Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২০ ভাদ্র ১৪১৭, ২৪ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

উত্তরাঞ্চলে ছাড়পত্র ছাড়া পশু জবাই : অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট
উত্তরাঞ্চলের হাটবাজার ও গ্রামগঞ্জে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে পশু জবাই। এদের বেশিরভাগই রোগাক্রান্ত। অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিনের অভাব না থাকলেও লোকবল সঙ্কটের কারণে তা প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবাধে ভারতীয় পশু প্রবেশ করছে। এসব কারণে উত্তরাঞ্চলে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের খবর :
রাজশাহী : উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার কোনো উপজেলাতেই পশুসম্পদ বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল নেই বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, উত্তরাঞ্চলে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলে প্রায় ২ কোটি গবাদিপশু আছে। এদের জন্য রয়েছে হাতেগোনা কয়েক চিকিত্সক। ফলে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধ কার্যক্রমে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই রাজশাহী প্রাণিসম্পদ দফতরের।
প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্র আরও জানায়, সঠিকভাবে কাজ করতে হলে উপজেলা পর্যায়ে টেকনিক্যাল বিভাগের জন্য একজন টিএলও, একজন ইউএলএ, একজন ভেটেরিনারি সার্জন, একজন কমপাউন্ডার, একজন এফএ (এফআই) এবং উপজেলা পর্যায়ে তিনজন ভিএফ দরকার। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে ৩-৪ জন করে জনবল আছে। ফলে সঠিকভাবে অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যাচ্ছে না।
রাজশাহী প্রাণিসম্পদ দফতরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পশুর শরীরে অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা জটিল। চামড়ার একেবারে নিচে এ ভ্যাকসিন দিতে হয়। এ ভ্যাকসিন মাংসের ভেতরে গেলে পশু ছটফট করতে থাকে। এছাড়াও পশুর শরীরে জ্বর হতে পারে। তবে এর চেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। কাজেই এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে অত্যন্ত দক্ষ জনবল প্রয়োজন। উত্তরাঞ্চলে এখনও অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিনের সঙ্কট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনবলের অভাবে প্রয়োজন মতো ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। ফলে অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধ কার্যক্রম।
রাজশাহী প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রমতে, এ বিভাগের সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ ৮টি জেলার জন্য জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ মাসের অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার পিস। এর বিপরীতে জুলাই এবং আগস্ট উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার জন্য অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে ২ লাখ ২১ হাজার ৭শ’ পিস। বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪শ’ পিস। সেপ্টেম্বরের জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে এ ভ্যাকসিন এসে পৌঁছবে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খায়রুল আলম মিঞা বলেন, রাজশাহী জেলার হাট-বাজারে পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পিলখানা নেই। ফলে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ যেখানে-সেখানে জবাই করা হয়। এতে করে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্ঙ্ককা থাকে। এ রোগের জীবাণু অন্তত ৪০ বছর পর্যন্ত সক্রিয় থাকে বলে তিনি জানান। কাজেই অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু জবাই না করে অন্তত ৬ ফুট মাটির নিচে পুঁতে ফেলার পরামর্শও দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গবাদীপশুর মাংস বিক্রি করতে হলে আগের দিন পিলখানায় এনে জড়ো করতে হবে। এরপর একজন ভেটেরিনারি সার্জন গিয়ে তা পরীক্ষা করে সার্টিফিকেট দেয়ার পরই তা জবাই করা যাবে। কিন্তু এ নিয়ম রাজশাহীসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের কোথাও মানা হয়নি।
রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. মো. জহুরুল ইসলাম বলেছেন, গবাদিপশু জবাইয়ের স্থানগুলো মনিটরিং হওয়া প্রয়োজন। জবাই করা পশু থেকে অ্যানথ্রাক্স ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। যদি কেউ আক্রান্ত গবাদিপশু জবাই করেন, কাটেন বা ধোয়া-মোছা করেন কিংবা চামড়া ছাড়ান অথবা ওই গবাদিপশুর মাংস খান, তাহলে তার এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পাবনা : পাবনা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে গবাদিপশু জবাই। শহর কিংবা গ্রামের বাজারগুলোতে দেদার চলছে মাংস বিক্রি। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে প্রশাসন পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ আছে। ফলে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার আশঙ্কা, যে কোনো মুহূর্তে অ্যানথ্রাক্স ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে শহরে মাংস বিক্রি কমে গেলেও গ্রামাঞ্চলে দেদার চলছে পশু জবাই এবং মাংস বিক্রি।
শহরের মাংস ব্যবসায়ীরা জানান, এক বছরেরও বেশি সময় তাদের দোকানে প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিত্সক যাননি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য কোনো ধরনের পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়াই তারা গরু-ছাগল জবাই করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. সাইদুল ইসলাম জানান, প্রতিটি উপজেলায় স্পোটার হাউস বসানোর আবেদন করেছেন। পশু বাজারজাত বা জবাই করার আগে সেগুলো সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। শিগগিরই এটি চালু হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে যে কোনো মুহূর্তে পাবনা জেলায় অ্যানথ্রাক্স রোগটি ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পরতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার শহরের মাসুমবাজার এলাকায় একটি মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে র্যাব ও পুলিশ কসাই মিরাজুল ইসলামকে ২০ কেজি মাংসসহ গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শহরের রূপকথা রোডের রাজ বিরানি হাউসে রান্না করার সময় ৫ কেজি মাংস এবং হোটেল মালিক রফিক এবং মাসুমবাজার এলাকার শান্ত জেনারেল স্টোরের ফ্রিজ থেকে ৭৫ কেজি মাংসসহ মালিক মামুন হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এ মাংস সিরাজগঞ্জ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হলে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু আছে বলে জানানো হয়।
নাটোর : নাটোরে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে আগামী দু’মাস যত্রতত্র গরু জবাই এবং মাংস বিক্রি করা যাবে না। উত্তরাঞ্চলে আক্রান্ত গরুর মাংস খেয়ে বেশ কয়েকজন মানুষ অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হওয়ায় নাটোরে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় সাধারণ মানুষকে এ রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে আজ সকাল থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষ থেকে মাইকিং করে যেখানে-সেখানে গরু জবাই করা এবং গরুর মাংস বিক্রি না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী দু’মাস নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সিলযুক্ত গরু জবাই ও মাংস বাজারের নির্ধারিত দোকানেই বিক্রি করা যাবে। এ ব্যাপারে নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানিয়েছেন, এখনও নাটোরের কোথাও গরু বা মানুষ অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবু সতর্কতামূলক হিসেবে ২ মাসের জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামে গতকাল আরও এক অ্যানথ্রাক্স রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার নাম বুলবুলি খাতুন। তিনি এ এলাকার আকবর আলীর স্ত্রী। এ নিয়ে গত তিনদিনে ৩৭ অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত করা হলো।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?