Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২০ ভাদ্র ১৪১৭, ২৪ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ : পুলিশসহ ২০ আহত : হকার-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিস্তান রণক্ষেত্র

স্টাফ রিপোর্টার
গতকাল বিকালে হকার ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে রাজধানীর ব্যস্ততম গুলিস্তান এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এক ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে ৯ পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছে। বিক্ষুব্ধ হকাররা সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের দুটি গাড়িসহ ১০/১২টি যানবাহন ভাংচুর করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও ১০ লাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সংঘর্ষে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি হয়। ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষ প্রাণভয়ে দিকগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। পুলিশ এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৩ হকারকে গ্রেফতার করে। জানা যায়, ফুটপাত থেকে দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে শত শত হকার একত্রিত হয়ে পুলিশকে ঘিরে ফেললে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। একপর্যায়ে রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। গুলিস্তান ফুলবাড়ীয়া থেকে শুরু করে পুরানাপল্টন পর্যন্ত রাস্তায় হকাররা সংঘবদ্ধ হয়ে দফায় দফায় পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গতকাল ছুটির দিনে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। অনেকেই তখন কেনাকাটা রেখে এদিক-সেদিক ছুটে যান।
বিক্ষুব্ধ হকাররা পল্টন থানার ওসি শহিদুল হকের গাড়ি ও আহাদ পুলিশ বক্স ভাংচুর করে। এ সময় তারা রাস্তায় ৭/৮টি গাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাংচুর করে। বিজয়নগর থেকে গুলিস্তান এবং তোপখানা থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট। দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষ ও পথচারীকে। অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এলে হকাররা রাস্তায় কাঠের চৌকি ও বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়। হকারদের অভিযোগ, চাঁদা না দেয়ায় পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে তুলে দিতে এলে এর প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ।
পল্টন থানার ওসি শহীদুল হক জানান, হকারদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। তিনি বলেন, আধাঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, হকাররা ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে পসরা সাজালে জানজট সৃষ্টি হয়। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু হকার উচ্ছেদ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। তিনি বলেন, হকাররা অতর্কিতে দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে তারা সংঘবদ্ধ হলে পুলিশ সামান্য লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম জানান, বেলা ৩টার দিকে ফুটপাতের হকার উচ্ছেদের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় কয়েকজন হকারের সঙ্গে পুলিশের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত গুলিস্তানের সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স থেকে স্টেডিয়াম এলাকা পর্যন্ত হকারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাংচুর হয়।
সংঘর্ষের জন্য পুলিশকে দায়ী করে রওশন আলী নামে একজন হকার বলেন, পুলিশ আমাদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। আমরা টাকা দিতে রাজি না হলেই নানা কারণ দেখিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করতে চায়। আজকেও সেটা করতে এসেছে বলে আমরা বাধা দিয়েছি। তখন পুলিশ আমাদের পিটিয়েছে। হকাররা বলেন, ঈদ বাজারের এ সময়ে আমাদের উচ্ছেদ করা হলে আমরা কোথায় যাব? আমাদেরও তো ঈদ আছে, ছেলেমেয়ে আছে।
পুলিশের পিটুনি ও রাবার বুলেটে আহতদের মধ্যে কয়েকজন ক্রেতাও রয়েছেন বলে তিনি জানান। হকারদের এ অভিযোগ নাকচ করে শহিদুল বলেন, শুধু রাস্তা আটকে থাকা হকারদের পুলিশ সরিয়ে দিয়েছে। কারণ তাদের কারণে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। কিন্তু ফুটপাতে যেসব হকার রয়েছে, তাদের উচ্ছেদের কোনো চেষ্টা করা হয়নি। এখানে চাঁদার কোনো বিষয় নেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছুটির দিনে ঈদের কেনাকাটায় সরগরম গুলিস্তান এলাকায় এ সংঘর্ষের কারণে ক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?