Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০১২, ১৫ মাঘ ১৪১৮, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

খাদ্য অধিদফতর : ২৩ হাজার প্রার্থী ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে সারাদেশে খাদ্য বিভাগের সহকারী খাদ্য উপ-পরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সারাদেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফাঁস হওয়া দুটি সেটের মধ্যে শাপলা সেটের প্রশ্নপত্র দিয়েই এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, নীলক্ষেতের ফটোকপি দোকান, কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম জেলা থেকে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা
সংস্থা। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকাসহ খাদ্য বিভাগ ও মন্ত্রণালয়েরও জড়িত মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
প্রসঙ্গত, সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় প্রায় ২৩ হাজার প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।
এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ঘাপটি মেরেছে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার রাতেই ফাঁসের খবর সুনিশ্চিত হওয়ার পরও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। গতকাল সকালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেলেও গতকাল রাত পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের লোকজন দিয়েছে গা-ঢাকা।
ঢাবিতে ফাঁসের ঘটনায় আটক ২ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হল থেকে ‘শাপলা’ ও ‘গোলাপ’ এই দুটি সেটের প্রশ্নপত্রসহ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাতেনাতে দুইজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন তৌহিদুল ইসলাম ও ইসমত মেজবাহউদ্দিন। তাদের দাবি, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। তৌহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন আর ইসমত মেজবাহউদ্দিনের দাবি, তিনি ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে দর্শনের ছাত্র ছিলেন। আটকের সময় তারা দাবি করেছেন, প্রশ্নপত্রটি শুক্রবার অনুষ্ঠিত সহকারী উপ-খাদ্যপরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষার।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১টার দিকে জসীমউদ্দীন হলের দোতলায় ছাত্ররা দু’ব্যক্তিকে মুঠোফোনে প্রশ্নপত্র নিয়ে কথা বলতে শোনেন। এ সময় বিষয়টি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলীকে জানান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সন্দেহে শাপলা ও গোলাপ নামের দুটি প্রশ্নপত্র সেটের ফটোকপি উদ্ধার এবং উল্লিখিত ব্যক্তিদের আটক করেন। রাতেই তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। গতকাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এ বিষয়ে প্রক্টর আমজাদ আলী জানান, আটক দুই ছাত্রের কাছ থেকে পাওয়া প্রশ্নপত্রের দুটি সেটের মধ্যে শাপলাটি হুবুহু কমন পড়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুজনকে থানায় রেখে গেছে। খাদ্য বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত আটকদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন এএসআই নুরুল আমিন।
কুড়িগ্রাম : পরীক্ষায় ফাঁস হওয়ার ঘটনায় প্রশ্নপত্রসহ কুড়িগ্রামে আটজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল ভোরে জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা গ্রাম থেকে প্রশ্নপত্র ও ল্যাপটপসহ তাদের আটক করা হয়। আটক আটজন হলেন রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা গ্রামের আবদুল জলিল সরকার ও তার ছেলে মাহফুজার রহমান, চান্দামারী গ্রামের আবদুল হাই ঝুনু, কুড়িগ্রাম সদরের পুরাতন থানাপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন, বকসীপাড়ার মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষ্ণপুর পাইকপাড়া গ্রামের লুত্ফর রহমান লিটন, হলোখানা সন্ন্যাসী গ্রামের আসাদুজ্জামান ও লালমনিরহাট জেলা সদরের মনোরাম গ্রামের হাসান বসুনিয়া।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আটক প্রশ্নপত্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সরবরাহ করা প্রশ্নপত্রের অবিকল মিল পাওয়া গেছে। এজন্য জব্দ করা প্রশ্নপত্র সংযুক্ত করে উত্তরপত্র ঢাকায় পাঠানো হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নেবেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টা থেকে ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ৮ হাজার ৫৯৯ জন অংশ নেন। সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে কুড়িগ্রাম জেলার ৪ হাজার ৫৫৪ জন ও লালমনিরহাট জেলার ২ হাজার ৭৪৮ জন এবং অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কুড়িগ্রাম জেলার ৮২৮ জন ও লালমনিরহাট জেলার ৪৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ওসি জানান, ঢাকা থেকে ই-মেইলে পাঠানো প্রশ্ন আবদুল জলিল সরকারের বাড়িতে প্রিন্ট করার সময় ডিবি পুলিশের একটি দল ওই আটজনকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হবে।
এছাড়া ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, রংপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলাও প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা মিলেছে বলে অভিযোগ করেছে সাধারণ পরীক্ষার্থীরা। কুড়িগ্রাম কেন্দ্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, শাপলা সেটের মাধ্যমে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরীক্ষা বাতিল হয়নি, কর্তৃপক্ষের খবর নেই : প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মিললেও গতকাল রাত পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। এমনকি যাদের আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলাও করেনি মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর। প্রশ্ন ফাঁসের রাতেই ঘটনা মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর জানলেও পরীক্ষা স্থগিত করেনি কর্তৃপক্ষ; বরং মন্ত্রণালয় সচিবের বিরুদ্ধে দুর্ব্যহারের অভিযোগ উঠেছে। ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলীর অভিযোগ, তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাতেই যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে গতকাল সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরুণ মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় সচিব বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতা না করে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন প্রক্টর।
এ ব্যাপারে খাদ্যসচিব বরুণ মিত্রের বক্তব্য জানার জন্য সকালে বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাকে না পেয়ে খাদ্য বিভাগের মহাপরিচালক আহমেদ হোসেন খান এবং পরিচালক (প্রশাসন) এলাহী ডাড খানের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের পাওয়া যায়নি।
জড়িত থাকতে পারে খাদ্য বিভাগ, মন্ত্রণালয় ও ছাত্রলীগ : একাধিক সূত্রমতে, এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িত খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও ছাত্রলীগ। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা জড়িত থাকার কারণেই প্রশ্ন ফাঁসের পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি; বরং ঢাবি প্রক্টরের সঙ্গে দুর্ব্যহার করেছেন সচিব। অধিদফতরের কর্মকর্তারাও ঘাপটি মেরে আছেন। তবে ছাত্রলীগ যে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িত তার প্রমাণ মিলেছে। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, কবি জসীমউদ্দীন হলের ফাঁসকৃত প্রশ্ন মোটা অঙ্কে ছাত্রলীগই বিক্রি করেছে। এছাড়া সূর্যসেন, বঙ্গবন্ধু, মুহসীন, জহুরুল হক, এসএম হল, এফ রহমান, জিয়া, জগন্নাথ হলে ছাত্রলীগ প্রশ্ন বিক্রি করে। এছাড়া নীলক্ষেতের ফটোকপির দোকানেও প্রশ্ন বিক্রি হতে দেখেছেন অনেকেই।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?