Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২০ ভাদ্র ১৪১৭, ২৪ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা : কাস্টম কমিশনারকে বহাল রেখেছে রাজস্ব বোর্ড

জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের প্রায় নয় কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা নিয়ে কাস্টম কমিশনারসহ ছয় কর্মকর্তা জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে কাস্টম কমিশনারকে বদলিসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রীর ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে ৬ জন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হলেও কাস্টম কমিশনারের (আমদানি) বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এনবিআর। এতে করে বিস্ময়ের সৃৃষ্টি হয়েছে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে ক্যাডার-ননক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যেও।
উচ্চমূল্যে ওভেন ও শুল্ক ফেব্রিকস এনে নিটেট ফেব্রিকস মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আটজন আমদানিকারকের আনা ১৩টি চালানে ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়ার ঘটনা সম্প্রতি উদ্ঘাটিত হয়। অথচ ১৩ চালানে আদায়যোগ্য শুল্কের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৬৩ লাখ। কাস্টম কমিশনারসহ ছয় কর্মকর্তা পারস্পরিক যোগসাজশে শুল্ক আদায় করে মাত্র ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তদুপরি ঐ চালানগুলোতে ঘোষণাবহির্ভূত আরও ৭৬ হাজার ৩৯০ কেজি পণ্যেরও সন্ধ্যান পাওয়া যায়। সমপ্রতি গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির মহাপরিচালক প্রকাশ দেওয়ানের নেতৃত্বে।
তদন্ত কমিটি চালানগুলো সম্পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমদানিকারকদের চালানগুলোতে এই বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদ্ঘাটন করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাস্টম হাউস (আমদানি) শুল্কায়ন শাখা আমদনিকারকের দাখিলকৃত সব চালানকে নিটেট ফেব্রিকস হিসেবে শুল্কায়ন করে পারস্পরিক যোগসাজশে। অথচ আমদানিকৃত এসব চালানে ছিল উচ্চমূল্যের ওভেন ও শুল্কের ফেব্রিকস।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রাপ্তির পর অর্থমন্ত্রী গত মাসের শেষদিকে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে কাস্টম কমিশনারকে বদলি ও অন্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
২ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রিন্সিপাল এপ্রেইজার কাজী রকিব উদ্দিন, সালেহ আহমেদ চৌধুরী, বশির উদ্দিন আহমেদ, এপ্রেইজার ফজলুল হক ভূইয়া, সালাউদ্দিন তালুকদার, মীর্জা ফারুখ আহমেদকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু কাস্টম কমিশনারের বিরুদ্ধে নেয়নি কোনো ব্যবস্থা।
শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হলেও কাস্টম কমিশনারের বিরুদ্ধে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ-অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী কাস্টম কমিশনারকে বদলির জন্য নির্দেশ দিয়েছিল গত ২৪ আগস্ট। জাতীয় রাজস্ব বিভাগে অত্যন্ত সত্ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত প্রকাশ দেওয়ানকে কয়েক মাস আগে সরিয়ে দেয়া হয় যোগদানের মাত্র দু’মাসের মাথায়।
এদিকে ৬ কর্মকর্তা সাসপেন্ডকে কেন্দ্র করে কাস্টম হাউসের ক্যাডার ও ননক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম দ্বন্দ্ব।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চীন ও ভারত থেকে ঢাকার ইসলামপুর এবং বিক্রমপুরের আটটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত ১৩টি কাপড়ের চালানে ওজন কম দেখিয়ে ও এইচএস কোড পাল্টিয়ে আট কোটি পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার এই নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী। সরকারের শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তার অভিযোগে চট্টগ্রাম কাস্টমের শীর্ষ কর্মকর্তা কাস্টম কমিশনারকে প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ দেয়ার ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। দেশের একক বৃহত্তম রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রতিদিন গড়ে আনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে বাংলাদেশ কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির মহাপরিচালক প্রকাশ দেওয়ানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ৩৩ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রী এ নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী প্রদত্ত নির্দেশে আরও বলা হয়, এত বড় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বুলবুল এন্টারপ্রাইজ ও শিপিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ লাইসেন্স বাতিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। মন্ত্রী কোনো নির্দেশ দিলে সেটি সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর করার বিধান রয়েছে। অথচ অর্থমন্ত্রী নির্দেশ দেয়ার দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে তিন তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে অর্থমন্ত্রী একান্তে বৈঠক করার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে শুল্ক আদায়ে ব্যাপক অনিয়ম সম্পর্কে অবহিত করেন। এরপর তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে। তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য, শুল্ক-গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের পরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করেন।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বিগবাজার সুপার শপ, তানজিম এন্টারপ্রাইজ, সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ, এসএস এন্টারপ্রাইজ, তৈয়ব টেক্সটাইল, এস নাহার এন্টারপ্রাইজ, লুত্ফুর রহমান ক্লথ মার্কেট ও নূর ফেব্রিক্স। এই বিপুল পরিমাণ পণ্য ছাড়করণের জন্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বুলবুল এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স ব্যবহার করা হলেও এর নেপথ্যে ছিলেন কাস্টমস কমিশনারের আপন ভাগিনা মোহাম্মদ খালিদ।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?