পদ্মা তিস্তা ও কীর্তিনাশায় ভাঙন : ঈদ আনন্দবঞ্চিত শত শত পরিবার
ডেস্ক রিপোর্ট
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে ৭ হাজার পরিবার। গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার। হুমকির মুখে পড়েছে তিস্তা প্রতিরক্ষা ডানতীর বাঁধ। শরীয়তপুরে পদ্মা ও কীর্তিনাশায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাবনার ইছামতির নদী খনন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের খবরে :
চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) : ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মার ভাঙনকবলিত ৭ হাজার পরিবারের মধ্যে হতদরিদ্র প্রায় ৩ হাজার ছিন্নমূল পরিবারে এ বছর ঈদ আনন্দ নেই। গত ১৫ দিন ধরে বন্যাকবলিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বাররা একদিন দেখতেও আসেননি বলে দুর্গতরা আক্ষেপ করেন। তবে স্থানীয় এমপির তহবিল থেকে ৯শ’ পিস শাড়ি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৭৫ পিস নতুন কাপড় উপজেলার দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুর্গত এলাকা ঘুরে জানা যায়, পদ্মার গর্ভে সর্বস্ব হারিয়ে উপজেলার ভাঙনকবলিত পরিবারের অনেকে গত ক’বছর ধরে রাস্তার আশপাশে, বেড়িবাঁধে ও সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে আসছে। তাদের বেশিরভাগই দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক ও মত্স্যজীবী পরিবার।
গঙ্গাচড়া : রংপুরে গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে নাকাল চরবাসী। অব্যাহত ভাঙনে এ বছর শত শত পরিবার সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর একটি চরের নাম জয়রামওঝা। এ চরে বাস করত ৬শ’ পরিবার। গত এক মাসে ওই চরের শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গেছে নদীতে। শুধু গতকালই একদিনে ভেঙেছে ১০ পরিবারের ঘরবাড়ি।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লোকজনের মধ্যে চরম আর্তনাদ। তারা সবাই ব্যস্ত। ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। আবাদি জমি, ফসলের ক্ষেত, গাছপালা সবই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
জয়রামওঝার মতো নোহালী ইউনিয়নের চরনোহালী, বাগডহরা, পূর্বকচুয়া এলাকায় এ বছর ১০৬ পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কোলকোন্দ ইউনিয়নে চিলাখাল, মটুকপুর ও বিনবিনা এলাকায় ৫০ পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গেছে নদীতে। গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নে চরধামুর এলাকায় ভেঙেছে ২০ পরিবারের বাড়িঘর। তাছাড়া অন্যান্য চরেও রয়েছে ভাঙন। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা এলাকার ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া জানান, এ বছর গঙ্গাচড়ার মধ্যে জয়রামওঝা চরেই ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলে অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর চরম দুর্ভোগ।
এদিকে তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার গান্নারপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন স্পার। সেই সঙ্গে ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে গান্নারপাড় এলাকার স্কুল, মসজিদ, ক্লিনিক ও তিস্তা প্রতিরক্ষা ডানতীর বাঁধ। অবশেষে বাঁশ ও গাছ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান গতকাল জানান, ১ হাজার পিস পাথর ডাম্পিং করার পরও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে বাঁশ ও গাছ দিয়ে ভাঙন রোধে চেষ্টা করা হচ্ছে।
রংপুর পানি উন্নয় বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গান্নারপাড় এলাকা রক্ষার্থে গত বছর মহিপুর-গান্নারপাড় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬৯ মিটার অংশে ব্লক পিচিংয়ের কাজ করা হয়। এরই মধ্যে কাজের ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই গত শুক্রবার রাত থেকে স্পারে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে প্রায় ৩০০ ফুট অংশের ব্লক পিচিং নদীগর্ভে চলে গেছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে বেশি করে হার্ডরক (পাথর) ডাম্পিং ও জরুরি ভিত্তিতে বাঁশের স্পার নির্মাণ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন। গত বুধবার সরেজমিন ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উজান থেকে তীব্র বেগে পানি এসে আঘাত করছে স্পারে। ভাঙনে ব্লক-পিচিং, জিও টেক্সটাইল নদীতে বিলীন হচ্ছে।
ওই কাজের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। তবে এ মুহূর্তে আমাদের করার কিছু নেই।
শরীয়তপুর : শরীয়তপুর জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীর পানি বৃদ্ধির পাওয়ায় এরই মধ্যে জেলার চরাঞ্চলের নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জাজিরা উপজেলার কণ্ডেরচর, পালেরচর ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম, নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, নওপাড়া ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম, ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ও চরভাগা ইউনিয়নে ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বেশ কিছু শীতকালীন ফসলের মাঠ ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘরে পানি উঠতে শুরু করেছে। এদিকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা, নাওডোবা ও পালেরচর এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৫ দিনে পদ্মার ভাঙনে মঙ্গলমাঝির ঘাট স্থানীয় সাত্তার মাদবরের হাটসহ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পদ্মার ভাঙনে অন্যদিকে নড়িয়া উপজেলার পাঁচগাঁও ও চণ্ডিপুর এবং জাজিরা উপজেলার পাইনপাড়া, মাঝিকান্দি ও ওসিমন মাদবর কান্দি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অর্ধশতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হান্নান বলেন, পদ্মা-মেঘনা বেষ্টিত শরীয়তপুরে কিছু এলাকায় প্রতিবছরই ভাঙন দেয়া দেয়। ভাঙন রোধে বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পাবনা : পাবনার ইছামতী নদী খনন বন্ধ হয়ে গেছে। নদী খননের জন্য ১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকার প্রকল্পের মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তবে দখল সংক্রান্ত জটিলতার কারণ এবং ঠিকাদারকে কর্তৃপক্ষের নদীর দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদীর পাড় খালি করে না দেয়ায় খনন কাজ বন্ধ হয়ে আছে। খনন করা ২ কিলোমিটার নদী আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইছামতী নদী খননের জন্য ১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণলয় (এলজিআরডি) খননের টাকা বরাদ্দ করে। প্রথম কিস্তিতে আসা ২ কোটি ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়ন করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। বাকি ৩০ লাখ টাকার কাজ করার কথা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু নদীর পাড় না থাকায় জেলা পরিষদ দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না।
চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) : ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মার ভাঙনকবলিত ৭ হাজার পরিবারের মধ্যে হতদরিদ্র প্রায় ৩ হাজার ছিন্নমূল পরিবারে এ বছর ঈদ আনন্দ নেই। গত ১৫ দিন ধরে বন্যাকবলিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বাররা একদিন দেখতেও আসেননি বলে দুর্গতরা আক্ষেপ করেন। তবে স্থানীয় এমপির তহবিল থেকে ৯শ’ পিস শাড়ি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৭৫ পিস নতুন কাপড় উপজেলার দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুর্গত এলাকা ঘুরে জানা যায়, পদ্মার গর্ভে সর্বস্ব হারিয়ে উপজেলার ভাঙনকবলিত পরিবারের অনেকে গত ক’বছর ধরে রাস্তার আশপাশে, বেড়িবাঁধে ও সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে আসছে। তাদের বেশিরভাগই দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক ও মত্স্যজীবী পরিবার।
গঙ্গাচড়া : রংপুরে গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে নাকাল চরবাসী। অব্যাহত ভাঙনে এ বছর শত শত পরিবার সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর একটি চরের নাম জয়রামওঝা। এ চরে বাস করত ৬শ’ পরিবার। গত এক মাসে ওই চরের শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গেছে নদীতে। শুধু গতকালই একদিনে ভেঙেছে ১০ পরিবারের ঘরবাড়ি।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লোকজনের মধ্যে চরম আর্তনাদ। তারা সবাই ব্যস্ত। ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। আবাদি জমি, ফসলের ক্ষেত, গাছপালা সবই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
জয়রামওঝার মতো নোহালী ইউনিয়নের চরনোহালী, বাগডহরা, পূর্বকচুয়া এলাকায় এ বছর ১০৬ পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কোলকোন্দ ইউনিয়নে চিলাখাল, মটুকপুর ও বিনবিনা এলাকায় ৫০ পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গেছে নদীতে। গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নে চরধামুর এলাকায় ভেঙেছে ২০ পরিবারের বাড়িঘর। তাছাড়া অন্যান্য চরেও রয়েছে ভাঙন। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা এলাকার ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া জানান, এ বছর গঙ্গাচড়ার মধ্যে জয়রামওঝা চরেই ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলে অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর চরম দুর্ভোগ।
এদিকে তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার গান্নারপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন স্পার। সেই সঙ্গে ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে গান্নারপাড় এলাকার স্কুল, মসজিদ, ক্লিনিক ও তিস্তা প্রতিরক্ষা ডানতীর বাঁধ। অবশেষে বাঁশ ও গাছ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান গতকাল জানান, ১ হাজার পিস পাথর ডাম্পিং করার পরও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে বাঁশ ও গাছ দিয়ে ভাঙন রোধে চেষ্টা করা হচ্ছে।
রংপুর পানি উন্নয় বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গান্নারপাড় এলাকা রক্ষার্থে গত বছর মহিপুর-গান্নারপাড় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬৯ মিটার অংশে ব্লক পিচিংয়ের কাজ করা হয়। এরই মধ্যে কাজের ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই গত শুক্রবার রাত থেকে স্পারে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে প্রায় ৩০০ ফুট অংশের ব্লক পিচিং নদীগর্ভে চলে গেছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে বেশি করে হার্ডরক (পাথর) ডাম্পিং ও জরুরি ভিত্তিতে বাঁশের স্পার নির্মাণ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন। গত বুধবার সরেজমিন ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উজান থেকে তীব্র বেগে পানি এসে আঘাত করছে স্পারে। ভাঙনে ব্লক-পিচিং, জিও টেক্সটাইল নদীতে বিলীন হচ্ছে।
ওই কাজের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। তবে এ মুহূর্তে আমাদের করার কিছু নেই।
শরীয়তপুর : শরীয়তপুর জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীর পানি বৃদ্ধির পাওয়ায় এরই মধ্যে জেলার চরাঞ্চলের নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জাজিরা উপজেলার কণ্ডেরচর, পালেরচর ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম, নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, নওপাড়া ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম, ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ও চরভাগা ইউনিয়নে ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বেশ কিছু শীতকালীন ফসলের মাঠ ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘরে পানি উঠতে শুরু করেছে। এদিকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা, নাওডোবা ও পালেরচর এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৫ দিনে পদ্মার ভাঙনে মঙ্গলমাঝির ঘাট স্থানীয় সাত্তার মাদবরের হাটসহ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পদ্মার ভাঙনে অন্যদিকে নড়িয়া উপজেলার পাঁচগাঁও ও চণ্ডিপুর এবং জাজিরা উপজেলার পাইনপাড়া, মাঝিকান্দি ও ওসিমন মাদবর কান্দি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অর্ধশতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হান্নান বলেন, পদ্মা-মেঘনা বেষ্টিত শরীয়তপুরে কিছু এলাকায় প্রতিবছরই ভাঙন দেয়া দেয়। ভাঙন রোধে বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পাবনা : পাবনার ইছামতী নদী খনন বন্ধ হয়ে গেছে। নদী খননের জন্য ১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকার প্রকল্পের মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তবে দখল সংক্রান্ত জটিলতার কারণ এবং ঠিকাদারকে কর্তৃপক্ষের নদীর দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদীর পাড় খালি করে না দেয়ায় খনন কাজ বন্ধ হয়ে আছে। খনন করা ২ কিলোমিটার নদী আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইছামতী নদী খননের জন্য ১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণলয় (এলজিআরডি) খননের টাকা বরাদ্দ করে। প্রথম কিস্তিতে আসা ২ কোটি ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়ন করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। বাকি ৩০ লাখ টাকার কাজ করার কথা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু নদীর পাড় না থাকায় জেলা পরিষদ দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


