Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ২ ফাল্গুন ১৪১৮, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের বিরূপ প্রভাব : লালমনিরহাটে ১২ নদী এখন ফসলি জমি ও খেলার মাঠ

হাসান-উল-আজিজ, লালমনিরহাট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ভারত নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারাজের বিরূপ প্রভাবে লালমনিরহাটের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তাসহ ছোট-বড় ১২টি নদী নাব্য হারিয়ে আবাদি জমি ও খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে । শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিয়েছে পানিশূন্যতা এবং বর্ষা মৌসুমে অকাল বন্যা। ফলে লালমনিরহাট ও তার আশপাশের জেলাগুলোতে কৃষি ব্যবস্থায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে । দ্রুত নদী সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া না হলে অচিরেই এ জনপদের লাখ লাখ মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়বে বলে পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঐতিহাসিকভাবে লালমনিরহাটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ জেলা তিস্তা নদীনির্ভর । এ নদীগুলোর অসংখ্য শাখা-প্রশাখা জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তিস্তা নদীর উজানে গজলডোবা নামক স্থানে ভারত একটি বাঁধ নির্মাণ করেছে। এর গেট রয়েছে মোট ৫৪টি। দৈর্ঘ্য ৯২১.৫৩ কিলোমিটার। এ বাঁধ নির্মাণের ফলে ভারতের ২ হাজার ৯১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মাধ্যমে ১ হাজার ৫শ’ কিউসেক পানি মহানন্দা নদীতে প্রবাহিত করছে। তিস্তা মহানন্দা খালের মাধ্যমে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং পশ্চিম দিনাজপুর, কোচবিহার ও মালদহ জেলায় সেচ সুবিধা দেয়া হচ্ছে । এর ফলে তিস্তা নদীর পানির হিস্যা পাওয়া যায় না । প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে এ সেচ প্রকল্পটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। বর্তমানে এ অঞ্চলের ভূগর্ভের পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে ফলে পানির সঙ্কটের কারণে তিস্তা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রমও অচল হয়ে পড়েছে। এ কারণে এ প্রকল্পের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেও লালমনিরহাট, রংপুর, দিনাজপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের সেচ-কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, ভারত একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণ করায় খরস্রোতা তিস্তা নদী শুকনো মৌসুমে ধু-ধু বালুচর আর বর্ষাকালে গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যায়। স্বাভাবিক সেচকার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিস্তা নদীতে ২০ হাজার কিউসেক পানির প্রযোজন। কিন্তু শুকনো মৌসুমে পানি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র তিন থেকে চারশ’ কিউসেক। ফলে ব্যারেজের ৪৪টি গেট বন্ধ রেখেও প্রকল্প এলাকায় পানি দিতে পারছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মাইনুদ্দিন মণ্ডল সাংবাদিকদের জানান, তিস্তাপারের কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পানি দেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে । এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। চরাঞ্চলের কৃষকের আশা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের মধ্যদিয়ে তিস্তার পানি সমস্যার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে। তারা শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি পাবে। কিন্তু অবশেষে পানিবণ্টন চুক্তি না হওয়ায় তারা চরমভাবে হতাশ হয়েছে। বর্তমানে তিস্তার বুকজুড়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য বালুচর। ফলে হারাচ্ছে নদীর গভীরতা। এর প্রভাব পড়ছে উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ ও কৃষি সেক্টরে। এমনকি অকার্যকর হয়ে পড়বে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ । এদিকে তিস্তা ব্যারাজ ও তার আশপাশের এলাকায় পলি অপসারণের জন্য ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না । প্রকৌশলী-ঠিকাদার যোগসাজশ করে সিংহভাগ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
এদিকে বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পানি চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সরকারের মধ্যে বারবার আলোচনা হয়েছে। এতে কোনো সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি অবশ্যই হবে এমন আশার বানিতে অপেক্ষায় ছিলেন তিস্তাপাড়বাসী। কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা না হওয়ায় অনেকটা অনিশ্চিতের মধ্যে ঝুলে আছে বহুল আলোচিত তিস্তার এ পানি চুক্তি।
তিস্তার পানি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে যে আশার আলো দেখা দিয়েছিল তা বাস্তবায়নে উভয় দেশ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এ দাবি তিস্তাপারের লাখ লাখ মানুয়ের।