Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ২ ফাল্গুন ১৪১৮, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বকুল বিএনপির কেউ নন : খায়রুল কবীর খোকন

মো. মাজহারুল পারভেজ মন্টি, নরসিংদী
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
নরসিংদীর মনোহরদীতে আওয়ামী ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছেন সেই বিতর্কিত সংস্কারবাদী নেতা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়ার পরিবারকে হেয় করে নানা আপত্তিকর বক্তব্য রাখার পর দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না এলেও হঠাত্ সরব হয়েছেন তিনি। মনোহরদীর বিভিন্ন ইউনিয়নে তিনি গণসংযোগ করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। গত নির্বাচনে বিএনপির টিকিট না পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তার মামাত ভাই নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়নের নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করেছেন তিনি। তার কথা যারা শোনেননি বিএনপির এমন অনেক নেতাকর্মীর বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বকুল সমর্থিত লোকজন স্থানীয় আওয়ামী এমপির সমর্থনে ঠিকাদারি ব্যবসা ও যাত্রা হাউজিংসহ নানা অসামাজিক কাজে লিপ্ত রয়েছে।
নির্বাচনের পর এ পর্যন্ত মনোহরদীতে এ বাহিনীর তাণ্ডবলীলায় শতাধিক বিএনপি কর্মী আহত হয়েছে। বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে দু্ই শতাধিক এবং নির্যাতনের শিকার হয়েও মিথ্যা মামলায় আসামি হয়েছে সহস্রাধিক নেতাকর্মী। প্রায় প্রতিটি অপকর্মেই বকুল ও বকুলবাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদত রয়েছে বলে জানা গেছে।
মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন ভূঞা শাহজাহান জানান, গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বকুল ও তার অনুসারিরা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তার মামাত ভাই নুরুল মজিদের পক্ষ হয়ে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন। যারা তার কথা শোনেননি তারা এখনও নির্যাতিত হচ্ছে। ২০০৯ সালের ১৭ অক্টোবর উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ডুমরমাড়া গ্রামে দুই দফায় খিদিরপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ডুমরমাড়া গ্রামের আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল বেপারী ও প্রদীপের নেতৃত্বে বকুল বাহিনীর ৪০-৫০ জনের একদল সশস্ত্র লোক হামলা চালায়। কোনো কারণ ছাড়াই দুই দফায় বিএনপির কর্মী রেনু মিয়া, মো. আসাদ মিয়া, মুছা মিয়া, করুন মিয়া, ফজলু মিয়া, কাশেম মিয়া ও রিটন মিয়ার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাট করে।
এর রেশ কাটতে না কাটতে উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের বকুল বাহিনীর সদস্যরা ছাত্রলীগের সহায়তায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর একাধিকবার হামলা চালায়। পরে ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে বেআইনিভাবে সমাবেশ ও মারপিটের অভিযোগ এনে মামলা করে। মামলায় অজ্ঞাত ৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলা হওয়ার পরই সে সময় পুলিশ বিএনপির ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মনোহরদী পৌর যুবদলের সভাপতি আবুল কাসেম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. আলী আকবর, বিএনপি কর্মী রাশেদুল হাসান হাবিব, আলতাফ হোসেন, মাসুদুর রহমান ও লুত্ফর রহমান।
জেলা ছাত্রদলের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মনোহরদীর করুন আখন্দ জানান, নির্বাচনের পর বকুল সমর্থিত লোকজনের ইন্ধনে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার বাড়িসহ ৫টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটিপাট করেছে। নারী, শিশু ও পুরুষসহ আহত করেছে ১৫ জনকে। শুনেছি তিনি নাকি আবার এলাকায় গিয়ে বিএনপির কথা মুখে নিয়ে নেতাকর্মীদের সহানুভূতি প্রত্যাশা করছেন। শহীদ জিয়ার একজন সৈনিক বেঁচে থাকতেও মনোহরদীতে তার কোনো ঠাঁই হবে না বলেও জানান এই ছাত্র নেতা।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক জানান, বকুল বিএনপির টিকিটে এমপি হওয়ার পর তার লোকজন নানা অপকর্ম করায় আমাদের মতো সাধারণ নেতাকর্মীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হয়েছে দলীয় ভাবমূর্তি। টেন্ডার লুট, কৃষি ঋণ বিতরণে অনিয়ম, কাবিখাসহ নানা প্রকল্পে দুর্নীতি করে নিজের পকেট ভারি করেছেন তিনি। সমপ্রতি তিনি আবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানোর কথা শোনা যাচ্ছে।
২০০৮-এ মনোহরদী থেকে বিএনপির টিকিট নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লে. কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন, বকুল ও বকুল সমর্থিত কিছু দুষ্কৃতকারী বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রায় প্রতিদিন নানাভাবে হয়রানি করার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে তিনি দলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঊর্ধ্বতন নেতাদের অবহিত করে প্রতিকার চেয়েছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন জানান, তৃণমূল থেকে শুরু করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত কোথাও বকুলের কোনো পদ নেই। অতএব বিএনপিরও তিনি কেউ নন। বিএনপি থেকে তার মনোনয়ন পাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। শহীদ জিয়ার পরিবার নিয়ে কটূক্তিকারী ও দুঃসময়ে দলের সঙ্গে যারা বেইমানি করেছেন দলীয় চেয়ারপার্সন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবেন না। বিএনপির নেতাকর্মীরাও বেইমানদের কখনও আশ্রয় দেবে না।