বন্দিজীবনের যন্ত্রণাভরা ৫৪৪ দিন
মাহাবুবুর রহমান
সীমাহীন নির্যাতন আর দুঃসহ যন্ত্রনায় ৫৪৪ দিন বন্দি জীবন কাটিয়েছেন বিএনপির বর্তমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১১ জানুয়ারির সেনা সমর্থিত সাংবিধানিকভাবে অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্যাতনে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত এ নেতাকে কোন প্রকার মামলা ছাড়াই ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। নির্যাতনের স্টীম রোলার সহ্য করে পঙ্গু অবস্থায় তিনি জামিনে মুক্তি পান ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান ৬ দফায় ১৩ দিন রিমাণ্ড, রিমাণ্ডে সীমাহীন বর্বরোচিত নির্যাতন, নির্যাতনে মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙ্গা, হাসপাতালে ভর্তি, প্রিয় নানীকে হারানো, মা ও একমাত্র ভাইয়ের কারাবরণ ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে কারাগার ও হাসপাতালের প্রিজন সেলে এক বছর ৫ মাস ২৯ দিন কাটান। বন্দি থাকা অবস্থায়ও তারেক রহমান তত্কালীন সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হন।
গ্রেফতারের জন্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তারেক রহমানের বাসায় গেলে প্রথমে তিনি তাদের কাছ থেকে কিছুটা সময় নিয়ে অজু সেরে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করেন। যাওয়ার সময় তিনি বই পুস্তকের সঙ্গে পবিত্র কুরআন শরিফও নেন। ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে পরদিন ৮ মার্চ রাত ১০টায় তারেক রহমানকে কড়া পুলিশী প্রহরায় র্যাবের জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
গ্রেফতারের ১৬ ঘন্টা পর গুলশান থানায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী আমিন আহমেদ চৌধুরীর দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুরের আবেদন করে। গ্রেফতারের পর বিশেষ উদ্দেশ্যে দায়ের করা সাজানো এ মামলায় রিমাণ্ড মঞ্জুর না করে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য শ’শ আইনজীবী জোরালো প্রার্থনা জানান। আইনজীবীদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালত ৪ দিনের পুলিশ রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। রিমাণ্ড মঞ্জুরের পর তারেক রহমানকে পুলিশের হেফাজতে না নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে অজ্ঞাত লোকদের হেফাজতে নিয়ে চোখ বেঁধে বর্বরোচিত কায়দায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে পরবর্তীতে তিনি আদালতকে অবহিত করেন।
প্রথম দফা চার দিন রিমাণ্ড শেষে ১২ মার্চ তারেক রহমানকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পর্যায়ক্রমে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১২ মামলা দায়েরের পাশাপাশি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশনও দেয়া হয়। তারেক রহমানকে ৬ দফায় ১৩ দিন রিমাণ্ডের নামে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। একই বছর ১৯ নভেম্বর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে হারুন ফেরদৌসীর দায়ের করা মামলায় ২ দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়। ২৬ নভেম্বর সৈয়দ আবু সাহেদ সোহেলের দায়ের করা মামলায় তিন দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়। এ মামলার রিমাণ্ড শেষে ২৮ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে খান আফতাবউদ্দিনের দায়ের করা মামলায় ফের দুই দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়। এ মামলায় রিমাণ্ডে নেয়ার আগে তারেক রহমান সরকারের হেফাজতে থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ওই দিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের অনুমতি নিয়ে তিনি তার ওপর অমানবিক নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরে বক্তৃতা করেন। তিনি আদালতে বলেন, এবার রিমাণ্ডে নিলে আমি আর বাঁচবো না। আমি রিমাণ্ডে শারিরীকভাবে এতটাই নির্যাতনের শিকার হয়েছি যে, এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছি না। চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আমাকে ক্রস ফায়ারে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে। আদালতে তারেক রহমান বলেন, ২৪ ঘন্টা মোটা কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।
সেদিনের বক্তব্যে শুধু আইনজীবীরাই নন, গোটা আদালতে উপস্থিত সকলেই বিচলিত ও বিষণ্ন হয়ে পড়েন। ক্ষুব্ধ হয় দেশবাসী। এক মাস বিরতির পর ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি তারেক রহমানকে পুনরায় আদালতে হাজির করে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় এক দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়। ওই বছরের ২৭ মার্চ খান আফতাবউদ্দিনের দায়ের করা আরেকটি মামলায় তারেক রহমানকে এক দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়।
২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি তারেক রহমানের নানি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মা বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা বেগম তৈয়বা মজুমদার ইনতেকাল করেন। নানিকে শেষবারের মতো দেখার জন্য তারেক রহমানকে পরদিন দুপুর ১২টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। নিজের ভগ্ন শরীর নিয়ে প্রিয় নানিকে দেখে সেদিন তারেক রহমান অনেক কাঁদলেন। কাঁদালেন উপস্থিত সবাইকে। এদিন জিয়া পরিবারের কারাবন্দি অপর দুই সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোকেও প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু সরকার তাদের কাউকেই কারো সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। অথচ সেই সরকারই প্যারোলে মুক্তিপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিবার-পরিজনের সাথে বসবাসেরও অনুমতি দিয়েছে।
সরকারের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন এবং সঠিক চিকিত্সা না হওয়ায় তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তাকে পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তারেক রহমানকে পিজি হাসপাতাল থেকে এম্বুলেন্সে করে বিশেষ আদালতে নেয়া হয়। আদালতে হুইল চেয়ারে তিন মিনিট বসিয়ে রাখার পর তার মেরুদণ্ডের ব্যথা শুরু হয়। তার সঙ্গে থাকা পিজি হাসপাতালের চিকিত্সকের সুপারিশে তাকে পুনরায় অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
আদালতে চিকিত্সকের দেয়া মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, তারেকের স্পেশালাইজড অর্থোপেডিক ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। তার মেরুদণ্ডের কয়েকটি হাঁড় ভেঙ্গে গেছে। কয়েকটি হাঁড় বেঁকে গেছে। ফলে তাকে বেশিক্ষণ বসিয়ে রাখা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পরবর্তীতে তারেক রহমানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের সমন্বয়ে পর্যায়ক্রমে তিনটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। প্রতিটি বোর্ডই দু্রত উন্নত চিকিত্সার জন্য তারেক রহমানকে বিদেশের অর্থোপেডিক, ফিজিওথেরাপি, কার্ডিওলজি ও রেডিওগ্রাফির সুবিধা সম্বলিত যে কোন হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়।
সংসদ ভবনের বিশেষ আদালত-৩ এর বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিনের আদালতে শুনানিকালে তারেক রহমান কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীদের বিরোধিতা সত্ত্বেও ৬ জুলাই আদালত তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন। ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি মিললেও চিকিত্সার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো নিয়ে চলতে থাকে নানা টালবাহানা। শেখ হাসিনাকে বিদেশে পাঠাতে রাতের আঁঁধারে আদালত বসিয়ে টেলিফোন করে বিচারককে বাসা থেকে ডেকে সরকারী আইনজীবীরা অব্যাহতির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তারেক রহমানের বিষয়ে সরকারী আইনজীবীদের ভুমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তারেক রহমানের আইনজীবীরা। শেষ পর্যন্ত আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পরেই শুধু তারেক রহমান চিকিত্সার জন্য বিদেশে যেতে পারেন।
লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিত্সা চলছে। আল্লাহর মেহেরবাণীতে তিনি আরোগ্যের পথে। তবে দীর্ঘস্থায়ী ও নিয়মিত এই চিকিত্সা শেষে কতদিনে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে পারবেন—তা বলা এখনও চিকিত্সকদের জন্যও সম্ভব হয়নি। দেশবাসীর দোয়ায় নতুন প্রজন্মের এই উদীয়মান নেতা শীঘ্র আরোগ্য লাভ করে তার প্রিয় দেশ, রাজনৈতিক সহকর্মী ও দেশবাসীর কাছে ফিরে আসার প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন— দেশবাসীও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে বরণ করে নেয়ার জন্য।
লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক।
স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান ৬ দফায় ১৩ দিন রিমাণ্ড, রিমাণ্ডে সীমাহীন বর্বরোচিত নির্যাতন, নির্যাতনে মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙ্গা, হাসপাতালে ভর্তি, প্রিয় নানীকে হারানো, মা ও একমাত্র ভাইয়ের কারাবরণ ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে কারাগার ও হাসপাতালের প্রিজন সেলে এক বছর ৫ মাস ২৯ দিন কাটান। বন্দি থাকা অবস্থায়ও তারেক রহমান তত্কালীন সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হন।
গ্রেফতারের জন্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তারেক রহমানের বাসায় গেলে প্রথমে তিনি তাদের কাছ থেকে কিছুটা সময় নিয়ে অজু সেরে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করেন। যাওয়ার সময় তিনি বই পুস্তকের সঙ্গে পবিত্র কুরআন শরিফও নেন। ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে পরদিন ৮ মার্চ রাত ১০টায় তারেক রহমানকে কড়া পুলিশী প্রহরায় র্যাবের জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
গ্রেফতারের ১৬ ঘন্টা পর গুলশান থানায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী আমিন আহমেদ চৌধুরীর দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুরের আবেদন করে। গ্রেফতারের পর বিশেষ উদ্দেশ্যে দায়ের করা সাজানো এ মামলায় রিমাণ্ড মঞ্জুর না করে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য শ’শ আইনজীবী জোরালো প্রার্থনা জানান। আইনজীবীদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালত ৪ দিনের পুলিশ রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। রিমাণ্ড মঞ্জুরের পর তারেক রহমানকে পুলিশের হেফাজতে না নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে অজ্ঞাত লোকদের হেফাজতে নিয়ে চোখ বেঁধে বর্বরোচিত কায়দায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে পরবর্তীতে তিনি আদালতকে অবহিত করেন।
প্রথম দফা চার দিন রিমাণ্ড শেষে ১২ মার্চ তারেক রহমানকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পর্যায়ক্রমে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১২ মামলা দায়েরের পাশাপাশি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশনও দেয়া হয়। তারেক রহমানকে ৬ দফায় ১৩ দিন রিমাণ্ডের নামে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। একই বছর ১৯ নভেম্বর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে হারুন ফেরদৌসীর দায়ের করা মামলায় ২ দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়। ২৬ নভেম্বর সৈয়দ আবু সাহেদ সোহেলের দায়ের করা মামলায় তিন দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়। এ মামলার রিমাণ্ড শেষে ২৮ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে খান আফতাবউদ্দিনের দায়ের করা মামলায় ফের দুই দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়। এ মামলায় রিমাণ্ডে নেয়ার আগে তারেক রহমান সরকারের হেফাজতে থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ওই দিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের অনুমতি নিয়ে তিনি তার ওপর অমানবিক নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরে বক্তৃতা করেন। তিনি আদালতে বলেন, এবার রিমাণ্ডে নিলে আমি আর বাঁচবো না। আমি রিমাণ্ডে শারিরীকভাবে এতটাই নির্যাতনের শিকার হয়েছি যে, এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছি না। চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আমাকে ক্রস ফায়ারে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে। আদালতে তারেক রহমান বলেন, ২৪ ঘন্টা মোটা কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।
সেদিনের বক্তব্যে শুধু আইনজীবীরাই নন, গোটা আদালতে উপস্থিত সকলেই বিচলিত ও বিষণ্ন হয়ে পড়েন। ক্ষুব্ধ হয় দেশবাসী। এক মাস বিরতির পর ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি তারেক রহমানকে পুনরায় আদালতে হাজির করে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় এক দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়। ওই বছরের ২৭ মার্চ খান আফতাবউদ্দিনের দায়ের করা আরেকটি মামলায় তারেক রহমানকে এক দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়।
২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি তারেক রহমানের নানি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মা বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা বেগম তৈয়বা মজুমদার ইনতেকাল করেন। নানিকে শেষবারের মতো দেখার জন্য তারেক রহমানকে পরদিন দুপুর ১২টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। নিজের ভগ্ন শরীর নিয়ে প্রিয় নানিকে দেখে সেদিন তারেক রহমান অনেক কাঁদলেন। কাঁদালেন উপস্থিত সবাইকে। এদিন জিয়া পরিবারের কারাবন্দি অপর দুই সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোকেও প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু সরকার তাদের কাউকেই কারো সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। অথচ সেই সরকারই প্যারোলে মুক্তিপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিবার-পরিজনের সাথে বসবাসেরও অনুমতি দিয়েছে।
সরকারের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন এবং সঠিক চিকিত্সা না হওয়ায় তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তাকে পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তারেক রহমানকে পিজি হাসপাতাল থেকে এম্বুলেন্সে করে বিশেষ আদালতে নেয়া হয়। আদালতে হুইল চেয়ারে তিন মিনিট বসিয়ে রাখার পর তার মেরুদণ্ডের ব্যথা শুরু হয়। তার সঙ্গে থাকা পিজি হাসপাতালের চিকিত্সকের সুপারিশে তাকে পুনরায় অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
আদালতে চিকিত্সকের দেয়া মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, তারেকের স্পেশালাইজড অর্থোপেডিক ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। তার মেরুদণ্ডের কয়েকটি হাঁড় ভেঙ্গে গেছে। কয়েকটি হাঁড় বেঁকে গেছে। ফলে তাকে বেশিক্ষণ বসিয়ে রাখা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পরবর্তীতে তারেক রহমানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের সমন্বয়ে পর্যায়ক্রমে তিনটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। প্রতিটি বোর্ডই দু্রত উন্নত চিকিত্সার জন্য তারেক রহমানকে বিদেশের অর্থোপেডিক, ফিজিওথেরাপি, কার্ডিওলজি ও রেডিওগ্রাফির সুবিধা সম্বলিত যে কোন হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়।
সংসদ ভবনের বিশেষ আদালত-৩ এর বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিনের আদালতে শুনানিকালে তারেক রহমান কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীদের বিরোধিতা সত্ত্বেও ৬ জুলাই আদালত তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন। ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি মিললেও চিকিত্সার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো নিয়ে চলতে থাকে নানা টালবাহানা। শেখ হাসিনাকে বিদেশে পাঠাতে রাতের আঁঁধারে আদালত বসিয়ে টেলিফোন করে বিচারককে বাসা থেকে ডেকে সরকারী আইনজীবীরা অব্যাহতির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তারেক রহমানের বিষয়ে সরকারী আইনজীবীদের ভুমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তারেক রহমানের আইনজীবীরা। শেষ পর্যন্ত আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পরেই শুধু তারেক রহমান চিকিত্সার জন্য বিদেশে যেতে পারেন।
লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিত্সা চলছে। আল্লাহর মেহেরবাণীতে তিনি আরোগ্যের পথে। তবে দীর্ঘস্থায়ী ও নিয়মিত এই চিকিত্সা শেষে কতদিনে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে পারবেন—তা বলা এখনও চিকিত্সকদের জন্যও সম্ভব হয়নি। দেশবাসীর দোয়ায় নতুন প্রজন্মের এই উদীয়মান নেতা শীঘ্র আরোগ্য লাভ করে তার প্রিয় দেশ, রাজনৈতিক সহকর্মী ও দেশবাসীর কাছে ফিরে আসার প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন— দেশবাসীও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে বরণ করে নেয়ার জন্য।
লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


