Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২০ ভাদ্র ১৪১৭, ২৪ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

তিন ক্রিকেটারকে সাসপেন্ড করল আইসিসি পাকিস্তানের প্রতিবাদ

স্পোর্টস ডেস্ক
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) তরফ থেকে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ ওঠা তিন ক্রিকেটারকে আড়াল করার একটা চেষ্টা ছিল। কিন্তু ‘স্পট ফিক্সিং’ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে আইসিসি জানিয়ে দিল, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হলো পাকিস্তানের তিন ক্রিকেটার—টেস্ট অধিনায়ক সালমান বাট এবং দুই ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমিরকে।
এই প্রথম আইসিসি ম্যাচ গড়াপেটার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে নিজেরাই সর্বসম্মতভাবে ব্যবস্থা নিল। আইসিসির তরফ থেকে প্রধান নির্বাহী হারুন লর্গাত এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের দুর্নীতি দমন আইন মোতাবেক অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটারকে সাময়িক সাসপেন্ড করা হলো। লর্ডস টেস্টে তাদের বিরুদ্ধে ক্রিকেটের চেতনাবিরোধী কাজের জন্য অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য ক্রিকেটাররা ১৪ দিন সময় পাবেন।
এর আগে পিসিবি জানিয়েছিল—বাট, আসিফ এবং আমিরকে তাদের অনুরোধেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি এবং ওয়ানডে সিরিজ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। কারণ, গত ক’দিনের ঘটনায় তারা মানসিক নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। এমন অবস্থায় তারা খেলার জন্য তৈরি নন। একই সঙ্গে লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনার ওয়াজিদ শামসুল হাসান জানান, তিন ক্রিকেটারই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছে। তাদের আইনি সহায়তা দেয়া হবে।
পুরো ব্যাপারটি এখন আর পিসিবির হাতে নেই। এ নিয়ে যা করার এখন থেকে পাকিস্তান সরকারই করবে। সরকার থেকে বোর্ড কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, তারা যেন আগ বাড়িয়ে কোনো কথা না বলেন। এতে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ন হতে পারে। এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটারদের শাস্তি নিয়ে মুখ খুলতেও বারণ করা হয়েছে পিসিবির কর্মকর্তাদের। সেই জন্যই সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য রাখছেন হাইকমিশনার শামসুল হাসান।
তাই আইসিসির বিবৃতির প্রতিবাদও এসেছে পাকিস্তান হাইকমিশনারের তরফ থেকেই। আইসিসি তিন ক্রিকেটারকে সাসপেন্ড করায় তার প্রতিবাদ করেছেন হাসান। বলেছেন, এ ধরনের শাস্তি ঘোষণার কোনো এখতিয়ার আইসিসির নেই। আইসিসি গ্যালারিতে বসে খেলছে।
পাকিস্তান হাইকমিশনার বলেন, আরো বিতর্ক এড়াতে ওই তিন ক্রিকেটার নিজেরাই চলতি ইংল্যান্ড সফরে আর খেলবেন না বলে জানিয়েছেন। তারা এখন লড়বেন তাদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য, নিজেদের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার জন্য। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে এক জুয়াড়ি। যেটি এখনও প্রমাণ হয়নি। ব্যাপারটি এখনও তদন্তাধীন। কাজেই এমন অবস্থায় আইসিসি ওই তিন ক্রিকেটারকে সাসপেন্ড করতে পারে না।
হাসান জানান, তার সঙ্গে আলাপকালে আইসিসির প্রধান নির্বাহী লর্গাতের মনোভাব ছিল খুবই সহযোগিতামূলক এবং সহানুভূতিশীল। বলেছেন, ‘অভিযোগের ব্যাপারে যে সব তথ্য পাওয়া গেছে, যে সমস্ত খবরা-খবর সংগ্রহ করা হয়েছে তার ভিত্তিতে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড কোনো অভিযোগপত্র দাখিল করেনি। তাহলে আইসিসি কিভাবে তা করে?’
পাকিস্তান হাইকমিশনারের ইঙ্গিত অবশ্য অন্যদিকে। তিনি জানান, তার এবং লর্গাতের মধ্যে আলোচনা চলার সময়ই আইসিসির প্রেসিডেন্ট ভারতের শারদ পাওয়ার ফোন করেন লর্গাতকে। মোবাইল নিয়ে বাইরে চলে যান লর্গাত। পাওয়ারের সঙ্গে তার কি কথা হয়েছে সেটি আমি জানি না। কিন্তু সেদিন রাতেই হঠাত্ করে আইসিসি তিন ক্রিকেটারকে সাসপেন্ড করে।’
শামসুল হাসান জানতে চান, যদি খেলোয়াড়রা নির্দোষ বলে প্রমাণ হন তাহলে আইসিসির এই সাসপেন্ডের কোনো মূল্য থাকবে কি? খেলোয়াড়দের মানহানির দায় তখন কে নেবে?
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?