Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০১২, ১৫ মাঘ ১৪১৮, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া : নতুন মুদ্রানীতিতে কমবে বিনিয়োগ ও উত্পাদন : বাড়বে বেকারত্ব

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
চলতি অর্থবছরের শেষ ৬ মাসের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত নতুন কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, এ মুদ্রানীতি কিছু ধারণার ওপর ভিত্তি করে নেয়া হয়েছে যা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে গোটা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বাস্তবমুখী রাজস্বনীতির পাশাপাশি সরকারের আন্তরিকতা। এ মুদ্রানীতির ফলে ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবাহ কমে গিয়ে বিনিয়োগ ও উত্পাদনও কমতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। আর এর ফলে বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থবছরের ৬ মাসের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে ব্যক্তিখাতে ঋণপ্রবাহ কমানোর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এতেকরে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সামান্য কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি জাতীয় উত্পাদন প্রবৃদ্ধি সামান্য কমে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মুদ্রানীতিতে নতুনত্ব কিছু নেই। পুরনো সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। এর ধারাবাহিকতায় নতুন মুদ্রানীতিও মূল্যস্ফীতি কমাতে ব্যর্থ হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, মুদ্রানীতির সঙ্গে সরকারের রাজস্বনীতির সামঞ্জস্য থাকতে হবে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও উত্পাদন কমছে। নতুন মুদ্রানীতিতে প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা অতি আশাবাদী।
সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। এর ফলে প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য। এ অবস্থায় সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করা যায় না। ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণের মাত্রা কমানো কঠিন হবে বলেও মনে করেন ড. আকবর আলি খান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক
গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নতুন কিছুই নেই। কতগুলো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে পুরনো পথেই হাঁটছে সরকার। এ মুদ্রানীতির কারণে ব্যক্তিখাতে ঋণপ্রবাহ কমে গিয়ে বিনিয়োগ কমে যাবে। ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। ঋণপ্রবাহ কমিয়ে সামষ্টিক চাহিদা কমাতে পারলেও মুদ্রানীতির মাধ্যমে সামগ্রিক চাহিদা বাড়ানোর কোনো উপায় নেই।
তিনি বলেন, শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ কখনই সম্ভব নয়। এ বাস্তবায়ন অনেক ‘যদি’র সঙ্গে নির্ভরশীল। এর মধ্যে সরকারি ঋণ একটি। সরকার যদি ঋণ নিতে চায় তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক না করতে পারবে না। এ অবস্থায় মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন সরকারের দায়িত্ব। তিনি গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ ও উত্পাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড় বাড়ানো ও এডিপি বাস্তবায়নে জোর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রধান ড. মাহবুবুল্লাহ বলেন, যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করে এ মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে সরকারের ঋণ ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবে সরকারি ঋণ এত বেশি পরিমাণে কমানো সম্ভব হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, গত দেড় বছর ধরেই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হচ্ছে। নতুন এ মুদ্রানীতি এরই ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, মুদ্রানীতি দিয়ে গত দেড় বছর ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি, আগামীতেও সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি আমাদের দেশে মুদ্রাজনিত সমস্যা থেকে সৃষ্টি হয় না। বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি চাহিদা ও জোগানের পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে দেশের মূল্যস্ফীতি তো কমবেই না বরং অর্থনীতির বিভিন্ন সম্ভাবনা নষ্ট হবে।
তার মতে, গত দেড় বছর ধরেই দেশে সুদের হার অনেক বেশি। চড়া সুদের কারণে দেশে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় কমে যাচ্ছে উত্পাদন ও প্রবৃদ্ধি।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনুত্পাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যকে সামনে রেখে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ কমে আসায় জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। তবে শুধু মুদ্রানীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রাকে মুদ্রানীতির ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত করেন ড. মোস্তাফিজ। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ চালু রাখতে সরকারি ঋণ অবশ্যই কমাতে হবে। তবে সরকারের বিশাল বাজেট ঘাটতি কমানোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজস্ব আয় বাড়ানো, অনুত্পাদনশীল খাতে ব্যয় কমানো এমনকি প্রয়োজনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অপ্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ঘাটতি পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ড. মোস্তাফিজ বলেন, সরকারের রাজস্বনীতি, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সক্ষমতা, বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণের অর্থছাড়সহ অনেক কিছুর ওপর মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন নির্ভরশীল। তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায় বেশি হলে বাজেট ঘাটতি কম হবে।
নতুন মুদ্রানীতিতে দেশের মুদ্রাব্যবস্থায় তারল্য সঙ্কটের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী। এর ফলে সুদের হার বেড়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানে উত্পাদন ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশে উদ্যোক্তারা আরও পিছিয়ে পড়লে কলকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
ইএবি সভাপতি বলেন, এমনিতেই বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা দেশ-বিদেশে নানাভাবে ঝুঁকির সম্মুখীন রয়েছেন। ২০ শতাংশ সুদে নতুন কোনো উদ্যোক্তা কলকারখানা স্থাপনের সাহস দেখাতে পারবে না। পুরনো উদ্যোক্তারা তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান চালিয়ে গেলেও লাভের মুখ দেখতে পারছেন না। মন্দার কারণে বিশ্ববাজারে রফতানি আদেশের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। অন্যদিকে গ্যাস, বিদ্যুত্সহ অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুত্ ও তেলসহ সবরকমের জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উত্পাদন খরচ আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?