নবীগঞ্জে অবাধে কাটা হচ্ছে পাহাড়-টিলা : একই পরিবারের ৬ জনসহ ৩০ জনের প্রাণহানি
কিবরিয়া চৌধুরী, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলে সরকারি আইন অমান্য করে অবাধে পাহাড় ও টিলা কেটে উজাড় করছে প্রভাবশালীরা। ফলে পাহাড় ও টিলা ধসে মৃত্যুঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। গত ৫ বছরে নবীগঞ্জের দিনারপুরে পাহাড়ে মাটিচাপা পড়ে একই পরিবারের ৬ জনসহ অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত এক যুগে উপজেলার ৫শ’রও বেশি সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড়-টিলা সম্পূর্ণ অথবা আংশিক কেটে সমান করা হয়েছে। ফলে এসব পাহাড় ও টিলা ধসে মৃত্যুঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এগুলো বেশিরভাগই কাটা হয়েছে আবাসিক প্রকল্প, বাণিজ্যিক মার্কেট কিংবা ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি ও ঘর তৈরির মাটি ভরাটের জন্য। এছাড়া ২০০১ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হলে নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর অঞ্চলের পাহাড় কেটে উজাড় করে মাটি নেয়া হয়। এসব পাহাড়-টিলা কাটার ফলে দ্রুত প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটছে। বিলীন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য আর পরিবর্তন হচ্ছে ভূমির মানচিত্র। এছাড়া পাহাড়-টিলা কেটে এর পাদদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর। ফলে বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই পাহাড় ধসে ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা। গতবছর নবীগঞ্জের দিনারপুর পাহাড়ি এলাকায় মাটিচাপা পড়ে মর্মান্তিকভাবে একই পরিবারের ৬ জন এবং মহাসড়কে মাটি নেয়ার সময় পাহাড় ধসে ৩ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। জানা যায়, একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে এসব পাহাড়-টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। এমনকি সরকারি রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড় এবং টিলার মাটি ও বালু। সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতার সুযোগে রাজনৈতিক দলের মদতপুষ্ট লোকজন নির্বিচারে পাহাড়-টিলা কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা সরকারি বা শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরবতা পালন করছে। আবার মাঝেমধ্যে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে টিলার মাটি কাটায় জড়িত ব্যক্তি ও পরিবহন আটক করলেও রাজনৈতিক চাপে অথবা উেকাচের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। এদিকে জমির দামের ঊর্ধ্বগতিতে অনেকেই প্রলুব্ধ করছে ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড়-টিলা কেটে সমান করে বিক্রি করতে। হাউজিং ব্যবসা ও বাণিজ্যিক মার্কেটে পাহাড়-টিলার মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মাঝেমধ্যে ট্রাক ও শ্রমিকদের আটক করলেও পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। কিন্তু আসল অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর ফলে নবীগঞ্জ উপজেলার পরিবেশ-পরিস্থিতি এখন হুমকির মুখে। বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ঘুরে জানা যায়, দিনারপুর এলাকার পাহাড়ি মাটিগুলো প্রতিট্রাক ৫০ থেকে ৬০ টাকা ধরে বিক্রি করা হয়েছে। কান্দিগাঁও গ্রামের নূর উল্লাহ জানান, বিশ্বরোড নির্মাণের সময় ৪০ হাজার টাকায় তার বাড়ির দুটি বিশাল পাহাড় বিক্রি করেছেন। পাহাড় দুটি ছিল ওই এলাকার উঁচু টিলা। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ বলেন, আমাদের এলাকার শতাধিক পাহাড় ও টিলা কেটে উজাড় করা হয়েছে। এসব টিলা ও পাহাড়ের মাটি পানির দরে বিক্রি করা হয়েছে। সঠিক মূল্য পায়নি মালিকরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনামনি চাকমা বলেন, এসব টিলা ও পাহাড়ের মাটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


