Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২০ ভাদ্র ১৪১৭, ২৪ রমজান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

যৌতুকের বলি রাবেয়া

স্টাফ রিপোর্টার
শ্বশুরপক্ষের দাবি অনুযায়ী দফায় দফায় যৌতুক দিয়েও সুখ হয়নি দরিদ্র বাবার অসহায় কন্যা রাবেয়ার। শ্বশুরপক্ষের নির্যাতনে দু’দিন হাসপাতালে অচেতন থাকার পর মৃত্যু হয় রাবেয়ার। বাবা ফয়েজ আহম্মেদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে উল্টো বেকায়দায় পড়েছেন। আসামিদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেকদি গ্রামে।
জানা গেছে, চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের ফয়েজ আহম্মেদের কন্যা রাবেয়া বেগমের সঙ্গে এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয় ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেকদি ভূঁইয়া বাড়ির মোন্নাফ ভূঁইয়ার ছেলে আলী আহম্মদ ভূঁইয়া ওরফে টুইনার। ২০০২ সালের ১৫ জুলাই ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। ৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের শেষে চলতি বছরের ২৪ মে তাদের সংসারে যমজ সন্তান জন্ম নেয়। দাম্পত্য জীবনের মাঝে রাবেয়ার স্বামী টুইনা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথম দফায় তিন লাখ টাকা দাবি করে রাবেয়ার ওপর অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এ অবস্থায় বাবা ফয়েজ মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জমি বিক্রি করে জামাইর দাবি মেটান। এরপর তারা আরও দু’লাখ টাকার জন্য নির্যাতন শুরু করে। দ্বিতীয় দফায় টাকা দিলে রাবেয়ার স্বামী টুইনা সৌদি আরব চলে যান। এরপরও থেমে থাকেনি নির্যাতন। ১২ আগস্ট সকাল ৯টায় সৌদি থেকে রাবেয়ার স্বামী টুইনা মোবাইল ফোনে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর তারা রাবেয়ার ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে তারা রাবেয়ার শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দেয়। এতে রাবেয়ার গোটা শরীর ঝলসে যায়।
এ অবস্থা দেখে প্রতিবেশীরা তার চিকিত্সার জন্য এগিয়ে এলে টুইনার বাবা-মা তাদের বাধা দেয়। তারা রাবেয়াকে একটি ডোবায় ফেলে দেয়। এ ঘটনা জানাজানির পর রাবেয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করে রাবেয়া হাসপাতালেই মারা যায়। এ ঘটনায় তার বাবা ফয়েজ আহম্মেদ ফরিদগঞ্জ থানায় পরদিন ১৩ আগস্ট একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রধান আসামি রাবেয়ার শ্বশুর মোন্নাফ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। রাবেয়া মারা যাওয়া এবং তার শ্বশুর গ্রেফতারের খবর পেয়ে রাবেয়ার স্বামী টুইনা সৌদি থেকে দেশে এসে মামলার বাদী রাবেয়ার বাবাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়েও তিনি পাননি বলে জানান।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?