Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০১২, ১৫ মাঘ ১৪১৮, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

তৃতীয় জোট গঠনের ডাক সিপিবির

স্টাফ রিপোর্টার
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক স্বৈরাচারী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে যে দ্বিদলীয় ধারার সৃষ্টি হয়েছে এর বিপরীতে তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। এই লক্ষ্যে এরই মধ্যে সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন দেশের প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলের নেতারা। এরই ধারবাহিকতায় গতকাল বিকালে রাজধানীর মত্স্য ভবনের সামনের সড়কে সিপিবির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সমাবেশ। এই সমাবেশ থেকে দলটির নেতারা আবারও দেশের গরিব-দুঃখী মেহনতি মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে বাম গণতান্ত্রিক এবং দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সিপিবি অনেক দিন ধরেই তৃতীয় রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সমাবেশ সেই প্রচেষ্টাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করেন দলটির নেতারা। নব্বইয়ের গণআলোন্দানের পর দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ধারার বিপরীতে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, বাসদ (খালেকুজ্জামান), বাসদ (মাহবুব), গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, গণআজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল ১১ দলীয় জোট। এই ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ওই সময় এই জোট বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে ‘এতিম সমিতি’ নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। গত সাধারণ নির্বাচনের আগে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, গণআজাদী লীগ এবং কমিউনিস্ট কেন্দ্র জোটের মৌলিক নীতি অগ্রাহ্য করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে। অর্থাত্ তারা দল দ্বিদলীয় ধারাকেই আরও শক্তিশালী করে। এ কারণে সিপিবি, শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল, বাসদ (খালেকুজ্জামান) এবং বাসদ (মাহবুব) এগারোদলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে এখন সিপিবি’র উদ্যোগে নতুন করে যে রাজনৈতিক জোটের গঠনের কথা বলা হচ্ছে তার ভবিষত্ নিয়েও এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গতকালে সমাবেশে সিপিবি নেতারা তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে জনজীবনের সীমাহীন নানা সঙ্কটের চিত্র তুলে ধরেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর ১১ দফা দাবিতে এই জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পার্টির কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক লাল পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমাবেশে যোগদান করেন। গত প্রায় একদশকে কোনো বাম সংগঠনের উদ্যোগে এত বড় সমাবেশ হয়নি। সমাবেশ শেষে লাল পতাকার মিছিল শাহবাগ-নিউমার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি সভাপতি মনজুরুল আহসান খান। প্রধান বক্তা ছিলেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদূল ইসলাম সেলিম। আরও বক্তব্য রাখেন প্রবীণ বাম নেতা জসিম উদ্দিন মন্ডল, পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সহিদুল্লাহ চৌধুরী, হায়দার আকবর খান রনো, শামছুজ্জামান সেলিম, সাজ্জাদ জহির চন্দন, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব লাভলু, যুব নেতা কাফি রতন এবং ছাত্রনেতা ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স। এর আগে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবি লাল পতাকা মহাসমাবেশ করেছিল। উল্লেখ্য, সিপিবি সম্প্রতি তাদের প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পালন করেছে। তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নও ৬০ বছরপূর্তি পালন করতে যাচ্ছে।
সিপিবির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেছে, তৃতীয় রাজনৈতিক জোটে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনর্গঠিত) কমিউনিস্ট লীগ, জাতীয় গণফ্রণ্ট, বাসদ (মাহবুব), গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি (সালাম) থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সমাবেশে ঘোষিত সিপিবির আশু ও জরুরি ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো, পাঁচ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ। গ্যাস, বিদ্যুত্, পানি, যানজট, জলাবদ্ধতা, পরিবেশ বিপর্যয় ইত্যাদি সমস্যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা। গ্যাস-বিদ্যুত্-পানির দামবৃদ্ধি বন্ধ করা। ঘুষ-দুর্নীতি, বেপরোয়া চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, নদী-খাল-জলাশয় ভরাট ও দখল, তদবির বাণিজ্য, সন্ত্রাস, ছিনতাই, যৌন নির্যাতন, গুম-খুন, ক্রসফায়ার, দমন-পীড়ন বন্ধ করা। গৃহায়ন, আবাসন, পরিবহন ও যাতায়াত, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য-চিকিত্সা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধনিক-তোষণ নীতির আমূল পরিবর্তন করে গণমুখী নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। সমুদ্রবক্ষে তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে রফতানির সুযোগ রেখে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে, স্থলভাগে অথবা সমুদ্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাপেক্সে’র মাধ্যমে দ্রুত গ্যাস-তেল উত্তোলনের ব্যবস্থা করা। গ্যাস, তেল, প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদের রফতানি নিষিদ্ধ করে সংসদে আইন পাস করা। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার সহযোগীদের আধিপত্য ও চক্রান্ত প্রতিরোধ করা। সব গোপন চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ এবং জাতীয় সংসদে পেশ করা। ট্রানজিট, তিস্তার পানিবণ্টন, অভিন্ন নদী শাসনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি সমঝোতার প্রশ্নে বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষা ও পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সীমান্তে বিএসএফের হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেয়া।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?