সেইসব গাড়ি এখন মালিকের ঘরে : জেনারেল মইনের হাসপাতাল বানানো আর হলো না
নাছির উদ্দিন শোয়েব
জরুরি সরকারের আমলে বাজেয়াপ্ত করা বিভিন্ন ব্যক্তির বিলাসবহুল গাড়িগুলো একে একে মালিকের ঘরে ফিরে গেছে। ওয়ান ইলেভেনের প্রধান কুশীলব জেনারেল মইন ভিআইপিদের ওই বিলাসবহুল গাড়ি বিক্রি করে হাসপাতাল বানানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে ৬২টি বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। গাড়িগুলো রাখা হয়েছিল রাজধানীর বিভিন্ন থানা কম্পাউন্ডে। সেই গাড়ি আর বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। একে একে ৫২টি গাড়ি মালিকরা নিয়ে গেছেন। অবশিষ্ট ১০টি গাড়ি গুলশান, তেজগাঁও, ধানমন্ডি ও উত্তরা থানায় পড়ে আছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এগুলোও সহসাই মালিকরা ফিরে পাচ্ছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনটি কারণে গাড়ি আটক করা হতে পারে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি এনে থাকলে, এ ব্যাপারে মামলা করবে এনবিআর।
এনবিআরের আইন অনুযায়ী মালিকের সাজা হবে। আয়বহির্ভূত সম্পদে গাড়ি কিনে থাকলে এ ব্যাপারে মামলা করবে দুদক। অপরদিকে জাতীয় সংসদের এমপি কোটায় গাড়ি আমদানি করে ওই গাড়ি যদি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয় তাহলে এ ব্যাপারে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা থেকে যায়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে মামলা দায়ের করার কথা। কিন্তু বিভিন্ন সংস্থার ব্যাপক তদন্তের পরও এসব গাড়ি ও গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গাড়িগুলো আটক করার পরই দায়িত্ব শেষ করেছে। এতদিন কোন আইনে গাড়ি আটক ছিল এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগও নিশ্চিত ছিল না। ফলে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর পর্যায়ক্রমে গাড়িগুলো মালিকরা ফেরত পেয়ে যান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি সূত্র জানায়, ডিউটি ফ্রি গাড়ি এনে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট হওয়ার পর গাড়ি মালিকদের পক্ষে রায় হয়। অনেকেই আদালতের মাধ্যমে শুল্ক জরিমানা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে নিয়েছেন।
গাড়ি ফেরত পেয়েছেন এমন এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে বলেন, আদালতে আবেদন করার পর তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চেয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট থানায় চিঠি পাঠানো হয়। পুলিশকে গাড়িগুলো নিরাপদ কোনো স্থানে রাখার পরামর্শ দেন আদালত। কিন্তু গাড়িগুলো নিরাপদ কোনো স্থানে রাখেনি। এতগুলো মূল্যবান গাড়ি রাখার মতো কোনো ভালো স্থান না থাকায় অনেক গাড়ি থানা কম্পাউন্ডেই নষ্ট হয়ে যায়। গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে যায়। এগুলো সচল করতে আবার মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হয়েছে। অন্যদিকে গুলশান থানায় এখনও আটক রয়েছে সাবেক এমপি সালাহউদ্দিনের ৩টি গাড়ি। এ বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এখনও মূল্যবান গাড়িগুলো তারা ফেরত পাননি।
২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় আটক হওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের শত কোটি টাকার গাড়ি বিক্রি করে শিশুদের জন্য হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন তখনকার সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ; কিন্তু তার সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। কারণ কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ি আটক রাখা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আটক ব্যক্তিরা উচ্চ আদালতে যান। যথাযথ আইনি প্রকিয়ায় মুক্তি পান কারাগারে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। একই প্রক্রিয়ায় তাদের মূল্যবান গাড়িগুলোও উচ্চ আদালতের অনুমতিক্রমে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেন। পরিত্যক্ত অবস্থায়ও কয়েকটি গাড়ি উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এসব গাড়ি নগরীর বিভিন্ন থানা কম্পাউন্ডে অযত্নে-অবহেলায় ফেলে রাখা হয়।
আটক হওয়া গাড়ির মধ্যে ধানমন্ডি থানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বুলেট প্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ দুটি, নাজমুল হুদা, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, হারিস চৌধুরী, পঙ্কজ দেবনাথ ও রেজাউল করীম হীরার ১১টি, গুলশান থানায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ফজলুর রহমান পটল, আ হ ম মোস্তফা কামাল, মীর্জা আজম ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ৮টি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পার্টেক্স গ্রুপের মালিক এমএ হাসেম, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করীম ও ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমানের ৯টি, তেজগাঁও থানায় ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করীম, এনটিভির এমডি এনায়েতুর রহমান বাপ্পি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হোসেন ও ইস্টওয়েস্ট গ্রুপের ৭টি, শ্যামপুর থানায় সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান লুত্ফুর রহমান ও ৮৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার হাজি আবদুর রশিদ বাদশার ১২টি, রমনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক এমপি আবদুল করীমের ২টি, কাফরুল থানায় শেখ হেলালের ২টি, বাড্ডা থানায় কাজী মঞ্জুরুল আলমের ১টি, সূত্রাপুর থানায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শোয়েব আক্তার নিজামের ১টি, পল্টন থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর ১টি, খিলগাঁওয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল ও ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমের ৩টি, মোহাম্মদপুর থানায় পাবনার সাবেক এমপি তাজউদ্দীন খানের ১টি, পল্লবীতে সাবেক এমপি হারুন অর রশিদের ১টি ও ক্যান্টনমেন্টে সাবেক এমপি ও এনটিভির চেয়ারম্যান মোঃ মোসাদ্দেক আলী এবং গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ৩টি গাড়ি আটক ছিল।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, যেসব গাড়ি সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়েছিল সেগুলো ফেরত দেয়া হয়েছে। আর যেগুলোর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা আছে অথবা মামলার আলামত হিসেবে জব্দ রয়েছে সেসব গাড়ি এখনও ফেরত দেয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশ পেলে তারা প্রকৃত মালিককে যাচাইবাছাই করে ফেরত দেবে। এ ব্যাপারে মালিককে আদালতের অনুমতি আনতে হবে। আদালত যদি পুলিশকে অনুমতি দেয় তবেই তারা কিছু করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএমপির বিভিন্ন থানা কম্পাউন্ডে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজবেঞ্জ, হ্যামার, লিংকন, প্রাদো, ল্যান্ডক্রুজার ও নেভিগেটরের মতো মূল্যবান গাড়ি আটক ছিল। কিন্তু অধিকাংশ গাড়ির ব্যাপারে আদালতে কোনো মামলা হয়নি। পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার দেখিয়ে একটি জিডি করে শুধু মামলার আলামত হিসেবে দেখানো হয়। গাড়িগুলো কোন প্রক্রিয়ায় আটক করা হয়েছে তা তদন্ত করে দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত টাক্সফোর্স। পরে পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু মালিকরা আইনের আশ্রয় নেয়ায় বিভিন্ন তদন্ত সংস্থাও অনুত্সাহিত হয়।
ডিএমপি সদর দফতরের একটি সূত্র জানায়, ভিআইপিদের গাড়িসহ থানা কম্পাউন্ডে রাখা গাড়িগুলোর ব্যাপারে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গাড়ির মালিকের কাছেই এগুলো জিম্মায় রাখা যায় কিনা। যেসব মামলা সম্পন্ন হয়েছে আদালতের মাধ্যমে সেগুলোর ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত্। থানার ওসিরা সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকানা যাচাই করে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন। পুলিশের এই সুপারিশ সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসি, এসি ও থানার ওসিকে লিখিতভাবে পৌঁছানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছিল, যেসব গাড়িমালিকের সাজা হয়েছে, বিচার সম্পন্ন হয়েছে অথবা মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ওই গাড়ির ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরবর্তী সময়ে গাড়ি ফেরত দেয়া হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনটি কারণে গাড়ি আটক করা হতে পারে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি এনে থাকলে, এ ব্যাপারে মামলা করবে এনবিআর।
এনবিআরের আইন অনুযায়ী মালিকের সাজা হবে। আয়বহির্ভূত সম্পদে গাড়ি কিনে থাকলে এ ব্যাপারে মামলা করবে দুদক। অপরদিকে জাতীয় সংসদের এমপি কোটায় গাড়ি আমদানি করে ওই গাড়ি যদি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয় তাহলে এ ব্যাপারে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা থেকে যায়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে মামলা দায়ের করার কথা। কিন্তু বিভিন্ন সংস্থার ব্যাপক তদন্তের পরও এসব গাড়ি ও গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গাড়িগুলো আটক করার পরই দায়িত্ব শেষ করেছে। এতদিন কোন আইনে গাড়ি আটক ছিল এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগও নিশ্চিত ছিল না। ফলে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর পর্যায়ক্রমে গাড়িগুলো মালিকরা ফেরত পেয়ে যান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি সূত্র জানায়, ডিউটি ফ্রি গাড়ি এনে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট হওয়ার পর গাড়ি মালিকদের পক্ষে রায় হয়। অনেকেই আদালতের মাধ্যমে শুল্ক জরিমানা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে নিয়েছেন।
গাড়ি ফেরত পেয়েছেন এমন এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে বলেন, আদালতে আবেদন করার পর তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চেয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট থানায় চিঠি পাঠানো হয়। পুলিশকে গাড়িগুলো নিরাপদ কোনো স্থানে রাখার পরামর্শ দেন আদালত। কিন্তু গাড়িগুলো নিরাপদ কোনো স্থানে রাখেনি। এতগুলো মূল্যবান গাড়ি রাখার মতো কোনো ভালো স্থান না থাকায় অনেক গাড়ি থানা কম্পাউন্ডেই নষ্ট হয়ে যায়। গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে যায়। এগুলো সচল করতে আবার মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হয়েছে। অন্যদিকে গুলশান থানায় এখনও আটক রয়েছে সাবেক এমপি সালাহউদ্দিনের ৩টি গাড়ি। এ বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এখনও মূল্যবান গাড়িগুলো তারা ফেরত পাননি।
২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় আটক হওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের শত কোটি টাকার গাড়ি বিক্রি করে শিশুদের জন্য হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন তখনকার সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ; কিন্তু তার সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। কারণ কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ি আটক রাখা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আটক ব্যক্তিরা উচ্চ আদালতে যান। যথাযথ আইনি প্রকিয়ায় মুক্তি পান কারাগারে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। একই প্রক্রিয়ায় তাদের মূল্যবান গাড়িগুলোও উচ্চ আদালতের অনুমতিক্রমে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেন। পরিত্যক্ত অবস্থায়ও কয়েকটি গাড়ি উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এসব গাড়ি নগরীর বিভিন্ন থানা কম্পাউন্ডে অযত্নে-অবহেলায় ফেলে রাখা হয়।
আটক হওয়া গাড়ির মধ্যে ধানমন্ডি থানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বুলেট প্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ দুটি, নাজমুল হুদা, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, হারিস চৌধুরী, পঙ্কজ দেবনাথ ও রেজাউল করীম হীরার ১১টি, গুলশান থানায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ফজলুর রহমান পটল, আ হ ম মোস্তফা কামাল, মীর্জা আজম ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ৮টি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পার্টেক্স গ্রুপের মালিক এমএ হাসেম, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করীম ও ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমানের ৯টি, তেজগাঁও থানায় ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করীম, এনটিভির এমডি এনায়েতুর রহমান বাপ্পি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হোসেন ও ইস্টওয়েস্ট গ্রুপের ৭টি, শ্যামপুর থানায় সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান লুত্ফুর রহমান ও ৮৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার হাজি আবদুর রশিদ বাদশার ১২টি, রমনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক এমপি আবদুল করীমের ২টি, কাফরুল থানায় শেখ হেলালের ২টি, বাড্ডা থানায় কাজী মঞ্জুরুল আলমের ১টি, সূত্রাপুর থানায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শোয়েব আক্তার নিজামের ১টি, পল্টন থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর ১টি, খিলগাঁওয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল ও ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমের ৩টি, মোহাম্মদপুর থানায় পাবনার সাবেক এমপি তাজউদ্দীন খানের ১টি, পল্লবীতে সাবেক এমপি হারুন অর রশিদের ১টি ও ক্যান্টনমেন্টে সাবেক এমপি ও এনটিভির চেয়ারম্যান মোঃ মোসাদ্দেক আলী এবং গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ৩টি গাড়ি আটক ছিল।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, যেসব গাড়ি সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়েছিল সেগুলো ফেরত দেয়া হয়েছে। আর যেগুলোর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা আছে অথবা মামলার আলামত হিসেবে জব্দ রয়েছে সেসব গাড়ি এখনও ফেরত দেয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশ পেলে তারা প্রকৃত মালিককে যাচাইবাছাই করে ফেরত দেবে। এ ব্যাপারে মালিককে আদালতের অনুমতি আনতে হবে। আদালত যদি পুলিশকে অনুমতি দেয় তবেই তারা কিছু করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএমপির বিভিন্ন থানা কম্পাউন্ডে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজবেঞ্জ, হ্যামার, লিংকন, প্রাদো, ল্যান্ডক্রুজার ও নেভিগেটরের মতো মূল্যবান গাড়ি আটক ছিল। কিন্তু অধিকাংশ গাড়ির ব্যাপারে আদালতে কোনো মামলা হয়নি। পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার দেখিয়ে একটি জিডি করে শুধু মামলার আলামত হিসেবে দেখানো হয়। গাড়িগুলো কোন প্রক্রিয়ায় আটক করা হয়েছে তা তদন্ত করে দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত টাক্সফোর্স। পরে পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু মালিকরা আইনের আশ্রয় নেয়ায় বিভিন্ন তদন্ত সংস্থাও অনুত্সাহিত হয়।
ডিএমপি সদর দফতরের একটি সূত্র জানায়, ভিআইপিদের গাড়িসহ থানা কম্পাউন্ডে রাখা গাড়িগুলোর ব্যাপারে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গাড়ির মালিকের কাছেই এগুলো জিম্মায় রাখা যায় কিনা। যেসব মামলা সম্পন্ন হয়েছে আদালতের মাধ্যমে সেগুলোর ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত্। থানার ওসিরা সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকানা যাচাই করে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন। পুলিশের এই সুপারিশ সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসি, এসি ও থানার ওসিকে লিখিতভাবে পৌঁছানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছিল, যেসব গাড়িমালিকের সাজা হয়েছে, বিচার সম্পন্ন হয়েছে অথবা মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ওই গাড়ির ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরবর্তী সময়ে গাড়ি ফেরত দেয়া হয়েছে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


