Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০১২, ১৫ মাঘ ১৪১৮, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

চুয়াডাঙ্গায় রজনীগন্ধার চাষ বাড়ছে : বাতাসে বারুদের গন্ধের পাশাপাশি ফুলের সুবাস

ডালিম হোসেন, চুয়াডাঙ্গা
দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার একটি বদনাম রয়েছে, তা হলো, ‘চুয়াডাঙ্গার মাটি সন্ত্রাসী-চরমপন্থী উত্পাদনের জন্য উর্বর ভূমি।’ কয়েক বছর আগেও চুয়াডাঙ্গার নাম শুনলে অন্যান্য জেলার সাধারণ মানুষ আঁতকে উঠত। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গার সেই বদনাম ঘুচতে যাচ্ছে এখন। চুয়াডাঙ্গার সন্ত্রাসী-চরমপন্থী উত্পাদনের সেই উর্বর ভূমিতেই ফুল চাষ করে প্রমাণ করেছি, চুয়াডাঙ্গার বাতাসে শুধু বারুদের গন্ধই নেই, ফুলের সুবাসও আছে। চুয়াডাঙ্গার ফুল চাষ নিয়ে আলাপকালে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভিমরুল্লা গ্রামের ফুলচাষী জিনারুল ইসলাম। একসময় সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গার মানুষও শখ করে ফুলের বাগান করতেন বাড়ির আঙিনায়। বাড়ির শোভাবর্ধনই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এখন দিন বদলেছে। বদলেছে মানুষের মনের চাহিদাও। চুয়াডাঙ্গা জেলাতে বর্তমানে ফুল চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় জেলায় প্রতি বছর বাড়ছে রজনীগন্ধা, গোলাপ ও গাঁদাসহ নানা প্রজাতির ফুল চাষ। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফুল ব্যবসায়ী শাহীন জানান, স্থানীয় এনজিও থেকে মাত্র ৩ হাজার টাকা নিয়ে ফুল চাষ শুরু করেছিলাম। এখন আমার নিজের ১০ বিঘাসহ লিজ নেয়া আরও ৮ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করছি। আমার ক্ষেতের ফুল চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকি। হাটকালুগঞ্জ গ্রামের ফুলচাষী জহুরুল ইসলাম বলেন, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে রজনীগন্ধার চাষ করেছি। তিনি জানান, রজনীগন্ধা ফুলের একটি ক্ষেত তৈরির পর দুই বছর পর্যন্ত খুব ভালোভাবে ওই ক্ষেত থেকে ফুল বিক্রি করা যায়। বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১৮-২০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমি থেকে ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্তও লাভ হয়ে থাকে। ঢাকার বাজারে পাইকারি একটি রজনীগন্ধার স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৬ টাকায় পর্যন্ত। এমন দামে বিক্রি হলে কোনোক্রমেই লোকসান হওয়ার কথা নয়। চুয়াডাঙ্গার হাটকালুগঞ্জ ও ভিমরুলা গ্রামে গেলে দেখা যাবে মাঠজুড়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে রজনীগন্ধা ফুল। সিঅ্যান্ডবি পাড়ার রজনীগন্ধা চাষী ওমর আলী ও আবদুর রাজ্জাক রাজা জানান, এক বিঘা জমিতে ২০০ থেকে ৫০০টি পর্যন্ত ফুল পাওয়া যায়। দু’জনই বলেন, এ বছর উত্পাদন কম হলেও দাম বেশ ভালো। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, এ বছর জেলায় ৮৮ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধার চাষ করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও জেলার রজনীগন্ধা চাষীরা লাভবান হচ্ছেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?