Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২০ ভাদ্র ১৪১৭, ২৪ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ঈদের বাকি ৭ দিন : ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ

কাজী জেবেল
ঈদুল ফিতরের বাকি এখনও ৭ দিন। এরই মধ্যে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে ঘুরমুখো মানুষ। গতকাল সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার থাকায় অনেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। বাস, লঞ্চ ও রেলস্টেশনে গতকাল মানুষের বাড়তি ভিড় দেখা যায়। এসব যাত্রীর বেশিরভাগই নারী ও শিক্ষার্থী। ঈদের আগমুহূর্তে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রচণ্ড চাপ এড়াতেই এসব যাত্রী আগেই বাড়ি চলে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। আগের তুলনায় লঞ্চভাড়া বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। তবে লঞ্চমালিকদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এখনও তারা কম নিচ্ছেন। এদিকে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির চতুর্থ দিনে গতকাল টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন টিকিট কিনতে লাইনে থাকা যাত্রীরা। রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ট্রেনের আগাম টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ঈদ না হলে চলতি কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে। এদিকে নৌমন্ত্রী মো. শাজাহান খান হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষকে জিম্মি করে কোনো মালিক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজধানীর বাস ও রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর গাবতলী, শ্যামলী, আসাদ গেট, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও মহাখালীতে সকাল থেকেই মানুষের বাড়তি ভিড়। যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য এসব মানুষ বাসস্টেশনে এসেছে। প্রত্যেকের সঙ্গে বড় বড় লাগেজ। এগুলোতে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনা ঈদ পোশাক ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে ঈদের এক সপ্তাহ আগেই তারা ঢাকা ছাড়ছেন। গাবতলী বাসস্টেশনে অপেক্ষমাণ সরকারি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদের এক বা দুই দিন আগে মানুষের প্রচণ্ড চাপ ও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এসব ঝামেলা এড়াতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিজ বাড়িতে রেখে আসতেই খুলনা যাচ্ছি। শনিবার তিনি ঢাকায় ফিরে এসে রোববার অফিস করবেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা। নড়াইলগামী মো. সামছুজ্জামান সুমন জানান, কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বোনকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছেন। তার দুলাভাই (মো. রফিকুল ইসলাম) অফিস বন্ধ হলে আগামী বৃহস্পতিবার বাড়ি যাবেন। একইভাবে একাধিক যাত্রী জানান, ঈদের সময় মানুষের বাড়তি চাপ এড়াতেই তারা আগেভাগে বাড়ি ফিরছেন।
নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীরা গতকাল দুপুর থেকে ঢাকার সদরঘাটে ভিড় জমান। ঈদের আগে বাড়তি ভিড় হতে পারে এমন আশঙ্কায় যাত্রীরা দুপুরেই চলে আসেন। কিন্তু লঞ্চগুলো পূর্বনির্ধারিত সময়ে ঘাট ছেড়ে গেছে বলে লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল মানুষের ভিড় অনেক বেশি। ঈদের আমেজ চলে আসায় মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। এদিকে ঈদ না আসতেই আগের তুলনায় ভাড়া বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তারা বলেছেন, প্রতিটি রুটেই আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ টাকা ভাড়া বেড়েছে। পটুয়াখালীগামী যাত্রী মো. কামরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আগে পটুয়াখালীর ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা আদায় করা হতো। এখন তা বাড়িয়ে ২০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। একইভাবে একাধিক যাত্রীও অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সংস্থার সহ-সভাপতি সাহাব উদ্দিন মিলন বলেন, ঢাকা-বরিশাল ১৮৪ টাকা ও ঢাকা-পটুয়াখালী ২৫২ টাকা ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে। অন্য সময় যাত্রী কম থাকায় আমরা লঞ্চভাড়া কম নিতাম। এখন পর্যাপ্ত যাত্রী থাকা সত্ত্বেও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অনেক কম নিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের ভ্রমণ নিরাপদ করতে আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছি।
রেলের অগ্রিম টিকিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে : রেলের আগাম টিকিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে চলে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টিকিট কিনতে আসা যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেছেন, কাউন্টার থেকে অল্পসংখ্যক টিকিট দেয়ার পরই নেই বলে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারা আরও বলেন, সন্ধ্যা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে সারারাত নির্ঘুম কাটিয়েও টিকিট পাচ্ছি না। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকিট সকালেই নেই বলে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। রাজশাহীর ৮ সেপ্টেম্বরের আগাম টিকিট কিনতে আসা আল আমিন বলেন, সবার আগে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রথম শ্রেণীর টিকিট পাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কমলাপুর রেলস্টেশনেই ইফতার করেছি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণীর টিকিট ভিআইপি ও রেলের কর্মকর্তারা নিয়ে যাওয়ার প্রতিবেদন পত্রিকায় দেখে তড়িঘড়ি করে এসেছি। বাস্তবে তাই দেখলাম। আমার সামনেই ভেতর থেকে রেলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রথম শ্রেণীর টিকিট দেয়া হলেও আমি চাইতে তৃতীয় শ্রেণী ছাড়া অন্য কোনো টিকিট নেই বলে জানিয়ে দেয়া হলো। সুবর্ণ এক্সপ্রেসের টিকিট সংগ্রহ করতে আসা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, লাইনে জায়গা বিক্রি, চারটির বেশি টিকিট কাটা ও দালাল চক্রের আনাগোনা দেখা গেছে। আমি কয়েকজনের হাতে অতিরিক্ত টিকিট দেখেছি। এরা কয়েকজনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট নিয়ে যায়। রাস্তার ওপারে হোটেলের সামনে গিয়ে টিকিট বিক্রি করেছে।
তবে রেলস্টেশনের বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা র্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর শফিক বলেন, র্যাব স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। দালাল চক্র, টিকিট কালোবাজারির ব্যাপারে নজরদারি চালাচ্ছে। এদিকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ঈদ না হলে চলতি কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে বলে ডিভিশনাল বাণিজ্য কর্মকর্তা সৈয়দ জহুরুল ইসলাম জানান। তবে এখনই ওইদিনের কোনো অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?