ অসংখ্য ছোট-বড় পর্যটন স্পট।
সুন্দরবন : বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনে এখন পর্যটকদের যাওয়ার মৌসুম নয়। তবুও বনের হারবাড়িয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র, করমজল, কটকা ও কচিখালিসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড়। বিশেষ করে হারবাড়িয়া ও করমজলেই ভিড় বেশি। পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসেছে দেশ-বিদেশ থেকে। তারা আগে থেকেই এলাকার সীমিত কয়েকটা মোটেল বুকিং দিয়েই সুন্দরবনে ছুটে আসেন। তবে এবার দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা ছিল আশাতীত। অনেকে পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও আসতে পারেননি হোটেল-মোটেলে সিট না পাওয়ায়। এখানে অবশ্য কিছু বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে বরিশাল-খুলনা এলাকা থেকে লঞ্চ ও বড় নৌকায় করে দলবেঁধে যেসব লোক আসে তাদের পরিবেশ দূষণ করার অভিযোগে এবার নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। তারপরও দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার পর্যটকের ভিড়।
সিলেট ও জাফলং : সিলেটের জাফলং, মালিনিছড়া, লালখাল ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের স্পটে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। টানা চৌদ্দ দিনের ছুটির কারণে পর্যটকদের ঢল নেমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। সেখানকার সৌন্দর্যই মানুষকে আকৃষ্ট করে। প্রাকৃতিক সবুজ সুনিবিড় সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই ঈদের ছুটিতে ছুটে আসেন সিলেটের অনিন্দ্য সুন্দর পর্যটন স্পটে। জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, জাফলংয়ের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তূপ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। লালাখালের মনকাড়া স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর দুই ধারের অপরূপ সৌন্দর্য, দীর্ঘ নৌ-পথ ভ্রমণের সাধ যে কোনো পর্যটকের কাছে এক দুুর্লভ আকর্ষণ। ভারতের চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচে লালাখালের অবস্থান। চেরাপুঞ্জি থেকে এ নদী বাংলাদেশে প্রবাহিত।
প্রকৃতির কন্যা হিসেবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ের গহীন অরণ্য ও সুনসান নীরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখাতে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট, সৌন্দর্যের রানী—এসব নামেও পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে জাফলংয়ের আকর্ষণই যেন আলাদা। সিলেটে এসে জাফলংয়ে না গেলে ভ্রমণই যেন অপূর্ণ থেকে যায়। রোপওয়ে, পাথর কোয়ারি আর পাহাড়ি মনোলোভা দৃশ্য অবলোকনের জন্য সিলেটের ভোলাগঞ্জেও এবার আসছেন অসংখ্য পর্যটক। পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জির অবস্থান ভারতের পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়ে। ধলাই নদীর উজানে এ রাজ্যের অবস্থান। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ঘেরা এ রাজ্যের দৃশ্য বড়ই মনোরম। ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকায় অবস্থান করে পাহাড় টিলার মনোরম দৃশ্যাবলীও অবলোকন করা যায়।
মালিনিছড়া : উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান মালিনিছড়া পর্যটকদের কাছে আরেক বিস্ময়। সিলেটের চায়ের রং, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। বর্তমানে বেসরকারি তত্ত্বাবধানে চা বাগান পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৫০০ একর জায়গার ওপর এ চা বাগান অবস্থিত। চা বাগানের পাশাপাশি বর্তমানে এখানে কমলা ও রাবারের চাষ করা হয়।
মালিনিছড়া চা বাগান ছাড়াও সিলেটে লাক্ষাতরা চা বাগান, আলী বাহার চা বাগান, খাদিম আহমদ টি স্টেট, লালাখান টি স্টেট উল্লেখযোগ্য। উপরে বড় বড় ছায়াবৃক্ষ। নিচে আধো আলো আধো ছায়ায় দুটি পাতা একটি কুঁড়ির সবুজ চাদর। যেন শৈল্পিক কারুকাজ। এ প্রাকৃতিক দৃশ্য মন ছুঁয়ে যায়। মালিনিছড়া এবং লাক্ষতুরা চা বাগান দুটোই সিলেট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত। এছাড়াও সিলেটের শাহজালাল (র.) এবং শাহপরাণ (র.)-এর মাজার এবং নাজিমগড় রিসোর্ট, জাকারিয়া সিটি, সিলেট নগরীর শেখ ঘাটে ঐতিহ্যবাহী জিতু মিয়ার বাড়িসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে এর মধ্যেই ঢল নামতে শুরু করেছে পর্যটকদের।
সোনারগাঁও : রাজধানীর অদূরে ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়েও চলছে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আনাগোনা। এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোতে দিন-রাত মানুষের ঢল। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন পানাম নগরী ও বাংলার তাজমহলসহ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান হাজার হাজার পর্যটকের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এখানে সবশ্রেণীর পর্যটকেরই বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। এবারের লম্বা ছুটিতেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টিপরদী ও মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় লেগেই থাকে যানবাহনের ভিড়। কারণ বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদভারে মুখরিত।
হালতিবিল : রাজশাহী এলাকার হালতিবিল ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পর্যটকদের কাছে। নাটোর শহর থেকে হালতিবিলের দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। অটো ও রিকশা ভাড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা। হাজারও মানুষের আগমনে হালতিবিল এখন মুখরিত। লম্বা ছুটিতে এবার এখানেও জমে উঠছে প্রচণ্ড ভিড়। ঢল নামছে নাটোরের হালতিবিলে। ঈদের ছুটিতে প্রিয়জনকে নিয়ে একান্ত সময় কাটাতে সব বয়সের মানুষ চলে আসছে এখানে। এদের মধ্যে তরুণ-তরুণীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। এ বিল এলাকার নাম পাটুল হলেও ভ্রমণবিলাসী মানুষ এর নাম দিয়েছেন মিনি কক্সবাজার, কেউ বলে পতেঙ্গা বা দ্বিতীয় আশুলিয়া। হালতিবিলের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে একটি নতুন রাস্তা। ওই রাস্তায় হাঁটলে সমুদ্র সৈকতের আমেজ পাওয়া যায়। দু’পাশে পানি আর পানি। মধ্য রাস্তায় আছড়ে পড়ে ছোট-বড় ঢেউ।
মতামত : বিপুলসংখ্যক পর্যটকের ভ্রমণ সম্পর্কে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, লম্বা ছুটি আর আইন-শৃঙ্খলা ভালো থাকার কারণে আশাতীত পর্যটকের সমাগম। সারা দেশেই সরকার প্রতিটি সেক্টরেই বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। যে কারণে পরিস্থিতি ছিল চমত্কার। সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা ছিল নিয়ন্ত্রণে। যেটা পর্যটন খাতের জন্য অপরিহার্য।
বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম প্রসঙ্গে ট্যুরিস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির সাংবাদিকদের বলেন, লম্বা ছুটির আগেই আমরা কিছু পরিকল্পনা করি। যেমন ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। ট্যুরিস্ট বোর্ডের উদ্যোগে ওয়েবসাইটে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ঘরকুনো মানুষকে নিজ দেশ সম্পর্কে জানার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আগে দেশকে জানুন, পরে বিদেশ—এমন স্লোগানকে জনপ্রিয় করা হয়েছে। দেশের টাকা দেশে থাকলে জাতীয় অর্থনৈতিক ভিত মজবুত হবে এটা এখন মানুষ উপলব্ধি করতে পারে। যে কারণে মানুষ এখন সহজে আশপাশের দেশগুলোতে না গিয়ে স্বদেশের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। এজন্য দেশীয় ট্যুর অপারেটরদের পরিকল্পনামাফিক পর্যটক আকৃষ্ট করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যে কারণে মানুষের পর্যটনপ্রেমী হয়ে ওঠার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী আখতারুজ্জামান খান কবির বলেন, ঘরকুনো মানুষ এখন আর অতীতের মতো নেই। তারা সুযোগ পেলেই এখন ঘর থেকে বের হয়। লম্বা ছুটিতে কোথায় বেড়াতে যাবে সেটার পরিকল্পনা করে বছরের শুরুতেই। এমনকি মধ্যবিত্ত মানুষ এখন এজন্য একটা বাত্সরিক বাজেটও করে ফেলে। এবারকার কক্সবাজারসহ দেশের প্রতিটি কেন্দ্রে ছিল পর্যটকদের নজরকাড়া ভিড়। এটা নিঃসন্দেহে দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য ভালো দিক।