Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২৪ ভাদ্র ১৪১৭, ২৮ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ সংখ্যা
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি : মন্ত্রী আবুল হোসেন ও শাজাহান খানের বিরুদ্ধে এমপি মুজিবের অভিযোগ

সংসদ রিপোর্টার
যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান। সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বৈধতা প্রদানের পক্ষে মত না দেয়া এবং স্থায়ী কমিটির সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলায় দুই মন্ত্রী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।
গতকাল দুপুরে সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন অভিযোগ এনে ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর বলেন, সড়ক-পরিবহন খাতে চাঁদা আদায়ে বৈধতা দেয়ার সঙ্গে আমি জড়িত না। এ বিষয়ে তাকে জড়িয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের বিরোধিতা করে তিনি দাবি করেন, সব সময়ই আমি চাঁদা আদায়ের বিরোধিতা করেছি। আমি কারও ওপর কোনো চাপ দেইনি। যোগাযোগমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমি ওই সভায় যাই। সভার এজেন্ডাও আমার জানা ছিল না। সভায় গিয়ে দেখি যোগাযোগমন্ত্রী ছাড়াও সেখানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান উপস্থিত আছেন।
তিনি বলেন, সভায় প্রায় সবাই সড়ক পরিবহন খাতে মালিক ও শ্রমিক সমিতির নামে চাঁদাবাজির বৈধতা দেয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বক্তব্য দেন। সবশেষে আমাকে বলার সুযোগ দেয়া হলে আমি এ চাঁদার আয়-ব্যয় হিসাব সম্পর্কে জানতে চাই। এতে প্রায় সবাই আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তবে আমি চাঁদাবাজির বিপক্ষে অনড় থেকে তাদের জানিয়েছি, সংসদীয় কমিটির সদস্যদের মতামত ছাড়া সভাপতি হিসেবে আমি এককভাবে কোনো কিছু সমর্থন জানাতে পারি না। অবশ্য পরে ওই অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য যোগাযোগমন্ত্রী নিজেই দুঃখ প্রকাশ করেন। সভার রেজুলেশনে চাঁদাবাজির বৈধতা প্রদানে বিরোধিতার কথা উল্লেখ থাকবে বলেও তিনি জানান।
চাঁদা আদায়ে যোগাযোগমন্ত্রীকে চাপ দেয়া প্রসঙ্গে মুজিবুর রহমান বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। এর জন্য যোগাযোগ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী দায়ী। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি শাজাহান খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার কারণেই তারা এ ষড়যন্ত্র করেছেন। তিনি জানান, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির আগামী বৈঠকে সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদা আদায় বৈধতা দেয়ার এ বিষয়টি নিয়ে তারা বিস্তারিত আলোচনা করবেন। কমিটির সদস্যদের মতামত নিয়েই এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এক অনির্ধারিত সভায় সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেয়া হয়। ওই সভায় বাস টার্মিনাল থেকে শ্রমিক ইউনিয়ন ও ফেডারেশনের মাধ্যমে বাসপ্রতি ৭০ টাকা চাঁদা আদায় করার সিদ্ধান্ত হয়। সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুজিবুর রহমান এবং শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের চাপে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এ চাঁদা নির্ধারণে বাধ্য হয়েছেন বলে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সোমবারের ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাস, মিনিবাস ও আন্তঃজেলা পরিবহনের গাড়ি থেকে চাঁদার পরিমাণ হচ্ছে মালিক সমিতি ৪০, শ্রমিক ইউনিয়ন ২০, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ১০ টাকা, মোট ৭০ টাকা। জেলা পর্যায়ে মালিক সমিতি ৫০ টাকা। এছাড়া আন্তঃজেলা গাড়ি থেকে শুধু জংশনস্থলে (জেলা সদর বা বৃহত্তর বন্দর) মালিক সমিতি ২০ ও শ্রমিক ইউনিয়ন ২০ টাকা চাঁদা আদায় করবে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?