Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২০ ভাদ্র ১৪১৭, ২৪ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ফিতরার মুখ্য উদ্দেশ্য রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা আদায়

মুহাম্মদ তৈয়্যেব হোসাইন
এবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রথমে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফিতরার হার ঘোষণা করা হয় একশ’ টাকা। এ নিয়ে দেশের আলেম সমাজ এমনকি সাধারণ মুসলমানদের মধ্যেও বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পরপরই লালবাগ মাদ্রাসার শরয়ী বোর্ডের পক্ষ থেকে ফিতরার সর্বনিম্ন হার ঘোষণা করা হয় ৪৫ টাকা। দেশের আলেম সমাজ লালবাগ মাদ্রাসা ঘোষিত ফিতরার হারকে সমর্থন দেন এবং সাধারণ জনগণ এই হারের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেন। আর সরকারিভাবে ঘোষিত ফিতরার হারকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তারা তাদের আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফিতরার সর্বনিম্ন হার পুনরায় ৪৫ টাকা ঘোষণা করতে বাধ্য হন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রথমে তারা যে থিওরির ওপর ভিত্তি করে ফিতরার হার ঘোষণা করে, তা ছিল গরিব জনগোষ্ঠীকে ঈদের আনন্দে শরিক করার উদ্দেশ্যে ইসলাম বিত্তবানদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব করেছে। আসলে এটি ফিতরার প্রাসঙ্গিক উদ্দেশ্য হতে পারে, মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। ফিতরার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা আদায়। গরিবদের ঈদের আনন্দে শরিক করার জন্যই বিত্তবানদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব হয়নি বিষয়টি হাদিসের বর্ণনা দ্বারা একেবারেই স্পষ্ট। সুতরাং যারা এ ভুল থিওরিকে ভিত্তি করে ফিতরা ঘোষণা করেছেন, তাদের উচিত ইসলামী বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের শরণাপন্ন হয়ে তাদের পরামর্শ নিয়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দেয়া।
সদকায়ে ফিতরের মাসআলাগুলো নিম্নরূপ—
এক. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। জাকাত ও সদকায়ে ফিতরের মধ্যে পার্থক্য এই যে, জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ মালিকের কাছে পূর্ণ এক বছর থাকতে হবে। পক্ষান্তরে সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য বছর অতিক্রান্ত হওয়া আবশ্যক নয়; বরং ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার ওপরও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে।
দুই. গম, গমের আটা, যব, যবের আটা, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়। গম বা গমের আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করলে অর্ধ সা (১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) এবং যব বা যবের আটা, খেজুর, কিশমিশ কিংবা পনির দ্বারা আদায় করলে এক সা (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) দিতে হবে। রুটি, চাল বা অন্য খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা দিতে হলে মূল্য হিসেবে দিতে হবে।
তিন. ঈদের রাতে সুবহে সাদিকের আগে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। আর সুবহে সাদিকের পর ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়।
চার. ঈদের রাতে সুবহে সাদিকের আগে কেউ মারা গেলে তার ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়। আর সুবহে সাদিকের পর মারা গেলে সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে।
পাঁচ. একই হুকুম যে ব্যক্তি সুবহে সাদিকের আগে মুসলমান হবে তার ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। সুবহে সাদিকের পর মুসলমান হলে ওয়াজিব নয়।
ছয়. ঈদের দিন ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে সদকায়ে ফিতর আদায় করা উত্তম। যদি তা না করে তবে ঈদের নামাজের পর তা আদায় করতে হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সদকায়ে ফিতর আদায় না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা আদায় করা ওই ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হবে।
সাত. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নয় অর্থাত্ যার ওপর কোরবানি ও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়, এমন ব্যক্তিকে সদকায়ে ফিতর দেয়া জায়েজ।
আট. নিজের আত্মীয়-স্বজনকে সদকায়ে ফিতর দেয়া যাবে, তবে বাবা-মা নিজ সন্তানকে এবং সন্তান নিজ বাবা-মা, দাদা-দাদি ও নানা-নানিকে সদকা দিতে পারবে না।
নয়. গরিব মুসলমানকে সদকায়ে ফিতরের মালিক বানিয়ে দিতে হবে। সদকায়ে ফিতরের টাকা সরাসরি মসজিদ-মাদ্রাসা ইত্যাদির কাজে লাগানো যাবে না।
দশ. এক ব্যক্তির সদকায়ে ফিতর একাধিক গরিবকে দেয়া যায় এবং একাধিক ব্যক্তির সদকায়ে ফিতর একজন গরিবকে দেয়া যায়।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?