Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০১২, ১৫ মাঘ ১৪১৮, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ১৬ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি কেইপিজেড

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম
সরকারের উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ ১৬ বছরেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি কোরিয়ান রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড)। এতে প্রতি বছর আড়াই বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাষ্ট্র। সেইসঙ্গে সাড়ে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ আটকে রয়েছে। এখনও জমি ইজারার দলিল চূড়ান্ত করেনি সরকার পক্ষ। সর্বশেষ কেইপিজেড এলাকায় পাহাড় মোচন নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে পরিবেশ অধিদফতর ও কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ। এতে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। পরিবেশ অধিদফতর বলছে সরকারি নির্দেশ না মেনেই পাহাড় কাটা চলছে। আর কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের দাবি সরকার-নির্ধারিত সব নিয়ম মেনেই পাহাড় মোচন করা হচ্ছে। ১৯৯৫ সালে ইপিজেড স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও কোরিয়ান সরকারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর এক বছরের মাথায় কোরিয়ান রফতানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান ইয়ংওয়ান বাংলাদেশে কেইপিজেড নামে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করে। এরপর থেকেই চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে আনোয়ারায় ২ হাজার ৪০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে সরকার। যার ৯০ শতাংশ জমিই ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড় ও টিলায় সমৃদ্ধ। ১৯৯৯ সালে ইয়ংওয়ানকে এই ভূমি হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু চুক্তির ১৬ বছর ও ভূমি বরাদ্দের ১৩ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি দেশের অন্যতম বৃহত্তর এই প্রকল্পটি। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সংরক্ষিত বিশাল এলাকার মধ্যে কেবল ইয়াংওয়ানের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী সু ইন্ডাস্ট্রিজ (কেএসআই) নামের একটি জুতার কারখানা ছাড়া আর কোনো কারখানা গড়ে ওঠেনি। এই কারখানার ওপরে আরও কিছু নতুন কারখানা নির্মাণের জন্য পাহাড় কেটে ভূমি সমতল করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে গত সপ্তাহে পাহাড় কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পরিবেশ অধিদফতর। এতে কেইপিজেডের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার প্রক্রিয়া আবারও ঝুলে গেল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জমি বরাদ্দের সময় সরকার কেইপিজেডকে বেশকিছু শর্ত নির্ধারণ করে দেয়। এসব শর্তের মধ্যে অন্যতম, বরাদ্দ পাওয়া জমির অন্তত ৩০ শতাংশ বনাঞ্চল রাখতে হবে। সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ জমির ওপর অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ২০ থেকে ৮০ ফুট ওপরে কারখানা ও স্থাপনা নির্মাণ করাসহ পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেয় সরকার। কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি সব নিয়মনীতি মেনেই ভূমি ডেভেলপ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, বরাদ্দ নেয়া জমির অধিকাংশ পাহাড় নয়। এগুলো ছোটবড় টিলা ও বালুর ঢিবি। উঁচুনিচু টিলাগুলো সমান করে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২ ফুট, ৭০ ফুট ও ১০০ ফুট উচ্চতায় তিন স্তরে কারখানার অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ৫০ ভাগেরও কম জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি জমির পুরোটাই সবুজ বনাঞ্চল করা হয়েছে। কারখানার মাঝে মাঝেও সবুজ বেষ্টনী তৈরির পরিকল্পনা আছে। সংরক্ষিত এলাকার মধ্যেই কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে ১৭টি লেক, যেখানে ৩৮০ মিলিয়ন গ্যালন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এখানে বন্যপ্রাণী ও পাখির অভয়ারণ্য করা হয়েছে। পরিবেশ সংক্রান্ত সব নিয়ম মেনেই শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান মোহাম্মদ শাহজাহান।
কেইপিজেডের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির জানান, শুরু থেকেই নানা জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। ১৯৯৯ সালে জমি হস্তান্তরের পর ২০০৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় লাইসেন্স পেতে। এখনও ইয়ংওয়ানের কাছে ইজারা সংক্রান্ত দলিল হস্তান্তর করেনি সরকার। বিদেশি অনেক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এখানে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী। কিন্তু সরকার জমির ইজারা চুক্তি সম্পন্ন না করায় তাদের প্লট দেয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ পরিবেশ অধিদফতরের বাধায় আবারও প্রকল্প ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা করেন তিনি। তিনি আরও জানান, কেইপিজেড চালু না হওয়ায় বছরে অন্তত আড়াই বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের সুযোগ হারাচ্ছে বাংলাদেশ। হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড়যুগ ধরে এভাবে ঝুলিয়ে রাখা শিল্প খাত ও দেশের ভাবমূর্তির জন্য শুভ নয় বলে উলেল্গখ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির। পাহাড় কাটার অভিযোগে কেইপিজেডে অভিযান পরিচালনাকারী পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং) মুনির চৌধুরী জানান, কোনো শিল্পায়ন বা নগরায়নের জন্য প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পাহাড় কোনোভাবেই কাটা যাবে না। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রে পাহাড় মোচন করতে বলা হয়েছে কিন্তু কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ সরাসরি পাহাড় কাটছে। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বিশাল পাহাড়ি এলাকায় কোনোভাবেই এ ধরনের ইপিজেড স্থাপনের অনুমোদনের বিষয়টি সঠিক হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?