খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাল বিএনপির গণমিছিল : আ.লীগের জনসভা
বাছির জামাল
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ নানা ইস্যুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদল ও সমমনা দলগুলো আগামীকাল যে গণমিছিল করবে, তাতে জনজোয়ার বইয়ে দেয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বেলা আড়াইটায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া গণমিছিলের নেতৃত্ব দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। একই দিন পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ‘বিএনপি-জামায়াত জোটের ষড়যন্ত্রে’র প্রতিবাদে দলটির ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে একই সময় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এই জনসভা হবে। এদিকে গণমিছিল নিয়ে বিষোদগারও করছেন আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা। আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, বহু সহ্য করেছি। আর ছাড় দেয়া হবে না। ওদিকে গণমিছিল শান্তিপূর্ণভাবে করতে পুলিশসহ প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেও তা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
দলটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুুহুল কবির রিজভী জানান, বৈঠক করার জন্য গত কয়েকদিন ধরে চেষ্টা করার পরও পুলিশের কর্তাব্যক্তিদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। গণমিছিলের প্রচারণা চালানোর সময় ঢাকার কয়েকটি স্পট থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগে গণমিছিল চলাকালে যেন কোনো অপ্রীতিকর
ঘটনা না ঘটে এবং শান্তিশৃৃঙ্খলা বজায় থাকে, তার ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয় বিএনপি।
গণমিছিলে ব্যাপক সমাগমের জন্য বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ চারদলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলগুলো প্রস্তুতি সভা করেছে। এসব সভায় রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সবাইকে গণমিছিলে ব্যাপক লোকসমাগম করার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের জন্য খালেদা জিয়ার ডাকে আগামী ২৯ জানুয়ারি গণমিছিলে সবাইকে অংশ নিতে হবে। এর মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি ঢাকাসহ সারাদেশে যে গণমিছিল হবে, তা শান্তিপূর্ণভাবে করতে সরকারের ‘সহযোগিতা’ চেয়ে বলেন, আমাদের গণমিছিল হবে শান্তিপূর্ণ। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছি। আমরা আশা করব, সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা দেবে। এ কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে হুশিয়ারিও দেন ফখরুল।
গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরে এ গণমিছিল কর্মসূচির ঘোষণা করেন চারদলীয় জোট নেতা খালেদা জিয়া। একই সমাবেশে তিনি আগামী ১২ মার্চ ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন।
গণমিছিলের রুট : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দুপুর আড়াইটায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার হয়ে বাংলামোটরের জোহরা মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হবে।
তিনি জানান, মিছিলের নিরাপত্তা ইস্যুতে মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দলের একটি প্রতিনিধি দল কয়েকদিন ধরে সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারের কাছ থেকে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এটা দুর্ভাগ্যজনক।
গণমিছিলের প্রচারে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা বাধার সৃষ্টি করছে বলেও বিএনপির এই নেতার অভিযোগ। তিনি জানান, পোস্টার লাগানোর সময় তেজগাঁও, আদাবর, সাতরাস্তার মোড় ও শাহবাগ থেকে বিএনপির পাঁচ কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।
গণমিছিলের দিন ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশ আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, এটা আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। তবে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে গণমিছিলকে ব্যাহত করা যাবে না।
যেসব ইস্যুতে গণমিছিল : নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি এবং পুঁজিবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, গুপ্ত হত্যা-গুম-খুন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে তিস্তাসহ সব অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ব্যর্থতা, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের তাণ্ডব, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ, সীমান্তে মানুষ হত্যায় সরকারের নির্লিপ্ততা, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টার প্রতিবাদ ছাড়াও অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যাংকে টাকার হাহাকার, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, আইনশৃঙ্খলার নিষ্ঠুর প্রয়োগে নাগরিক স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ, বিদ্যুত্-গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি, বিচার বিভাগসহ সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারের ব্যর্থতা, যুবসমাজে ভয়াবহ বেকারত্ব নিরসনের দাবিতে এই গণমিছিল হবে।
গণমিছিল ইন্টারনেটে প্রচার : দেশ-বিদেশে আগ্রহীদের দেখার জন্য গণমিছিলটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে জানান দলটির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি। তিনি জানান, বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের অন্য কর্মসূচির মতোই গণমিছিল কর্মসূচিটিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচার করা হবে। এটির ঠিকানা হচ্ছে : www.bnplive.com
চারদলীয় জোটের প্রস্তুতি বৈঠক : গণমিছিল সফল করতে সোমবার রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চারদলীয় ঐক্যজোট ও সমমনা দলের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে ২৯ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণমিছিল কর্মসূচি সফল করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। গণমিছিলের প্রস্তুতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন নেতারা।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, জামায়াতে ইসলামী কর্মপরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খন্দকার সিরাজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল কাদের, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জমিয়তে উলামা ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শোয়াইব আহমদ, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি খন্দকার গোলাম মূর্তজা, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল মবিন, ন্যাপ ভাসানী সভাপতি শেখ আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি প্রমুখ।
ঢাকা মহানগর বিএনপির যৌথসভা : বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২৯ জানুয়ারি যে গণমিছিল হবে, তা সফল করতে যৌথসভা করেছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনের ভাসানী মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা।
সভায় ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামসহ দলের থানা-ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
যুবদল : গণমিছিলকে সফল করতে প্রস্তুতি সভা করেছে যুবদল। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মজনু, উত্তর সভাপতি মামুন হাসান, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীরসহ রাজধানীর নিকটবর্তী ৭ জেলা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী ও শরিয়তপুরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বেচ্ছাসেবক দল : গণমিছিল সফল করতে গত বুধবার স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তুতি সভা হয়। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু সিনিয়র সহসভাপতি মুনির হোসেন, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলী রেজাউর রহমান রিপন, উত্তরের আহ্বায়ক ইয়াসিন আলুসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা। উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি হারুন-অর-রশীদ, মোখলেছুর রহমান আওরঙ্গ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদরাজ জামান, আনু মোহাম্মদ শামীম, আমিনুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিক হাওলাদার, প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন মুনির, দফতর সম্পাদক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, প্রকাশনা সম্পাদক কামরুজ্জামান বিপ্লব, সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, নুরুন্নবী সারোয়ার নুরুসহ কেন্দ্রীয়, মহানগরী ও ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার নেতারা।
গণমিছিল সফল করতে বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক আলী রেজাউর রহমান রিপন।
জামায়াতে ইসলামী : গণমিছিল সফল করতে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তুতি কমিটির এক বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা রফিউদ্দিন আহমাদ এবং উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য সেলিম উদ্দিন।
ইসলামী ঐক্যজোট : সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণমিছিল সফল করতে এক প্রস্তুতি সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে বৈঠকে বক্তৃতা করেন ঐক্যজোট মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ তৈয়্যেব, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ফয়জুল্লাহ, ইসলামিক পার্টি সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিন, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, খেলাফতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা ফজলুর রহমান।
এছাড়াও সংগঠনটির চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গণমিছিল সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ন্যাপ : সংগঠনটির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ২৯ জানুয়ারির গণমিছিলে সবাইকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান। গতকাল দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির এক যৌথসভায় এই আহ্বান জানান তিনি। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ গোলাম সারওয়ার খান, সুব্রত বারুরী, ব্যারিস্টার মশিউর রহমান গাণি, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মাস্টার, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, দফতর সম্পাদক মো. নুরুল আমান চৌধুরী টিটো, অর্থ সম্পাদক আহসান হাবিব খাজা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, নগর সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুন্নবী ডাবলু, সহসভাপতি মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ শেখ নাসির, বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রদল আহ্বায়ক এম এন শাওন সাদেকী, সদস্য সচিব অনিমেষ বারুরী, বাংলাদেশ মহিলা ন্যাপ যুগ্ম সমন্বয়কারী লিন্ডা আমিন, হামিদা খাতুন শেলী, আমিনা খাতুন মনি, বাংলাদেশ যুব ন্যাপ সমন্বয়কারী বাহাদুর শামিম আহমেদ পিন্টু, বাংলাদেশ কৃষক ন্যাপ সদস্য সচিব মল্লিক আবদুস সোবহান প্রমুখ।
পাল্টা জনসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ
আগামী ২৯ জানুয়ারি বিএনপির রাজধানীর গণমিছিলের পাল্টা কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ওই দিন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জনসভা করবে।
এদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশবিরোধী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে এমন অভিযোগ করে ক্ষমতাসীন দলের নগর আওয়ামী লীগের প্রতিবাদে রাজধানীতে দেড় মাসব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অবশ্য কিছুদিন আগে নগর আওয়ামী লীগ একই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করলে তা সফল হয়নি। ওই সময় তারা ঢাকার প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় জনসভার উদ্যোগ নিলে ঢাকা মহানগরীর ১৫টি নির্বাচনী এলাকার মাত্র ৩টিতে জনসভা হয়। এর মধ্যে দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঢাকা-৪ আসনের জনসভা পণ্ড হয়।
২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু এভিনিউ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় নতুন করে আবারও জনসভার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
২৯ জানুয়ারির বিএনপির গণমিছিলের কথা উল্লেখ করে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, চারদলীয় জোট ২৯ জানুয়ারির গণমিছিলে নিজেরাই আরেকটা ঝামেলা পাকাতে পারে। বহু সহ্য করেছি আর ছাড় দেয়া হবে না। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া হবে না।
দলটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুুহুল কবির রিজভী জানান, বৈঠক করার জন্য গত কয়েকদিন ধরে চেষ্টা করার পরও পুলিশের কর্তাব্যক্তিদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। গণমিছিলের প্রচারণা চালানোর সময় ঢাকার কয়েকটি স্পট থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগে গণমিছিল চলাকালে যেন কোনো অপ্রীতিকর
ঘটনা না ঘটে এবং শান্তিশৃৃঙ্খলা বজায় থাকে, তার ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয় বিএনপি।
গণমিছিলে ব্যাপক সমাগমের জন্য বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ চারদলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলগুলো প্রস্তুতি সভা করেছে। এসব সভায় রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সবাইকে গণমিছিলে ব্যাপক লোকসমাগম করার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের জন্য খালেদা জিয়ার ডাকে আগামী ২৯ জানুয়ারি গণমিছিলে সবাইকে অংশ নিতে হবে। এর মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি ঢাকাসহ সারাদেশে যে গণমিছিল হবে, তা শান্তিপূর্ণভাবে করতে সরকারের ‘সহযোগিতা’ চেয়ে বলেন, আমাদের গণমিছিল হবে শান্তিপূর্ণ। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছি। আমরা আশা করব, সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা দেবে। এ কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে হুশিয়ারিও দেন ফখরুল।
গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরে এ গণমিছিল কর্মসূচির ঘোষণা করেন চারদলীয় জোট নেতা খালেদা জিয়া। একই সমাবেশে তিনি আগামী ১২ মার্চ ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন।
গণমিছিলের রুট : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দুপুর আড়াইটায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার হয়ে বাংলামোটরের জোহরা মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হবে।
তিনি জানান, মিছিলের নিরাপত্তা ইস্যুতে মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দলের একটি প্রতিনিধি দল কয়েকদিন ধরে সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারের কাছ থেকে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এটা দুর্ভাগ্যজনক।
গণমিছিলের প্রচারে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা বাধার সৃষ্টি করছে বলেও বিএনপির এই নেতার অভিযোগ। তিনি জানান, পোস্টার লাগানোর সময় তেজগাঁও, আদাবর, সাতরাস্তার মোড় ও শাহবাগ থেকে বিএনপির পাঁচ কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।
গণমিছিলের দিন ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশ আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, এটা আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। তবে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে গণমিছিলকে ব্যাহত করা যাবে না।
যেসব ইস্যুতে গণমিছিল : নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি এবং পুঁজিবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, গুপ্ত হত্যা-গুম-খুন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে তিস্তাসহ সব অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ব্যর্থতা, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের তাণ্ডব, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ, সীমান্তে মানুষ হত্যায় সরকারের নির্লিপ্ততা, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টার প্রতিবাদ ছাড়াও অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যাংকে টাকার হাহাকার, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, আইনশৃঙ্খলার নিষ্ঠুর প্রয়োগে নাগরিক স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ, বিদ্যুত্-গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি, বিচার বিভাগসহ সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারের ব্যর্থতা, যুবসমাজে ভয়াবহ বেকারত্ব নিরসনের দাবিতে এই গণমিছিল হবে।
গণমিছিল ইন্টারনেটে প্রচার : দেশ-বিদেশে আগ্রহীদের দেখার জন্য গণমিছিলটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে জানান দলটির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি। তিনি জানান, বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের অন্য কর্মসূচির মতোই গণমিছিল কর্মসূচিটিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচার করা হবে। এটির ঠিকানা হচ্ছে : www.bnplive.com
চারদলীয় জোটের প্রস্তুতি বৈঠক : গণমিছিল সফল করতে সোমবার রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চারদলীয় ঐক্যজোট ও সমমনা দলের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে ২৯ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণমিছিল কর্মসূচি সফল করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। গণমিছিলের প্রস্তুতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন নেতারা।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, জামায়াতে ইসলামী কর্মপরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খন্দকার সিরাজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল কাদের, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জমিয়তে উলামা ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শোয়াইব আহমদ, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি খন্দকার গোলাম মূর্তজা, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল মবিন, ন্যাপ ভাসানী সভাপতি শেখ আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি প্রমুখ।
ঢাকা মহানগর বিএনপির যৌথসভা : বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২৯ জানুয়ারি যে গণমিছিল হবে, তা সফল করতে যৌথসভা করেছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনের ভাসানী মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা।
সভায় ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামসহ দলের থানা-ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
যুবদল : গণমিছিলকে সফল করতে প্রস্তুতি সভা করেছে যুবদল। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মজনু, উত্তর সভাপতি মামুন হাসান, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীরসহ রাজধানীর নিকটবর্তী ৭ জেলা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী ও শরিয়তপুরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বেচ্ছাসেবক দল : গণমিছিল সফল করতে গত বুধবার স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তুতি সভা হয়। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু সিনিয়র সহসভাপতি মুনির হোসেন, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলী রেজাউর রহমান রিপন, উত্তরের আহ্বায়ক ইয়াসিন আলুসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা। উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি হারুন-অর-রশীদ, মোখলেছুর রহমান আওরঙ্গ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদরাজ জামান, আনু মোহাম্মদ শামীম, আমিনুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিক হাওলাদার, প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন মুনির, দফতর সম্পাদক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, প্রকাশনা সম্পাদক কামরুজ্জামান বিপ্লব, সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, নুরুন্নবী সারোয়ার নুরুসহ কেন্দ্রীয়, মহানগরী ও ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার নেতারা।
গণমিছিল সফল করতে বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক আলী রেজাউর রহমান রিপন।
জামায়াতে ইসলামী : গণমিছিল সফল করতে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তুতি কমিটির এক বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা রফিউদ্দিন আহমাদ এবং উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য সেলিম উদ্দিন।
ইসলামী ঐক্যজোট : সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণমিছিল সফল করতে এক প্রস্তুতি সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে বৈঠকে বক্তৃতা করেন ঐক্যজোট মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ তৈয়্যেব, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ফয়জুল্লাহ, ইসলামিক পার্টি সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিন, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, খেলাফতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা ফজলুর রহমান।
এছাড়াও সংগঠনটির চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গণমিছিল সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ন্যাপ : সংগঠনটির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ২৯ জানুয়ারির গণমিছিলে সবাইকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান। গতকাল দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির এক যৌথসভায় এই আহ্বান জানান তিনি। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ গোলাম সারওয়ার খান, সুব্রত বারুরী, ব্যারিস্টার মশিউর রহমান গাণি, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মাস্টার, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, দফতর সম্পাদক মো. নুরুল আমান চৌধুরী টিটো, অর্থ সম্পাদক আহসান হাবিব খাজা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, নগর সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুন্নবী ডাবলু, সহসভাপতি মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ শেখ নাসির, বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রদল আহ্বায়ক এম এন শাওন সাদেকী, সদস্য সচিব অনিমেষ বারুরী, বাংলাদেশ মহিলা ন্যাপ যুগ্ম সমন্বয়কারী লিন্ডা আমিন, হামিদা খাতুন শেলী, আমিনা খাতুন মনি, বাংলাদেশ যুব ন্যাপ সমন্বয়কারী বাহাদুর শামিম আহমেদ পিন্টু, বাংলাদেশ কৃষক ন্যাপ সদস্য সচিব মল্লিক আবদুস সোবহান প্রমুখ।
পাল্টা জনসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ
আগামী ২৯ জানুয়ারি বিএনপির রাজধানীর গণমিছিলের পাল্টা কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ওই দিন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জনসভা করবে।
এদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশবিরোধী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে এমন অভিযোগ করে ক্ষমতাসীন দলের নগর আওয়ামী লীগের প্রতিবাদে রাজধানীতে দেড় মাসব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অবশ্য কিছুদিন আগে নগর আওয়ামী লীগ একই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করলে তা সফল হয়নি। ওই সময় তারা ঢাকার প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় জনসভার উদ্যোগ নিলে ঢাকা মহানগরীর ১৫টি নির্বাচনী এলাকার মাত্র ৩টিতে জনসভা হয়। এর মধ্যে দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঢাকা-৪ আসনের জনসভা পণ্ড হয়।
২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু এভিনিউ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় নতুন করে আবারও জনসভার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
২৯ জানুয়ারির বিএনপির গণমিছিলের কথা উল্লেখ করে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, চারদলীয় জোট ২৯ জানুয়ারির গণমিছিলে নিজেরাই আরেকটা ঝামেলা পাকাতে পারে। বহু সহ্য করেছি আর ছাড় দেয়া হবে না। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া হবে না।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া



