বিমানে ৬ পাইলট নিয়োগ ৪ জনই কর্মকর্তার আত্মীয় : এমডির সুপারিশে ২ জনকে নিয়োগ
কাদের গনি চৌধুরী
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলট নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিমান কর্মকর্তাদের ছেলেমেয়ে-বোনসহ নিকটাত্মীয় ৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সম্প্রতি। বিমান কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ের কাছে কর্মকর্তাদের ৪ আত্মীয়কে চাকরি দেয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে কোনো অনিয়মের কথা তারা এখনও স্বীকার করেনি।
বাংলাদেশ বিমানের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলট নিয়োগের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল—একজন পাইলটকে কম করে হলেও ২০০
ঘণ্টা ফ্লাই করতে হবে। অথচ এই শর্ত ভেঙে দেড়শ’ থেকে ১৬০ ঘণ্টা যারা ফ্লাই করেছেন, তাদের আবেদনও গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষা দেয়ার জন্য মোট ৭০ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে বাছাই করে ৪১ জনকে লিখিত পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় যে ৬ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়, তাদেরকেই পরে চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ পাইলট হলেন : শারহান আলী, মোবাশ্বির রিয়াসাত, সুমেইলা সিদ্দিকা হোসেন, জাহিদ হোসেন, ফারিযেল বিলকিস আহমেদ ও ইউসুফ মাহমুদ।
সূত্র জানায়, নিয়োগ পাওয়া পাইলটদের ৪ জন বিমান কর্মকর্তাদের নিকটাত্মীয় এবং দু’জনের চাকরি হয়েছে এমডির সুপারিশে। এদের মধ্যে পাইলট শারহান আলী বিমানে কর্মরত ক্যাপ্টেন শোয়েব আলীর (পি-৩১১৩৬) ছেলে। সুমেইলা সিদ্দিকা হোসেন বিমান ফ্লাইট সার্ভিসে কর্মরত চিফ পার্সার সালমা আক্তার হোসেনের মেয়ে। জাহিদ হোসেন বিমানের সাবেক ক্যাপ্টেন মাহমুদ হোসেনের ছেলে। ফারিযেল বিলকিস আহমেদ বিমানে কর্মরত ক্যাপ্টেন আরিফ নোমান আহমেদের ছোট বোন। এছাড়া বিমানের এমডির সুপারিশে আরও দু’জনকে নিয়োগ দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা হলেন মোবাশ্বির রিয়াসাত ও ইউসুফ মাহমুদ।
বিমানের একটি সূত্র জানায়, পরীক্ষায় অনিয়ম ধরা পড়ে পরীক্ষার হলেই। বিমান কর্মকর্তা বাবা এবং চাচা মিলে এক পরীক্ষার্থীকে বেশি নম্বর দিয়ে তার নিয়োগ চূড়ান্ত করেন বলে অভিযোগ আছে। এরপর আরও যে ৫ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাদের কারও বাবা, মামা এবং বোনজামাই বিমানের বড় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য পাইলটরা ভালো পরীক্ষা দিয়েও নিয়োগ না পাওয়ার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে তাদের কোনো আত্মীয়স্বজন বিমানের বড় কর্মকর্তা নেই। অনেকে বিদেশে উড়োজাহাজ চালনা শিখে এসে ঢাকায় ফ্লাইং ক্লাবের মেম্বার হয়ে অনেক ঘণ্টা করে ফ্লাই করেছেন। কেউ কেউ বেসরকারি এয়ারলাইন্সে অনেকদিন ধরে ফ্লাইট চালাচ্ছেন।
বিমানের পদস্থ এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, দীর্ঘ ৬ বছর পর বিমানে পাইলট নিয়োগ করা হলো। এখানে এমন প্রার্থীও ছিলেন যাদের এবারই পরীক্ষা দেয়ার শেষ সুযোগ ছিল। অথচ যাদের নেয়া হয়েছে, তারা আরও বেশ কয়েকবার পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেতেন। সূত্র জানায়, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ১২টি উড়োজাহাজ চালানোর জন্য পাইলট রয়েছেন মাত্র ১১৯ জন। অথচ দরকার ২১৬ জন পাইলট। আরও ৯৬ জন পাইলট নিয়োগ না দিলে বাইরে থেকে বেশি টাকায় পাইলট আনতে হবে। বেশ কয়েকজন পাইলটকে বাইরে থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার বেতন দিয়ে আনা হয়েছে। অথচ দেশি পাইলটদের বেতন ৪ থেকে ৬ হাজার ডলার দেয়া হচ্ছে। এই বিশাল অঙ্কের টাকায় দেশি পাইলট নিয়োগ দিলে বিমানের ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমে যেত। বাইরে থেকে পাইলট এনে বিমানকে বিশাল অঙ্কের বেতন-ভাতা গুনতে হবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, পাইলট নিয়োগে অনিয়মের খবর পাওয়ার পর মন্ত্রী বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন যুগ্ম সচিবকে দায়িত্ব দেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনিয়ম করে কর্মকর্তাদের নিকটাত্মীয়কে চাকরি দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চান। জবাবে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখানে ব্যক্তিইচ্ছার প্রতিফলন বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ ছিল না। বিমানের এ বক্তব্যে তদন্ত কমিটি সন্তুষ্ট হতে না পেরে পুনরায় চিঠি দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত বৈমানিকদের মধ্যে আদৌ কোনো আত্মীয় রয়েছেন কিনা, থাকলে কে কার আত্মীয়—তা জরুরি ভিত্তিতে জানানোর জন্য অনুরোধ জানায়। এ চিঠির জবাবে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ বৈমানিকের মধ্যে ৪ জন বিমানের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়।
বাংলাদেশ বিমানের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলট নিয়োগের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল—একজন পাইলটকে কম করে হলেও ২০০
ঘণ্টা ফ্লাই করতে হবে। অথচ এই শর্ত ভেঙে দেড়শ’ থেকে ১৬০ ঘণ্টা যারা ফ্লাই করেছেন, তাদের আবেদনও গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষা দেয়ার জন্য মোট ৭০ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে বাছাই করে ৪১ জনকে লিখিত পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় যে ৬ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়, তাদেরকেই পরে চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ পাইলট হলেন : শারহান আলী, মোবাশ্বির রিয়াসাত, সুমেইলা সিদ্দিকা হোসেন, জাহিদ হোসেন, ফারিযেল বিলকিস আহমেদ ও ইউসুফ মাহমুদ।
সূত্র জানায়, নিয়োগ পাওয়া পাইলটদের ৪ জন বিমান কর্মকর্তাদের নিকটাত্মীয় এবং দু’জনের চাকরি হয়েছে এমডির সুপারিশে। এদের মধ্যে পাইলট শারহান আলী বিমানে কর্মরত ক্যাপ্টেন শোয়েব আলীর (পি-৩১১৩৬) ছেলে। সুমেইলা সিদ্দিকা হোসেন বিমান ফ্লাইট সার্ভিসে কর্মরত চিফ পার্সার সালমা আক্তার হোসেনের মেয়ে। জাহিদ হোসেন বিমানের সাবেক ক্যাপ্টেন মাহমুদ হোসেনের ছেলে। ফারিযেল বিলকিস আহমেদ বিমানে কর্মরত ক্যাপ্টেন আরিফ নোমান আহমেদের ছোট বোন। এছাড়া বিমানের এমডির সুপারিশে আরও দু’জনকে নিয়োগ দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা হলেন মোবাশ্বির রিয়াসাত ও ইউসুফ মাহমুদ।
বিমানের একটি সূত্র জানায়, পরীক্ষায় অনিয়ম ধরা পড়ে পরীক্ষার হলেই। বিমান কর্মকর্তা বাবা এবং চাচা মিলে এক পরীক্ষার্থীকে বেশি নম্বর দিয়ে তার নিয়োগ চূড়ান্ত করেন বলে অভিযোগ আছে। এরপর আরও যে ৫ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাদের কারও বাবা, মামা এবং বোনজামাই বিমানের বড় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য পাইলটরা ভালো পরীক্ষা দিয়েও নিয়োগ না পাওয়ার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে তাদের কোনো আত্মীয়স্বজন বিমানের বড় কর্মকর্তা নেই। অনেকে বিদেশে উড়োজাহাজ চালনা শিখে এসে ঢাকায় ফ্লাইং ক্লাবের মেম্বার হয়ে অনেক ঘণ্টা করে ফ্লাই করেছেন। কেউ কেউ বেসরকারি এয়ারলাইন্সে অনেকদিন ধরে ফ্লাইট চালাচ্ছেন।
বিমানের পদস্থ এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, দীর্ঘ ৬ বছর পর বিমানে পাইলট নিয়োগ করা হলো। এখানে এমন প্রার্থীও ছিলেন যাদের এবারই পরীক্ষা দেয়ার শেষ সুযোগ ছিল। অথচ যাদের নেয়া হয়েছে, তারা আরও বেশ কয়েকবার পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেতেন। সূত্র জানায়, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ১২টি উড়োজাহাজ চালানোর জন্য পাইলট রয়েছেন মাত্র ১১৯ জন। অথচ দরকার ২১৬ জন পাইলট। আরও ৯৬ জন পাইলট নিয়োগ না দিলে বাইরে থেকে বেশি টাকায় পাইলট আনতে হবে। বেশ কয়েকজন পাইলটকে বাইরে থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার বেতন দিয়ে আনা হয়েছে। অথচ দেশি পাইলটদের বেতন ৪ থেকে ৬ হাজার ডলার দেয়া হচ্ছে। এই বিশাল অঙ্কের টাকায় দেশি পাইলট নিয়োগ দিলে বিমানের ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমে যেত। বাইরে থেকে পাইলট এনে বিমানকে বিশাল অঙ্কের বেতন-ভাতা গুনতে হবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, পাইলট নিয়োগে অনিয়মের খবর পাওয়ার পর মন্ত্রী বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন যুগ্ম সচিবকে দায়িত্ব দেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনিয়ম করে কর্মকর্তাদের নিকটাত্মীয়কে চাকরি দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চান। জবাবে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখানে ব্যক্তিইচ্ছার প্রতিফলন বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ ছিল না। বিমানের এ বক্তব্যে তদন্ত কমিটি সন্তুষ্ট হতে না পেরে পুনরায় চিঠি দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত বৈমানিকদের মধ্যে আদৌ কোনো আত্মীয় রয়েছেন কিনা, থাকলে কে কার আত্মীয়—তা জরুরি ভিত্তিতে জানানোর জন্য অনুরোধ জানায়। এ চিঠির জবাবে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ বৈমানিকের মধ্যে ৪ জন বিমানের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


