গোলাপগঞ্জে স্ত্রী হত্যা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফরিদপুরে গণধর্ষণ : ঠাকুরগাঁওয়ের শিশুকে ঢাকায় নির্যাতন
ডেস্ক রিপোর্ট
গোপালগঞ্জে নির্যাতন করে স্ত্রীকে হত্যা করেছে স্বামী। সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্ট শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার। সেনবাগে ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা। ফরিদপুরে গৃহবধূ ও কিশোরী গণধর্ষিত। শ্রীবরদীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার। ঠাকুর-গাঁওয়ের শিশু ঢাকায় গৃহ-পরিচারিকার কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
গোপালগঞ্জে গৃহবধূ হত্যা : গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন চাঁদনী বেগম (১৯) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে। সদর উপজেলার কাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চাঁদনীর স্বামী মুকুল মোল্লাকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা গ্রামের ইউনুস শেখের মেয়ে চাঁদনীকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মোসলেম মোল্লার সৌদি প্রবাসী ছেলে মুকুল মোল্লা ৩ মাস আগে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন অজুহাতে ওই গৃহবধূকে
মারপিট করত। ২৩ জানুয়ারি মারপিটের পর ওই গৃহবধূকে প্রথম গোপালগঞ্জ ফরিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে তাকে খুলনা আড়াইশ’ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সে সেখানে মারা যায়। গতকাল গোপালগঞ্জ আড়াইশ’ বেড জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মাজহারুল হক বলেন, ওই গৃহবধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে স্বামীর পরিবারের লোকজনের অত্যাচার নির্যাতনেই সে নিহত হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জে গণধর্ষণ : সিদ্ধিরগঞ্জ (না.গঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ইপিক গার্মেন্টের এক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি নৌকার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় রাতেই মামলা করেন। পুলিশ নৌকার মাঝি ধর্ষক রফিক ও তার সহযোগী সাত্তারকে গ্রেফতার করেছে। অপর ধর্ষক সেলিম পলাতক রয়েছে। ধর্ষিতা জানায়, গার্মেন্ট ছুটি শেষে সন্ধ্যায় সে তার বন্দরের বাড়িতে ফিরছিলেন। শীতলক্ষ্যা নদী পার হওয়ার জন্য রফিকের নৌকায় ওঠেন ওই নারী শ্রমিক। এ সময় রফিকের সহযোগী সেলিম ও সাত্তারও ওই নৌকায় ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্ধকারের মধ্যে রফিক সেলিম ও সাত্তার ওই নারী শ্রমিককে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনা ধর্ষিতা থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতেই দুজনকে গ্রেফতার করে। ধর্ষক রফিকের বাবার নাম আক্কাস আলী ও সাত্তারের বাবার নাম মোসলেম মিয়া। পলাতক অপর ধর্ষক সেলিমের বাবার নাম জানা যায়নি। তাদের সবার বাড়ি বন্দরের ১নং ঢাকেশ্বরী এলাকায়।
সেনবাগে ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা : সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীর সেনবাগের ছাতারপাইয়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসীরা এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে অটোরিকশাতে হামলা চালায়। এ সময় অটোরিকশা উল্টে ওই স্কুলছাত্রীসহ কমপক্ষে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে স্কুলছাত্রীর মা সেতারা বেগম ও ফারজানা সুলতানাকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সময় এলাকাবাসী মো. জামালউদ্দিন নামের এক সন্ত্রাসীকে ছাতারপাইয়া বাজারে হাতেনাতে আটক করে থানা পুলিশে হস্তান্তর করেন।
ফরিদপুরে গৃহবধূ ও কিশোরী গণধর্ষণ : ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরে এক গৃহবধূ ও এক কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনায় আসামি গ্রেফতার নিয়ে ডিবি পুলিশের লুকোচুরির ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। গণধর্ষণের ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশ ৩ যুবককে গ্রেফতার করলেও তাদের একটি সাজানো ছিনতাই মামলায় আসামি দেখানোর চেষ্টা করছে। ডিবি বলছে, তারা গণধর্ষণের ঘটনা শোনেননি। গত বৃহস্পতিবার সকালে শহরতলির ধলারমোড় এলাকায় ওই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
শ্রীবরদীতে চেয়ারম্যান গ্রেফতার : শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান, ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতারের জেরে শ্রীবরদীতে ক্রমেই ঘটনা ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। ওই ইউপি চেয়ারম্যানের মুক্তির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মিছিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে এসআই রুহুল আমিন, কনস্টেবল ফকরুল, ডিএজবি কনস্টেবল মুনছর আলী, ছাত্রলীগ নেতা রিপন, পথচারী নিলু মিয়া, আছমা খাতুন, মর্জিনা খাতুনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আটক হয়েছে একজন ইউপি সদস্যসহ ৩ জন। এ নিয়ে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে। এ মামলায় কয়েকজন ইউপি সদস্যসহ অর্ধশতাধিক লোককে আসামি করা হয়েছে। পৌর শহরের বড় পোড়াগাড় ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাত থেকেই গ্রেফতারকৃত ইউপি আবু শামা কবির সমর্থক ও তার এলাকার ৫০০-৬০০ পরিবারের পুরুষ গ্রেফতারের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। পুলিশি অভিযান জোরালো না হলেও এলাকায় বিরাজ করছে পুলিশি আতঙ্ক।
ঠাকুরগাঁওয়ের গৃহপরিচারিকা নির্যাতন : ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁও শহরের পূর্বগোয়ালপাড়া মহল্লার এক রিকশা চালকের শিশু মেয়ে ঢাকায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্ত্রীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনা জানাজানি হলে গৃহকর্ত্রী সপরিবারে গা ঢাকা দেয়, পুলিশ ঢাকার বাসা থেকে গৃহকর্তাকে গ্রেফতার করেছে। পরিবারের লোকজন জানায়, রিকশাচালক বাবুলের শিশু মেয়ে শোভা আক্তারকে ১১ মাস আগে একই মহল্লার বাসিন্দা ব্যাংকার সোহাবুর রহমান (ছালাম) ঢাকায় মানিকনগরে কাজের জন্য তার বাসার নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটি দিয়ে বাসার সবরকম কাজে ব্যবহার করছিল। এর মধ্যে রাতে ঘুমের ঘোরে বিছানায় প্রস্রাব করায় গৃহকর্ত্রী শিশুটির ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু করে। মারপিটসহ রান্নাকাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান পুড়িয়ে এবং মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এতে শিশুটির গায়ে ফোস্কা পড়ে। এ অবস্থায় রাতে শিশুটিকে বিছানায় ঘুমাতে না দিয়ে বাথরুমে আটকে রাখা হতো। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় শিশুটি এসব কথা কারও কাছে বলতে সাহস পায়নি।
গৃহকর্ত্রী পলি আক্তার তার বোনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শিশুটিকে নিয়ে বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে তার বাবার বাসায় আসে। খবর পেয়ে শিশু শোভার মা পারভিন মেয়েকে সন্ধ্যায় তার বাসায় নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে তার মেয়ের শরীরের আগুনে পোড়া অংশ ও আঘাতের আলামত দেখে এর কারণ জানতে চায়। ভয়ে শিশুটি কিছু বলতে না চাইলেও পরে তার ওপর গৃহকর্ত্রীর অকথ্য নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা শুনে এলাকাবাসী আবেগাপ্লুত হয়ে সংবাদকর্মীদের খবর দেয়। সংবাদকর্মীরা ঘটনাটি সদর থানায় জানালে পুলিশ শিশুসহ তার বাবাকে থানায় নিয়ে এলে পুলিশ সুপার শাহ আলম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে গৃহকর্তা তার স্ত্রীকে নিয়ে গা ঢাকা দেয়। সদর থানা এসআই জাহাঙ্গীর জানান পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে ঢাকায় থানায় একটি মামলা হয়েছে ।
গোপালগঞ্জে গৃহবধূ হত্যা : গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন চাঁদনী বেগম (১৯) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে। সদর উপজেলার কাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চাঁদনীর স্বামী মুকুল মোল্লাকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা গ্রামের ইউনুস শেখের মেয়ে চাঁদনীকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মোসলেম মোল্লার সৌদি প্রবাসী ছেলে মুকুল মোল্লা ৩ মাস আগে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন অজুহাতে ওই গৃহবধূকে
মারপিট করত। ২৩ জানুয়ারি মারপিটের পর ওই গৃহবধূকে প্রথম গোপালগঞ্জ ফরিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে তাকে খুলনা আড়াইশ’ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সে সেখানে মারা যায়। গতকাল গোপালগঞ্জ আড়াইশ’ বেড জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মাজহারুল হক বলেন, ওই গৃহবধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে স্বামীর পরিবারের লোকজনের অত্যাচার নির্যাতনেই সে নিহত হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জে গণধর্ষণ : সিদ্ধিরগঞ্জ (না.গঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ইপিক গার্মেন্টের এক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি নৌকার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় রাতেই মামলা করেন। পুলিশ নৌকার মাঝি ধর্ষক রফিক ও তার সহযোগী সাত্তারকে গ্রেফতার করেছে। অপর ধর্ষক সেলিম পলাতক রয়েছে। ধর্ষিতা জানায়, গার্মেন্ট ছুটি শেষে সন্ধ্যায় সে তার বন্দরের বাড়িতে ফিরছিলেন। শীতলক্ষ্যা নদী পার হওয়ার জন্য রফিকের নৌকায় ওঠেন ওই নারী শ্রমিক। এ সময় রফিকের সহযোগী সেলিম ও সাত্তারও ওই নৌকায় ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্ধকারের মধ্যে রফিক সেলিম ও সাত্তার ওই নারী শ্রমিককে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনা ধর্ষিতা থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতেই দুজনকে গ্রেফতার করে। ধর্ষক রফিকের বাবার নাম আক্কাস আলী ও সাত্তারের বাবার নাম মোসলেম মিয়া। পলাতক অপর ধর্ষক সেলিমের বাবার নাম জানা যায়নি। তাদের সবার বাড়ি বন্দরের ১নং ঢাকেশ্বরী এলাকায়।
সেনবাগে ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা : সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীর সেনবাগের ছাতারপাইয়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসীরা এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে অটোরিকশাতে হামলা চালায়। এ সময় অটোরিকশা উল্টে ওই স্কুলছাত্রীসহ কমপক্ষে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে স্কুলছাত্রীর মা সেতারা বেগম ও ফারজানা সুলতানাকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সময় এলাকাবাসী মো. জামালউদ্দিন নামের এক সন্ত্রাসীকে ছাতারপাইয়া বাজারে হাতেনাতে আটক করে থানা পুলিশে হস্তান্তর করেন।
ফরিদপুরে গৃহবধূ ও কিশোরী গণধর্ষণ : ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরে এক গৃহবধূ ও এক কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনায় আসামি গ্রেফতার নিয়ে ডিবি পুলিশের লুকোচুরির ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। গণধর্ষণের ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশ ৩ যুবককে গ্রেফতার করলেও তাদের একটি সাজানো ছিনতাই মামলায় আসামি দেখানোর চেষ্টা করছে। ডিবি বলছে, তারা গণধর্ষণের ঘটনা শোনেননি। গত বৃহস্পতিবার সকালে শহরতলির ধলারমোড় এলাকায় ওই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
শ্রীবরদীতে চেয়ারম্যান গ্রেফতার : শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান, ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতারের জেরে শ্রীবরদীতে ক্রমেই ঘটনা ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। ওই ইউপি চেয়ারম্যানের মুক্তির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মিছিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে এসআই রুহুল আমিন, কনস্টেবল ফকরুল, ডিএজবি কনস্টেবল মুনছর আলী, ছাত্রলীগ নেতা রিপন, পথচারী নিলু মিয়া, আছমা খাতুন, মর্জিনা খাতুনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আটক হয়েছে একজন ইউপি সদস্যসহ ৩ জন। এ নিয়ে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে। এ মামলায় কয়েকজন ইউপি সদস্যসহ অর্ধশতাধিক লোককে আসামি করা হয়েছে। পৌর শহরের বড় পোড়াগাড় ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাত থেকেই গ্রেফতারকৃত ইউপি আবু শামা কবির সমর্থক ও তার এলাকার ৫০০-৬০০ পরিবারের পুরুষ গ্রেফতারের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। পুলিশি অভিযান জোরালো না হলেও এলাকায় বিরাজ করছে পুলিশি আতঙ্ক।
ঠাকুরগাঁওয়ের গৃহপরিচারিকা নির্যাতন : ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁও শহরের পূর্বগোয়ালপাড়া মহল্লার এক রিকশা চালকের শিশু মেয়ে ঢাকায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্ত্রীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনা জানাজানি হলে গৃহকর্ত্রী সপরিবারে গা ঢাকা দেয়, পুলিশ ঢাকার বাসা থেকে গৃহকর্তাকে গ্রেফতার করেছে। পরিবারের লোকজন জানায়, রিকশাচালক বাবুলের শিশু মেয়ে শোভা আক্তারকে ১১ মাস আগে একই মহল্লার বাসিন্দা ব্যাংকার সোহাবুর রহমান (ছালাম) ঢাকায় মানিকনগরে কাজের জন্য তার বাসার নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটি দিয়ে বাসার সবরকম কাজে ব্যবহার করছিল। এর মধ্যে রাতে ঘুমের ঘোরে বিছানায় প্রস্রাব করায় গৃহকর্ত্রী শিশুটির ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু করে। মারপিটসহ রান্নাকাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান পুড়িয়ে এবং মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এতে শিশুটির গায়ে ফোস্কা পড়ে। এ অবস্থায় রাতে শিশুটিকে বিছানায় ঘুমাতে না দিয়ে বাথরুমে আটকে রাখা হতো। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় শিশুটি এসব কথা কারও কাছে বলতে সাহস পায়নি।
গৃহকর্ত্রী পলি আক্তার তার বোনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শিশুটিকে নিয়ে বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে তার বাবার বাসায় আসে। খবর পেয়ে শিশু শোভার মা পারভিন মেয়েকে সন্ধ্যায় তার বাসায় নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে তার মেয়ের শরীরের আগুনে পোড়া অংশ ও আঘাতের আলামত দেখে এর কারণ জানতে চায়। ভয়ে শিশুটি কিছু বলতে না চাইলেও পরে তার ওপর গৃহকর্ত্রীর অকথ্য নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা শুনে এলাকাবাসী আবেগাপ্লুত হয়ে সংবাদকর্মীদের খবর দেয়। সংবাদকর্মীরা ঘটনাটি সদর থানায় জানালে পুলিশ শিশুসহ তার বাবাকে থানায় নিয়ে এলে পুলিশ সুপার শাহ আলম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে গৃহকর্তা তার স্ত্রীকে নিয়ে গা ঢাকা দেয়। সদর থানা এসআই জাহাঙ্গীর জানান পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে ঢাকায় থানায় একটি মামলা হয়েছে ।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া



