Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২০ ভাদ্র ১৪১৭, ২৪ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যহাতির তাণ্ডবে আতঙ্কিত এলাকাবাসী

শহীদুল ইসলাম বাবর, দক্ষিণ চট্টগ্রাম
ব্যাপক বন ধ্বংস হওয়ার ফলে বন্যপ্রাণী বিশেষ করে হাতির আভাসস্থল নষ্ট হওয়াতে ক্ষিপ্ত হাতির দল দক্ষিণ চট্টগ্রামের একাধিক উপজেলার লোকালয়ে বার বার হানা দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে চলেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষ। পাহাড়ি সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রায়ই হানা দিচ্ছে বেপরোয়া হাতির পাল। হাতির তাণ্ডবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি ঘটছে প্রাণহানিও। গত তিন বছরে অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় লোকালয়ে ঢুকে পড়ে এক হাতি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছে। হাতির ভয়ে এখনও গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছে সীমান্তবর্তী অনেক লোক। এলাকাবাসী জানায়, আউশ, আমন ও বোরো ধান পাকার সময় আসলে বন্যহাতির পাল লোকালয়ে হানা দিত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে প্রায় সারাবছরই ক্ষিপ্ত হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে বসতঘর ও ফসলের মাঠকে তছনছ করে দিচ্ছে। বর্তমানে হাতির পাল একেবারে জনবহুল এলাকায় চলে আসছে। হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেক সময় পাহাড়ের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ গাছের ওপর মাচাং বেঁধে থাকছে।
গত কয়েক মাস ধরে বন্যহাতির একটি পাল সাতকানিয়ার চরতি, কাঞ্চনা, চন্দনাইশের সাতবাড়িয়া, বৈলতলী, বরমা, গাছবাড়ীয়া ও দোহাজারী এলাকার লোকালয়ে হানা দিয়ে লোকজনের বসতঘর, আখসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তছনছ করে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পাহাড়ে হাতির খাদ্যের উপযোগী উদ্ভিদের অভাব, সচরাচর চলাচলের পথে বাধা, বনভূমি উজাড়, জুম চাষ ও পাহাড়ি এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সাতকানিয়ার চরতি, কাঞ্চনা, এওঁচিয়া, মাদার্শা, সোনাকানিয়া, লোহাগাড়ার চুনতি, বড় হাতিয়া, পুটিবিলা, সাতগড়, চুনাতি অভয়ারণ্যের আশপাশের এলাকা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, সাতবাড়িয়া, জামিজুরি, ধোপাছড়ি, লালুটিয়া, জঙ্গল হাশিমপুর, বাঁশখালীর জলদী, গুণগরী, বৈলগাঁও, চাম্বল, পুঁইছড়ি, জঙ্গল নাপুড়া, কালিপুর, পটিয়ার রতনপুর, সত্তারপেটিয়া, কেলিশহর, হাইদগাঁও, শ্রীমাই, হরনা, বোয়ালখালীর করলডাঙ্গা ও জৈষ্ঠপুরাসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সারাবছর বন্যহাতির পাল লোকালয়ে হানা দিয়ে বসতঘর, মৌসুমী সবজির ব্যাপক ক্ষতি করে। এছাড়াও হাতির আক্রমণে মারা গেছে অনেক লোক।
বন্যহাতির ভয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে অনেকেই। গত পাঁচ বছরে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে সাতকানিয়ায় ১৫ জন, লোহাগাড়ায় ৯, চন্দনাইশে ১৬, বাঁশখালীতে ২৫, পটিয়ায় ১৪ ও বোয়ালখালীতে ১০ জনসহ শতাধিক লোক মারা গেছে। আহত হয়েছে কয়েকশ’। বন্যহাতির আক্রমণে পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে বসতঘর ছেড়ে পালিয়েছে অনেকেই। এখন প্রায় প্রতিদিনই দক্ষিণ চট্টগ্রামের কোনো না কোনো এলাকায় ১৫-২০টি হাতির পাল আকস্মিকভাবে লোকালয়ে ছুটে আসে। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হাতির বসবাসের স্থান হচ্ছে গহীন অরণ্য। কিন্তু এখন পাহাড়ে গভীর জঙ্গল ও হাতির খাবার সঙ্কট রয়েছে। এজন্য তারা খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে ছুটে আসে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী আছমত সাংবাদিকদের বলেন, একসময় মনে করতাম পাহাড়ে খাদ্যের অভাবে বন্যহাতিগুলো লোকালয়ে ছুটে আসত। কিন্তু এখন সারাবছরই হাতির পাল লোকালয়ে হানা দেয়ার ঘটনা ঘটছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?