আইএইএ’র পরিদর্শকদের সহায়তা করুন : ইউকিয়া আমানো : পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত ইরান : আহমাদিনেজাদ
এএফপি, বিবিসি
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, তার দেশের ওপর চাপ জোরদারের জন্যই পাশ্চাত্য তেহরানের বিরুদ্ধে পরমাণু আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রচার করছে। তিনি আজ দক্ষিণ ইরানের কেরমান প্রদেশে কয়েকটি শিল্প ও উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন। ইরান আলোচনাকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগকে সত্যের অপলাপ হিসেবে তুলে ধরে আহমাদিনেজাদ বলেছেন, বরং ছয় বৃহত্ শক্তিই সব সময় আলোচনার পথে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। ইরান আলোচনার ব্যাপারে সব সময়ই যৌক্তিক অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আহমাদিনেজাদ বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে বৃহত্ শক্তিগুলোর সঙ্গে পরমাণু বিষয়ে আলোচনায় বসতে ইরান সব সময়ই প্রস্তুত ছিল এবং এখনও প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশকে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের জন্য ইরানবিদ্বেষী নীতি অব্যাহত রেখে তাদের কোনো লাভ হবে না, বরং এ পথে ইরানি জাতির অঙ্গীকার আরো দৃঢ় হবে। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়ায় ইউরোপীয় জোটের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বৃহত্ শক্তিগুলো গত ত্রিশ বছর ধরেই ইরানের অগ্রগতিতে আতঙ্কিত। কারণ, তারা জানে এর ফলে ইরানের ইসলামী বিপ্লব ও দেশটি বিশ্ববাসীর জন্য আদর্শ বা মডেলে পরিণত হবে। ইরানের তেল শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না—এটা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বিদায়ী বছরের এপ্রিল মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তেহরানের তেলবহির্ভূত রফতানি আয় ছিল তিন হাজার দুইশ’ কোটি ডলার এবং আগামী দুই মাসে তা চার হাজার ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। আর তেলের আয়ের সঙ্গে এসব আয় যুক্ত হলে তা ১৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, মার্কিন সরকার গত ত্রিশ বছর ধরে ইরানের তেল কিনছে না, আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো সম্পর্ক নেই। আহমাদিনেজাদ বলেন, ইউরোপের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যের হার ৯০ শতাংশ থেকে কমে এখন দশ শতাংশে নেমে এসেছে। আমরা এখন এই দশভাগ বাণিজ্যিক সম্পর্কও ইউরোপের সঙ্গে রাখতে চাই না। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেছেন, পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের সেম্লাগান দিয়ে ও প্রচারণা চালিয়ে আপনাদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আর এ অঞ্চলের দেশগুলোর স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রধান শত্রু দখলদার ইসরাইল, মার্কিন সরকার ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা। এদিকে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার প্রধান (আইএইএ) ইউকিয়া আমানো তেহরানগামী সংস্থার পরিদর্শকদের সহায়তা করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ইরানের সশস্ত্রবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের ডেপুটি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ জাযায়েরি বলেছেন, ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ওই নিষেধাজ্ঞায় কোনো কাজ হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের পুঁজিবাদী দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে অবরোধ আরোপের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, ইরানকে তাদের অন্যায় দাবি-দাওয়া মেনে নিতে বাধ্য করাই তাদের উদ্দেশ্য। শত্রুরা ইরানি জাতিকে সঠিকভাবে চিনতে পারেনি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মাসুদ জাযায়েরি পাশ্চাত্যের সিদ্ধান্তের মোকাবিলায় পাল্টা পদক্ষেপ প্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে তেল রফতানি বন্ধ করে দিতে হবে। মাসুদ জাযায়েরি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো ইরানের সঙ্গে শত্রুতা করে চলেছে। কাজেই তাদের ব্যাপারে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
আলজেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ইউসুফ ইউসেফি বলেছেন, ইউরোপে ইরানের তেল রফতানি বন্ধ হওয়ার পর তেল উত্পাদন বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তেল রফতানি বিষয়ে দেশটির আগের কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলে তিনি জানান। তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের হিসাব অনুযায়ী, আলজেরিয়া বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল তেল উত্পাদন করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বর্তমানে ইরানের তেলের বিকল্প উত্স অনুসন্ধান করছে। গত ২৩ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেন। আগামী পহেলা জুলাই থেকে ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওই সিদ্ধান্তের পর ইরান নিজে থেকেই ইউরোপে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, তেহরান যদি তেল বিক্রি করতে না পরে তাহলে কেউই পারবে না। ইরানের তেলখাতের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবরোধকে তিনি ব্যর্থ বলে উল্লেখ করে আরও বলেন, ইরান এমন কোনো পরিস্থিতি মেনে নেবে না, যেখানে তেহরান তেল বিক্রি করতে পারবে না অথচ অন্যরা পারবে। আলী আকবর বেলায়েতি বলেন, ইরানের তেলখাতের ওপর অবরোধ আরোপের কারণে ইউরোপ নিজেও লাভবান হবে না। তিনি বলেন, ইউরোপের নীতিনির্ধারকরা একথা বিবেচনায়ই নিচ্ছেন না যে, ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করা হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কি পরিমাণ বেড়ে যাবে। এমনকি এ অবরোধ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বাণিজ্যের চিত্রই পাল্টে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলজেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ইউসুফ ইউসেফি বলেছেন, ইউরোপে ইরানের তেল রফতানি বন্ধ হওয়ার পর তেল উত্পাদন বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তেল রফতানি বিষয়ে দেশটির আগের কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলে তিনি জানান। তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের হিসাব অনুযায়ী, আলজেরিয়া বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল তেল উত্পাদন করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বর্তমানে ইরানের তেলের বিকল্প উত্স অনুসন্ধান করছে। গত ২৩ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেন। আগামী পহেলা জুলাই থেকে ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওই সিদ্ধান্তের পর ইরান নিজে থেকেই ইউরোপে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, তেহরান যদি তেল বিক্রি করতে না পরে তাহলে কেউই পারবে না। ইরানের তেলখাতের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবরোধকে তিনি ব্যর্থ বলে উল্লেখ করে আরও বলেন, ইরান এমন কোনো পরিস্থিতি মেনে নেবে না, যেখানে তেহরান তেল বিক্রি করতে পারবে না অথচ অন্যরা পারবে। আলী আকবর বেলায়েতি বলেন, ইরানের তেলখাতের ওপর অবরোধ আরোপের কারণে ইউরোপ নিজেও লাভবান হবে না। তিনি বলেন, ইউরোপের নীতিনির্ধারকরা একথা বিবেচনায়ই নিচ্ছেন না যে, ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করা হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কি পরিমাণ বেড়ে যাবে। এমনকি এ অবরোধ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বাণিজ্যের চিত্রই পাল্টে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
-
সাত মহাদেশ


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া



