Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২৪ ভাদ্র ১৪১৭, ২৮ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ সংখ্যা
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

অর্থনীতি এখন ঈদকেন্দ্রিক : ঈদের বাজারে ৫০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন

সাইফ ইসলাম দিলাল
দেশের অর্থনীতি এখন ঈদকেন্দ্রিক। অর্থনীতির সবকিছু আবর্তিত হচ্ছে ঈদবাজারকে কেন্দ্র করে। গত বছরের চেয়ে এবার আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদ উপলক্ষে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। জামা-কাপড়সহ ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, এবার ঈদ উপলক্ষে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হবে। দোকানপাট থেকে শুরু করে ব্যাংক, শিল্প-কারখানার সব প্রস্তুতিই ছিল ঈদকে কেন্দ্র করে।
দোকান মালিক সমিতির হিসাবমতে, গোটা দেশে ছোট-বড় মিলে দোকান রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। এর মধ্যে বড় দোকানের সংখ্যা ২০ লাখ। আর এই ২০ লাখ দোকানেই ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা জমজমাট। এর সঙ্গে ফুটপাতসহ ঈদ উপলক্ষে আরও প্রায় ৫ লাখের বেশি ছোট ছোট দোকান বসে। এসব দোকানে রমজানের শুরু থেকেই জমজমাট কেনাকাটা শুরু হয় যা ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত চলবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদে অন্য সময়ের চেয়ে প্রায় দশগুণ বেশি লেনদেন হয়। অন্য সময় ব্যাংকগুলোতে প্রতিদিন কলমানি লেনদেন হয় আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা। আর ঈদ উপলক্ষে ১৫ রোজার পর থেকে প্রতিদিন কলমানি মার্কেটে লেনদেন হচ্ছে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ঈদের আগে ৬ সেপ্টেম্বর একদিনে আন্তঃব্যাংক লেনদেন হয়েছে রেকর্ড তিন হাজার কোটি টাকা।
ঈদের বাজারে সবচেয়ে বড় অংশজুড়েই রয়েছে বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী। বস্ত্রের মধ্যে পায়জামা, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, শাড়ি, লুঙ্গি ও টুপি প্রধান। এরপর রয়েছে জুতা, প্রসাধনী, স্বর্ণালঙ্কার। আর উচ্চবিত্তের জন্য রয়েছে গাড়ি। অপরিহার্য হিসেবে রয়েছে সেমাই, চিনি, ছোলা, ডালসহ আরও অনেক পণ্য। এক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ঈদে উচ্চবিত্তরা যেমন দামি কাপড়, স্বর্ণালঙ্কার কিনে থাকেন; গরিব ও নিম্নবিত্তরা সাধ্যানুযায়ী কেনাকাটা করে থাকেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, মোট বস্ত্র বাজারের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বিদেশি পণ্যের দখলে। এই বিদেশি বস্ত্রের বেশিরভাগ আসে ভারত ও চীন থেকে। একইভাবে জুতাসহ অন্যান্য কসমেটিকসের বাজার বিদেশি পণ্যের দখলে প্রায় ৪০ শতাংশ বলে জানা যায়। ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুত্ ও শ্রমিক সঙ্কটের কারণে এবার বাজারের চাহিদা অনুযায়ী তারা উত্পাদন করতে পারেননি। ফলে এই ঘাটতি পূরণে বাজার দখল করে নেয় বিদেশি বস্ত্র।
একদিনে ৩ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের রেকর্ড : একদিকে কেনাকাটার ধুম, অন্যদিকে বাড়ি ফেরার তাড়া। ব্যাংকের শাখাগুলোতে তাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে মানুষ। কাউন্টারগুলোর সামনের লাইন ভবনের সিঁড়ি পেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খান ব্যাংকের কর্মচারীরা। বাংলাদেশের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ আন্তঃব্যাংক লেনদেনের রেকর্ড হয়েছে গত ৬ সেপ্টেম্বর। ব্যাংক খাতে হাতবদল হয়েছে তিন হাজার কোটি টাকা।
এ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্যাশ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলো একদিনে পেমেন্ট নিয়েছে এক হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯০০ কোটি টাকাই দিতে হয়েছে নতুন নোট। আর ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এক হাজার ২২০ কোটি টাকা উঠিয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গত সোমবার আমরা ব্যাংকগুলোকে যে পরিমাণ টাকা দিয়েছি, তা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। গত ১৭ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমরা পেমেন্ট করেছি ৮৪০ কোটি টাকা। আর গত ৬ সেপ্টেম্বর একদিনেই দেয়া হয়েছে এক হাজার ২৫০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, সাধারণত আমাদের কাছে পুরনো নোট থাকাকালে আমরা নতুন নোট সরবরাহ করি না। আর এবার ছোট নোট দিয়ে ব্যাংকের এত ব্যাপক চাহিদা পূরণ সম্ভব ছিল না। তাই ব্যাংকগুলোতে খুচরা নোট কম যাচ্ছে। বড় নোট দিয়েই ব্যাংকের ক্যাশ বিভাগের কর্মকর্তাদের বাড়ি ফিরতে রাত ১১টা বেজে যায়।
১৫ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় এসেছে : ঈদ উপলক্ষে ব্যাংকিং সেক্টরের মাধ্যমে আগস্ট মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৯৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ৭ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ঈদের আগে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় আসবে। অপরদিকে হুন্ডি বা হাতে হাতে আসবে আরও প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসের চেয়ে আগস্টে ১১ কোটি ডলার বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসে ৮৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে কয়েক হাজার প্রবাসীও দেশে আসেন আপনজনদের সঙ্গে ঈদ করতে। এভাবে সরাসরিও প্রায় হাজার কোটি টাকা আসে। আর ঈদ উপলক্ষে যে পরিমাণ প্রবাসী আয় আসে, সেগুলো প্রায় কেনাকাটাতেই ব্যবহার হয়।
দেশি বস্ত্রবাজার : নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তের চাহিদা পূরণ করছে দেশীয় বস্ত্রবাজার। মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, বাচ্চাদের পোশাক, ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামা, ফতুয়া, লুঙ্গি—সবকিছু তৈরি হয় দেশি কাপড় দিয়েই। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, গোটা দেশের বস্ত্রবাজারের ৮০ শতাংশ দখল করে রেখেছে দেশীয় বস্ত্রখাত। আর এই বাজারে প্রায় ৫ হাজার কারখানায় কর্মরত রয়েছে প্রায় ৩ লাখ শ্রমিক। ঈদ উপলক্ষে এসব দেশীয় কাপড়ের বাজারে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হবে বলে জানা যায়। রাজধানী ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে এসব পোশাক শিল্পের কারখানা গড়ে উঠেছে। ঢাকার বাইরেও কিছু কিছু দেশীয় বস্ত্রের কারখানা রয়েছে।
জানা যায়, গোটা দেশের বাজারে এসব কারখানা থেকে কাপড় সরবরাহ করা হয়। রাজধানীর নর্থ সার্কুলার রোড, সদরঘাট, কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ, নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, বঙ্গবাজারে এসব কাপড়ের মার্কেট গড়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এসব কারখানা থেকে বিভিন্ন রকমের প্রায় ১৫ কোটি পিসের বেশি জামাকাপড় দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়। এসব কাপড়ের বেশিরভাগের পাইকারি দাম ১৩০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ঈদ উপলক্ষে শুধু গাউছিয়া মার্কেটে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। কারণ হিসেবে তারা জানান, এই মার্কেটে রয়েছে পাইকারি কাপড়ের দেশের শীর্ষ ৩০ ব্যবসায়ী। আরেক পাইকারি বাজার নর্থ-সাউথ রোডে বাচ্চাদের পোশাক বেশি। প্রায় এক হাজার ব্যবসায়ী আছেন এ মার্কেটে। ঈদ উপলক্ষে এখানে প্রায় ৩ কোটি পোশাক বিক্রি হবে বলে এখানকার ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জানান। গোটা দেশে বাচ্চাদের পোশাক সবচেয়ে বেশি সরবরাহ হয় এখান থেকে। উর্দু রোডে শার্ট, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবিসহ বাচ্চাদের পোশাক বেশি। এখানে ব্যবসায়ী আছেন প্রায় এক হাজার। চকবাজারে বাচ্চাদের পোশাক, পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জে পাইকারি বাজারে বেশি বিক্রি হয় প্যান্ট। জানা যায়, এখানে কম মূল্যে প্যান্ট পাওয়া যায়। প্রায় ৫ হাজার প্রতিষ্ঠান এখানে কাজ করে। নারায়ণগঞ্জে গেঞ্জি ও হোসিয়ারি বেশি।
দেশি পোশাক বাজারে নিম্ন ও মাঝারি আয়ের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে থাকে উল্লিখিত পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এদের মধ্যে শীতল গার্মেন্টস, এশিয়া গার্মেন্টস, চৈতি গার্মেন্টস, নবরূপা গার্মেন্টস, এবি ফ্যাশন মেকারসহ রয়েছে হাজারও পাইকারি ব্যবসায়ী। এর মধ্যে শাড়ির জন্য এম ড্রাফট শাড়ি, প্রাইড শাড়ি, বাচ্চাদের পোশাকে রীমিমণি, পাঞ্জাবিতে নকশি অন্যতম। এসব ব্যবসায়ীর বেশিরভাগ ইসলামপুর থেকে কাপড় কিনে নিজেরা ডিজাইন করে নিজেদের কারখানায় সেলাই করেন। আবার অনেকে কাপড় কিনে, ডিজাইন করে দিয়ে অন্যদের দিয়ে সেলাই করিয়ে নেন। জানা যায়, বেশিরভাগ বস্ত্র ব্যবসায়ী এভাবে কাজ করান। এসব বস্ত্রসামগ্রী দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের চাহিদা মেটায় বলে জানা যায়।
অপরদিকে দেশীয় বস্ত্রশিল্পের এখন অনেক ব্র্যান্ড ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। আড়ং, গ্রামীণ, ওজি, কে-ক্র্যাফট, বাংলার মেলা, সাদাকালো, নিত্য উপহার, রং, নিপুণ, বিবিয়ানা, ইয়েলো ইত্যাদি ব্র্যান্ডের পোশাক ফ্যাশনসচেতন তরুণ-তরুণীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এসব ব্যবসায়ীর কাপড়, ডিজাইন—সব কিছুই প্রায় আন্তর্জাতিক মানের। বড় বড় মার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও তারা শাখা স্থাপন করেছে। সাধারণত দেশের মোট ২০ শতাংশ লোক এসব ব্র্যান্ডের জামাকাপড় কিনে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান।
অপরদিকে ঈদবাজারের আরেকটি অংশ দখল করে আছে বিদেশি জামাকাপড়। এসব বিদেশি কাপড় এক সময় ৪০ শতাংশ দখল করে রাখলেও এখন সেটা ২০-২৫ শতাংশের বেশি হবে না বলে মনে করেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। জানা যায়, বিদেশি জামাকাপড়ের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পলওয়েল মার্কেট। তারপর রয়েছে গুলশান সিটি করপোরেশন মার্কেট।
পাইকারি বস্ত্র ব্যবসায়ী এবি ফ্যাশন মেকারের স্বত্বাধিকারী সানাউল হক বাবুল বলেন, ঈদ তাদের জন্য ব্যবসায়ী মৌসুম। তাই সারা বছর ধরে প্রস্তুতি নিতে থাকেন এ সময়ে পোশাক সরবরাহের। তিনি মনে করেন, গোটা দেশে প্রায় ১০ কোটি পিস পোশাক এই ঈদে বিক্রি হবে।
পুরুষদের ঈদ মানেই পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির প্রতি ক্রেতাদের দুর্বলতার কথা চিন্তা করে দেশের পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর ঈদে এর উত্পাদন বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এবার প্রায় ৫ কোটি পাঞ্জাবি সারা দেশে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। দেশে তৈরি পাঞ্জাবির বাজারসহ বিদেশি পাঞ্জাবিও রয়েছে বিক্রির তালিকায়। দেশের পাইকারি পাঞ্জাবির বাজারের মধ্যে অন্যতম সদরঘাটের শরীফ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এ বছর শুধু এই মার্কেট থেকেই প্রায় তিন কোটি পিস পাঞ্জাবি বিক্রির আশা করছেন। এরই মধ্যে তাদের লক্ষ্যমাত্রার শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ চিনি রিফাইনারি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, প্রতি বছর রমজান মাসে দেশে চিনির চাহিদা দেড় থেকে দুই লাখ টন। এর মধ্যে শুধু ঈদের বাজারেই চিনি বিক্রি হয় প্রায় ১ লাখ টন। এক হিসাবে ঈদের বাজারে চিনি বেচাকেনা হয় প্রায় ৬২০ কোটি টাকার। চিনি ব্যবসায়ীরা জানান, এর মধ্যেই ঈদের জন্য চিনি বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে পাইকারি বাজারে ঈদের চিনি বেচাকেনা শেষ হওয়ার পথে।
স্বর্ণের বেচাকেনা আশানুরূপ নয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ঈদ, বিয়ের বাজার ও পূজা উপলক্ষে এ সময় কেনাবেচা বাড়ে। কিন্তু দাম বাড়ার কারণে আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না। গোটা বছরের এক-তৃতীয়াংশ বিক্রি এ সময়ে হয়ে থাকে। এক সময় ৫০ টনের মার্কেট ছিল বছরে। টাকার হিসাবে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এবার ঈদ উপলক্ষে এক হাজার কোটি টাকার কম স্বর্ণালঙ্কার এই ঈদে বিক্রি হতে পারে বলে জানান বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী এফবিসিসিআই পরিচালক আনোয়ার হোসেন খান।
উচ্চবিত্তদের ঈদের কেনাকাটায় গাড়িও রয়েছে। এজন্য গাড়ি ব্যবসায়ীরা এ সময় নতুন নতুন গাড়ি শোরুমে নিয়ে এসেছেন। তবে এবারের ঈদে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি বলে মনে করছেন বিজয়নগরের এবি কারের কর্মকর্তা আবদুর রহিম।
গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা : ঈদকে ঘিরে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। শহরমুখো মানুষের স্রোত এখন গ্রামমুখী। আর সঙ্গে নিয়ে ফিরছে নগদ টাকা। ঈদে প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণও বেড়েছে।
জানা গেছে, গ্রামীণ হাটবাজারে সব পণ্যের চাহিদা এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। রেমিট্যান্সের অর্থ গ্রামাঞ্চলে বেশি এলেও সিংহভাগ বিনিয়োগ হচ্ছে শহরে।
এদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই দ্বিতীয় ঈদ। যে কারণে এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানরা ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যয়ের তালিকা সাজিয়েছেন। এতে করে গ্রামাঞ্চলে অর্থ সরবরাহও অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে অনেক বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মোট আমানত রয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। মোট আমানতে গ্রামাঞ্চলের অংশীদারিত্ব মাত্র ১৪ ভাগ। অপরদিকে শহরের আমানতের অংশ ৮৬ ভাগ। গ্রামে প্রতি বছরই ব্যাংক আমানত ও ঋণপ্রবাহ কমছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানত এবং ঋণের অংশ হিসেবে গ্রামের অংশ শহরের তুলনায় অনেক কম। গ্রাম থেকে যতটুকু আমানত নেয়া হচ্ছে, তার অর্ধেক বিনিয়োগ করা হচ্ছে শহরে। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে এ চিত্র একেবারে উল্টে যায়। শহরের মানুষ হয় গ্রামমুখী। আর সারা বছর স্তিমিত হয়ে থাকা গ্রামের হাটবাজার কয়েকদিনের জন্য দারুণ চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?