বগুড়ায় কলা পাকাতে বিষাক্ত রাসায়নিক স্প্রে করা হচ্ছে
আসাদুজ্জামান ফিরোজ, বগুড়া
বগুড়ায় বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য স্প্রে করে একশ’টি কলা পাকাতে খরচ হয় দু’টাকা। এভাবে কলা পাকাতে সময়ও লাগে কম। তাই লাভবান হয় ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে এ ধরনের কলা খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায় এবং প্রতারিত হয় ক্রেতারা। কিন্তু তারপরও থেমে নেই কলায় স্প্রে করার প্রবণতা। তবে খোলামেলাভাবে এসব অবৈধ তত্পরতা চললেও এর প্রতিকারে বগুড়া প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে।
বগুড়ার শিবগঞ্জের চণ্ডিহারা ও মোকামতলায় মহাসড়কের পাশে প্রতি সপ্তাহে চার দিন কলার হাট বসে। চণ্ডিহারায় সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার এবং মোকামতলায় সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাটে কলা নিয়ে আসে চাষীরা এবং দুপুরের মধ্যেই কেনাবেচা শেষ হয়ে যায়। পাইকারি এই কলার হাট থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ট্রাকযোগে সরবরাহ করা হয়। প্রতি হাটে ১০০ থেকে ১৩০ ট্রাক কলা বিক্রি হয়। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও ফাঁসিতলায় রয়েছে কলার হাট। সেখানেও কলা ওঠে প্রচুর।
দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে কলা কিনে ব্যবসায়ীরা সাজিয়ে রাখে। এরপর তাতে বালতি দিয়ে পানি ঢালা ও স্প্রে করা হয়। এতে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো থাকে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছে, ভারতীয় কীটনাশক কোম্পানির তৈরি ‘প্রমোট’ নামের তরলজাতীয় রাসায়নিক স্প্রে করা হয় কলায়। এই স্প্রে করার কারণে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কলার রং সবুজ থেকে হলুদ হয়ে যায়। ওই কলা দু-তিন দিন শক্ত থাকার কারণে খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ভালো হয়। এখান থেকে ট্রাকে লোড করে ঢাকায় নিয়ে যেতে যেতেই কলা পেকে যায়। রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো কলা খেয়ে শরীরের ক্ষতি হলেও ব্যবসায়ীরা ব্যবসার জন্য কলায় স্প্রে করে নেয় বলে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের তৈরি তরল ওষুধ ‘প্রমোট’ ২০০ টাকায় পাওয়া যায় বিভিন্ন দোকানে। এই ওষুধ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ৫০০ ঘাউর কলা পাকানো যায়। প্রতি ঘাউরে কলা থাকে ৮০ থেকে ১০০টি। প্রতি ঘাউর কলা পাকাতে খরচ হয় দু’টাকা।
কৃষক শাহীন মিয়া, আশরাফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিক ও সেলিম মিয়া জানান, তাদের কাছ থেকে কলা কিনে নিয়ে বেপারীরা রাসায়নিক স্প্রে করছে। এখানে তাদের কিছু করার নেই। তারা আরও জানান, প্রতি বিঘায় ৩০০ থেকে ৩২০ ঘাউর কলা হয়। এবার কলার উত্পাদন ভালো হয়েছে। তবে গতবারের তুলনায় এবার কলার দাম কম।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দো-আঁশ মাটির কারণে বগুড়ার শিবগঞ্জ এলাকায় সবচেয়ে বেশি কলার চাষ হয়ে থাকে। এবার শিবগঞ্জ উপজেলায় ২৮৪ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার গাবতলী, সোনাতলা ও বগুড়া সদরে ব্যাপক কলা চাষ হয়। জেলায় এবার কলা চাষ করা হয়েছে ৬৩৭ হেক্টর জমিতে।
বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কমলকৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, কার্বাইড চুনের মতো এক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা হয়। এছাড়া কপার সালফেটও ফল পাকানোর জন্য ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে। আবার অনেক সময় হরমোনজাতীয় কেমিক্যাল ক্যালসিয়াম কার্বাইড প্রয়োগ করা হয় ফলের আকৃতি বাড়ানোর জন্য। ক্যালসিয়াম কার্বাইড, কার্বাইড এবং কপার সালফেট মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব রাসায়নিক দ্রব্য ফলের ওপর স্প্রে করা হলে তা ধীরে ধীরে ফলের ভেতরে চলে যায়। এসব ফল খেয়ে মানবদেহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে কিডনি ও লিভার। এছাড়াও ক্যান্সার, শরীরের যে কোনো স্থানে টিউমার অথবা পচন রোগ হতে পারে এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের কারণে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মমতাজ হোসেন জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেন কলায় ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ না করার জন্য। কিন্তু তারপরেও ব্যবসায়ীরা কার্বাইড নামের একজাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য কলায় প্রয়োগ করে দ্রুত পাকানোর জন্য।
বগুড়ার শিবগঞ্জের চণ্ডিহারা ও মোকামতলায় মহাসড়কের পাশে প্রতি সপ্তাহে চার দিন কলার হাট বসে। চণ্ডিহারায় সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার এবং মোকামতলায় সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাটে কলা নিয়ে আসে চাষীরা এবং দুপুরের মধ্যেই কেনাবেচা শেষ হয়ে যায়। পাইকারি এই কলার হাট থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ট্রাকযোগে সরবরাহ করা হয়। প্রতি হাটে ১০০ থেকে ১৩০ ট্রাক কলা বিক্রি হয়। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও ফাঁসিতলায় রয়েছে কলার হাট। সেখানেও কলা ওঠে প্রচুর।
দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে কলা কিনে ব্যবসায়ীরা সাজিয়ে রাখে। এরপর তাতে বালতি দিয়ে পানি ঢালা ও স্প্রে করা হয়। এতে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো থাকে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছে, ভারতীয় কীটনাশক কোম্পানির তৈরি ‘প্রমোট’ নামের তরলজাতীয় রাসায়নিক স্প্রে করা হয় কলায়। এই স্প্রে করার কারণে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কলার রং সবুজ থেকে হলুদ হয়ে যায়। ওই কলা দু-তিন দিন শক্ত থাকার কারণে খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ভালো হয়। এখান থেকে ট্রাকে লোড করে ঢাকায় নিয়ে যেতে যেতেই কলা পেকে যায়। রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো কলা খেয়ে শরীরের ক্ষতি হলেও ব্যবসায়ীরা ব্যবসার জন্য কলায় স্প্রে করে নেয় বলে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের তৈরি তরল ওষুধ ‘প্রমোট’ ২০০ টাকায় পাওয়া যায় বিভিন্ন দোকানে। এই ওষুধ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ৫০০ ঘাউর কলা পাকানো যায়। প্রতি ঘাউরে কলা থাকে ৮০ থেকে ১০০টি। প্রতি ঘাউর কলা পাকাতে খরচ হয় দু’টাকা।
কৃষক শাহীন মিয়া, আশরাফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিক ও সেলিম মিয়া জানান, তাদের কাছ থেকে কলা কিনে নিয়ে বেপারীরা রাসায়নিক স্প্রে করছে। এখানে তাদের কিছু করার নেই। তারা আরও জানান, প্রতি বিঘায় ৩০০ থেকে ৩২০ ঘাউর কলা হয়। এবার কলার উত্পাদন ভালো হয়েছে। তবে গতবারের তুলনায় এবার কলার দাম কম।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দো-আঁশ মাটির কারণে বগুড়ার শিবগঞ্জ এলাকায় সবচেয়ে বেশি কলার চাষ হয়ে থাকে। এবার শিবগঞ্জ উপজেলায় ২৮৪ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার গাবতলী, সোনাতলা ও বগুড়া সদরে ব্যাপক কলা চাষ হয়। জেলায় এবার কলা চাষ করা হয়েছে ৬৩৭ হেক্টর জমিতে।
বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কমলকৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, কার্বাইড চুনের মতো এক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা হয়। এছাড়া কপার সালফেটও ফল পাকানোর জন্য ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে। আবার অনেক সময় হরমোনজাতীয় কেমিক্যাল ক্যালসিয়াম কার্বাইড প্রয়োগ করা হয় ফলের আকৃতি বাড়ানোর জন্য। ক্যালসিয়াম কার্বাইড, কার্বাইড এবং কপার সালফেট মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব রাসায়নিক দ্রব্য ফলের ওপর স্প্রে করা হলে তা ধীরে ধীরে ফলের ভেতরে চলে যায়। এসব ফল খেয়ে মানবদেহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে কিডনি ও লিভার। এছাড়াও ক্যান্সার, শরীরের যে কোনো স্থানে টিউমার অথবা পচন রোগ হতে পারে এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের কারণে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মমতাজ হোসেন জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেন কলায় ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ না করার জন্য। কিন্তু তারপরেও ব্যবসায়ীরা কার্বাইড নামের একজাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য কলায় প্রয়োগ করে দ্রুত পাকানোর জন্য।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


