Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ২ ফাল্গুন ১৪১৮, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জেরার জবাবে সাক্ষী : ৭৪টি খবরের কোনো শিরোনামে সাঈদীর নাম নেই : সা. কাদের চৌধুরীর অভিযোগ গঠনের আদেশ ২২ ফেবু্রয়ারি

আলমগীর হোসেন
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
মানবতাবিরোধী অপরাধের কথিত অভিযোগের মামলায় আটক আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ২৫তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিলেন বাংলা একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত চিফ লাইব্রেরিয়ান মোবারক হোসেন। সাঈদীর আইনজীবীদের জেরায় মোবারক আদালতে বলেন, জব্দকৃত ৭৪টি খবরের একটিরও শিরোনামে আল্লামা সাঈদীর নাম নেই। আল্লামা সাঈদীর আইনজীবী মনজুর আহমদ আনছারী সাংবাদিকদের বলেছেন, শুধু শিরোনাম নয়, কোনো একটি খবরের মধ্যেও আল্লামা সাঈদীর নাম নেই। আইনজীবী বলেন, ৭৪টি খবরের মধ্যে দু-তিনটি খবর রয়েছে বরিশাল ও পিরোজপুর-কেন্দ্রিক। এর মধ্যে ১৯৭১ সালের ৮ মে দৈনিক আজাদ পত্রিকার একটি খবরের শিরোনাম হলো ‘পিরোজপুর মহকুমায় শান্তি কমিটি গঠিত’। এ খবরের মধ্যে আল্লামা সাঈদীর নাম নেই। আল্লামা সাঈদী সে সময় সেখানকার রাজাকার বা পিস কমিটির কেউ হলে তার নাম থাকার কথা এ খবরের মধ্যে। ১৯৭২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার আরেকটি খবরের শিরোনাম হলো : ‘বর্বতার রেকর্ড : ভাগীরথীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়’। এ খবরেও আল্লামা সাঈদীর নাম নেই। উল্লেখ্য, ভাগীরথী হত্যায় আল্লামা সাঈদীকে জড়িয়ে বেশ কয়েকজন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। জেরা শেষে আর কোনো সাক্ষী না থাকায় আদালত আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছে। ওইদিন পরবর্তী সাক্ষী সাংবাদিক আবেদ খান ট্রাইব্যুনালে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়ার কথা রয়েছে। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিষয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে একই অভিযোগে আটক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের (চার্জফ্রেম) বিষয়ে আদেশের জন্য ২২ ফেবু্রয়ারি দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। একই দিন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জামিনসহ ৩টি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুটি পৃথক মাইক্রোবাসে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গতকাল সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম আদালতকে জানান, তাদের টিমের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম রাজশাহী থেকে আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ কারণে তিনি আদালত এক সপ্তাহ মুলতবি চান। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের তো আরও অনেক আইনজীবী আছেন। তখন তাজুল ইসলাম বলেন, মিজান সাহেবই জেরার কাজটা করেন প্রধানত এবং তিনিই সাক্ষীদের বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন। অন্যদের সেভাবে প্রস্তুতি নেই। তখন আদালত বলে, আমরা আপনাদের আবেদন বিবেচনা করে দেখব।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে জব্দ তালিকার একজন সাক্ষী হাজির করে। তিনি হলেন বাংলা একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত চিফ লাইব্রেরিয়ান মোবারক হোসেন। তদন্ত সংস্থা ১৯৭০, ৭১ ও ’৭২ সালের ছয়টি পত্রিকার ৭৪টি খবর বাংলা একাডেমী থেকে জব্দ করেছে। সেগুলো চিফ লাইব্রেরিয়ানের তত্ত্বাবধানেই রাখা হয়েছে।
২৫তম সাক্ষীর জবানবন্দি : আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ২৫তম সাক্ষীর জবানবন্দি দেন বাংলা একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান গ্রন্থাগারিক মো. মোবারক হোসেন। তার বয়স ৪৭ বছর। তিনি বাংলা একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান গ্রন্থাগারিক। তিনি বলেন, গত বছর মার্চ মাসের ২৮ ও ২৯ তারিখে যথাক্রমে ২৪, ১৬, ১২, ৯ ও ১৩টি আইটেমে মোট ৭৪টি রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তা জব্দ করেন। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার জব্দ করা ১৯৭০, ৭১ ও ’৭২ সালের বিভিন্ন পত্রিকার কপি আমার জিম্মায় রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে এগুলো যেকোনো সময় উপস্থাপন করা যাবে। পরে সাঈদীর আইনজীবী মঞ্জুর আহমেদ আনসারী সাক্ষীকে দুটি জেরা করেন। জেরায় পত্রিকার বস্তুনিষ্ঠতা সম্পর্কে প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষী বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। অপর প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, জব্দকৃত পত্রিকার সংবাদের শিরোনামে সাঈদীর নাম নেই।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে জানান, তাদের পরবর্তী সাক্ষী সাংবাদিক আবেদ খান। তিনি ব্যস্ততার কারণে আজ ও আগামীকালও আসতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার তিনি আসতে পারবেন। ফলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালত মুলতবি করা হয়।
মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ মার্চ : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আগামী ৫ মার্চ অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রধান ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক আদালতে বলেন, প্রসিকিউশনের দাখিল করা ডকুমেন্টের মধ্যে ৪১৬ পৃষ্ঠা অস্পষ্ট। এ কারণে তারা প্রস্তুতি নিতে পারেননি। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে আদেশ দেয় আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এই অস্পষ্ট ৪১৬ পৃষ্ঠার নতুন স্পষ্ট কপি এবং জব্দ তালিকা ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রসিকিউশন জমা দেবে। পরদিন আসামিপক্ষ ট্রাইব্যুনাল থেকে তা গ্রহণ করবে। আসামিপক্ষে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী শুনানি করেন।
এছাড়া আদালতে আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজোর আহমেদ আনছারী, অ্যাডভোকেট কপিল উদ্দিন, ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমীন, ব্যারিস্টার মুন্সী আহসান কবির, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট ফরিদউদ্দিন খান প্রমুখ। সরকারপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী, মোহাম্মদ আলী, একেএম সাইফুল ইসলাম ও মোকলেছুর রহমান বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ২২ ফেব্রুয়ারি : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেয়া হবে। একই দিন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জামিনসহ ৩টি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক শুনানিতে বলেন, সালাহউদ্দিন কাদেরকে বর্তমানে কাশিমপুর-২ কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আমরা দেখা করতে গেলে তিন ঘণ্টা বসিয়ে রেখেও আমাদের দেখা করতে দেয়া হয়নি। অথচ ট্রাইব্যুনালের অনুমতিক্রমেই আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, আসামি ট্রাইব্যুনালের হেফাজতে রয়েছেন। তার সব প্রয়োজন পূরণ করা ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। কিন্তু কাশিমপুর-২ কারাগারে আসামির সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। তাই তাকে এই কারাগার ছাড়া অন্য যেকোনো কারাগারে স্থানান্তর করা হোক। জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলে, আসামির সঙ্গে আইনজীবীদের সাক্ষাত্ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জেলকোড অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়টি প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলীকে দেখতে বলা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জেলকোড অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে তখন ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে আদেশ দেবে। আদালতে সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে অ্যাডভোকেট এএইচএম আহসানুল হক ও ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম এবং সরকারপক্ষে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম শুনানিতে অংশ নেন। আসামিপক্ষে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম। গতকাল আদেশের প্রায় দুই মিনিট আগে সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজের করা হয়। এসময় তাকে ক্লান্ত দেখা যাচ্ছিল।