Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০১২, ১৫ মাঘ ১৪১৮, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনেই সরকার বেশি উত্সাহী : আগামী সপ্তাহে আরও ৩টি বিদ্যুেকন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে

কাজী জেবেল
সরকারি খাতের চেয়ে বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দিয়ে একের পর এক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিচ্ছে সরকার। আগামী সপ্তাহে বেসরকারি খাতে আরও ৩টি জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকেও সরকার উচ্চমূল্যে বিদ্যুত্ কিনবে। ফলে বাড়বে ভর্তুকি। বাড়াতে হবে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম।
সরকার আগামী দেড় বছরে যে ২৯টি বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে, তার ২৩টিই বেসরকারি খাতের। বাকি ৬টি সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যুেকন্দ্র জ্বালানি তেলনির্ভর হওয়াতে উত্পাদন খরচ অনেক বেশি পড়বে। সরকারও উত্পাদনকারী কোম্পানির সঙ্গে বেশি দরে বিদ্যুত্ কেনার চুক্তি করছে। বেসরকারি এসব মালিকের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে বিদ্যুত্ কিনে কম দামে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করতে হবে। এতে আগামী দেড় বছরে সরকারকে বিদ্যুত্ খাতে ভর্তুকি দিতে হবে আরও প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এতে ভঙ্গুর অর্থনীতির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এএসএম আলমগীর কবির গতকাল আমার দেশকে বলেন, বিদ্যুত্ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বেসরকারি খাতে যেমন বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করছে, তেমনি সরকারি খাতেও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্কটের মধ্যে তেলভিত্তিক ৩ বিদ্যুেকন্দ্রের অনুমোদন : বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তেলভিত্তিক আরও তিনটি বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে কারিগরি বিষয়গুলো সম্পন্ন করে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ তিন বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহে এ তিনটি বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হতে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে রিজার্ভের পরিমাণ কমছে। গত ২৪ জানুয়ারি দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৯ দশমিক ২৭৫ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২৫ দিন আগে ২৯ ডিসেম্বর রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৬৩৪ ডলার। অর্থাত্ ২৫ দিনে রিজার্ভ কমেছে ৩৫৯ মিলিয়ন ডলার। এ অবস্থার মধ্যে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় মুন্সীগঞ্জের কমলাঘাট, মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ফোর্ডনগর ও নবাবগঞ্জের দৌলতপুর এলাকায় ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক তিনটি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিতে যাচ্ছে। ৫৫ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১৫ বছর মেয়াদি এ তিনটি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মিত হবে বিল্ড ওন অ্যান্ড অপারেট (বিওও) পদ্ধতিতে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের কমলাঘাট কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন পাচ্ছে কনসোর্টিয়াম অব সামুদা পাওয়ার, সামুদা কেমিক্যাল ও এএসএম কেমিক্যাল এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ফোর্ডনগর ও নবাবগঞ্জের দৌলতপুর বিদ্যুেকন্দ্র দুটি পাচ্ছে কনসোর্টিয়াম অব রূপালী ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স। সামুদা পাওয়ার ৭ টাকা ১৮ পয়সা এবং রূপালী ইঞ্জিনিয়ার্স ৬ টাকা ৯৮ পয়সা দরে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুত্ আরইবিকে সরবরাহ করবে। সূত্র আরও জানায়, এসব বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের জন্য গত ৩১ মার্চ দুটি জাতীয় দৈনিকে দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৭টি কোম্পানি দরপত্রে অংশ নেয়। মূল্যায়ন কমিটি ৫টি কোম্পানিকে রেসপনসিভ ঘোষণা করে। এসব কোম্পানির আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করে প্রত্যেকেই বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে সক্ষম বলে মত দেয়। এরপর কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হয়। গত ১৬ নভেম্বর তারা দর প্রস্তাব করে। এর মধ্যে সামুদা পাওয়ার ৭ দশমিক ১৭২১ টাকা দর প্রস্তাব করে। মূল্যায়ন কমিটি কনসোর্টিয়াম অব সামুদা পাওয়ার ও এএসএম কেমিক্যালের ৬ দশমিক ৯৮৯৮ টাকা দর প্রস্তাব গ্রহণের সুপারিশ করে। আরইবি চেয়ারম্যান এতে সম্মতি জানিয়ে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করতে বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে।
বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ছেই : বিদ্যুতের মতো স্পর্শকাতর খাতের ওপর সরকার ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত দেশের মোট বিদ্যুত্ উত্পাদনের সিংহভাগ ছিল সরকারি খাতে। পিডিবির কেন্দ্রগুলো থেকে ব্যয়সাশ্রয়ী উত্পাদনই অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত বিদ্যুত্ খাতকে শক্ত অবস্থানে রেখেছিল। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকারদলীয় লোকজনকে সুবিধা দেয়ার জন্য সরকারি খাতের উত্পাদন না বাড়িয়ে ব্যাপকভাবে ব্যয়বহুল তেলনির্ভর বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ দিতে থাকে। তার প্রভাবে সরকারের ভর্তুকি যেমন বাড়ছে, তেমনি গ্রাহক পর্যায়ে দফায় দফায় দাম বাড়াতে হচ্ছে। খোদ অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছে, আগামী তিন বছর বিদ্যুতের দাম বাড়তেই থাকবে।
সরকারি বিদ্যুেকন্দ্রের উত্পাদন খরচের চেয়ে কয়েক গুন দামে বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্র থেকে বিদ্যুত্ কিনতে হয়। তারপরও বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনেই সরকারের উত্সাহ বেশি। সরকারি হিসাবে আগামী দেড় বছরে সব মিলিয়ে পিডিবির (বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড) সম্ভাব্য লোকসান হবে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। আর বিপিসির (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) লোকসান হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এটা প্রাথমিক হিসাব। কিন্তু ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে। এ পতন অব্যাহত থাকলে এবং জ্বালানি তেলের মূল্য আরও বাড়ানো হলে বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণও বাড়বে। তবে ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হলে কিছুটা সমন্বয় করা যাবে বলে সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা। তবে তাদের আশঙ্কা, কোনো সরকারই মেয়াদের শেষ দিকে এসে তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর মতো অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। ফলে ভর্তুকির যে হিসাব করা হয়েছে, তা খুব বেশি একটা হেরফের হবে না। পিডিবি জানায়, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি অর্থবছরের শেষ ছয় মাসে পিডিবির লোকসানের পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। কারণ বিপিসির কাছ থেকে পিডিবি জ্বালানি তেল কিনে বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রের মালিকদের কাছে সরবরাহ করছে। কিন্তু নির্ধারিত দামেই বেসরকারি বিদ্যুত্ কিনতে হচ্ছে সরকারকে। সেখানে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এতে অর্থনীতিতে আরও নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?