Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২০ ভাদ্র ১৪১৭, ২৪ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রায় পুনর্বিবেচনা করা হোক

ড. মোঃ শামছুল আলম
দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বর্তমানে দেশের এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ভাষাহীন জনগণের ভাষা হয়ে অসম সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তার লেখা ও বক্তব্য ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর কাছে প্রত্যাখ্যাত হলেও দেশের গণমানুষ হৃদয় দিয়ে তাকে সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে। এই বিপুল গণসমর্থন ও জাতীয় ইস্যুতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে অমানবিক শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু দেশপ্রেমের আদালতে জনগণ রায় দিয়েছেন মাহমুদুর রহমান এ সময়ের মহানায়ক। সব পরিস্থিতিতে জনগণ তাকে সমর্থন করে যাবে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগ সংবিধানের রক্ষাকর্তা হিসেবে গণতন্ত্র অটুট রাখতে ভূমিকা পালন করে, আর গণমাধ্যম সত্য প্রকাশের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধানে সচেষ্ট থাকে। উভয়ের প্রতি জনগণের আস্থা গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করে। সম্প্রতি উচ্চ আদালত বিচার বিভাগ সম্পর্কে একটি সংবাদ প্রকাশের জন্য দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করে জেল ও জরিমানা করেছেন। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিনয় সহকারে বলছি, এ রায়ের ফলে দেশবাসী হতাশ হয়েছে। এর আগে কখনও এরকম রায় হয়নি। এর ফলে আমরা খুব দুঃখ পেয়েছি এবং হতাশ হয়েছি।
বর্তমানে গণমাধ্যমে এবং সমাজে এ রায় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, যদিও আদেশের বিস্তারিত বিবরণ এখনও পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াগুলোতে এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে, এ রকম দণ্ডের ফলে সংবাদপত্রগুলো বিচার বিভাগ বা আদালত নিয়ে নির্ভয়ে প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ প্রকাশে দ্বিধান্বিত হতে পারে। অন্যদিকে একই বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভাগুলোতে আদালতের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলা হয়েছে। আদালতের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ক্ষুণ্ন না করার বিষয়ে আমিও একমত। তবে আদালতের উচিত শ্রদ্ধা করার জন্য জনগণকে সুযোগ করে দেয়া।
বিভিন্ন আলোচনা সভা ও লেখালেখিতে লেখক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদের পক্ষ থেকেও আদালতের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা হয়েছে, যাতে মানুষের শ্রদ্ধা অটুট থাকে। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই বলতে চাই—আদালতের স্বচ্ছতা, বিচারের মান ও নিরপেক্ষতা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হোক। আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে যে বিষয়গুলো আলোচিত হচ্ছে ১. আদালত অবমাননার আইনটি খুবই পুরনো (১৯২৬ সালের ব্রিটিশ আমলের আইন)। ২. সংবিধানমতে আদালত অবমাননার বিষয়টি আইনের দ্বারা প্রয়োগ হবে। অথচ বিদ্যমান আইনগুলো খুবই অস্পষ্ট। ঠিক কী কী করলে আদালত অবমাননা হবে তা পরিষ্কার করে বলা নেই। সেজন্য বিভিন্ন মতাদর্শের সংবাদপত্রের মধ্যে দুয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সবাই একমত হয়েছে, ওই আইনগুলোর সংস্কার প্রয়োজন এবং এগুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা দরকার। আদালত অবমাননার আইন ও বিচারের ধারা পশ্চিমা বিশ্বে আমূল পাল্টে গেছে।
এখানে আইনের অস্পষ্টতা এবং কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় সাংবাদিক ও সংবাদপত্র পাঠক বুঝে উঠতে পারে না তাদের জানার বা প্রকাশ করার অধিকারের সীমারেখা কোথায়। স্বাভাবিকভাবে বোঝা যায়, আদালতের কাজে বাধা দেয়া বা আদালত সম্পর্কে জনগণের মধ্যে কোনো ঘৃণা প্রকাশ করা আদালত অবমাননার মধ্যে পড়ে। এ নিয়ে দেশে দেশে বিচারপতিরা নিজেদের মত অনুযায়ী রায় দিয়ে থাকেন। যেহেতু সাংবাদিকতার মূল কাজই হলো সত্য প্রকাশের মাধ্যমে সমাজের সেবা করা, তাই যদি বিচারালয়েও কোনো অসঙ্গতি দেখা দেয় তবে সাংবাদিকদের প্রবণতা হবে এটা সবার সামনে প্রকাশ করা; এর মাধ্যমে আদালতের সম্মান, স্বাধীনতা ও ভাবমূর্তি অটুট রাখা এবং একইসঙ্গে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হলে আদালতের স্বচ্ছতা রক্ষা করা ও বিতর্কের অবসান ঘটানো। এর পাশাপাশি সংবাদপত্রের স্বীকৃত ইতিবাচক ভূমিকা যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, তার নিশ্চয়তা বিধান করাও জরুরি। জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে এর একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসা অসম্ভব কিছু নয়।
আমি সর্বোচ্চ আদালতের এ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাই। আসন্ন ঈদ এক্ষেত্রে একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে। যাতে সবারই পক্ষে আনন্দঘন পরিবেশে পবিত্র ঈদ পালন করা সম্ভব হয় সেটা বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালতের রায় মান্য করে তারা এর মধ্যেই জেল খেটেছেন। এখন তাদের দণ্ড পুনর্বিবেচনা করে কমিয়ে দেয়া যায়। আমি আশা করব মহামান্য রাষ্ট্রপতিও এক্ষেত্রে ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতে পারেন। তিনি তার নিজ ক্ষমতাবলে সাংবিধানিকভাবেই সাজা মওকুফ করে ঈদের আগেই তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারেন। তাহলে জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদা ও সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে।
লেখক : অধ্যাপক ও সভাপতি
সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?