মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের বিপরীতে মার্জিন লোন সুবিধা বৃদ্ধি : বাজারের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নয় : বিশ্লেষকদের অভিমত
কাওসার আলম
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের বিপরীতে মার্জিন ঋণ সুবিধা বাড়িয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এখন থেকে কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার মূল্যের প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভি) তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি না হলে ওই ফান্ডের বিপরীতে মার্জিন ঋণ নেয়া যাবে। গতকাল এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় মিউচুয়াল ফান্ডের মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে মিউচুয়াল ফান্ডের মার্জিন ঋণের নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এ নিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটে মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে তৃতীয় দফা ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি করল এসইসি। এদিকে মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের বিপরীতে মার্জিন লোন সুবিধা বৃদ্ধির সমালোচনা করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, বর্তমানে অতিমূল্যায়িত বাজারে মার্জিন লোন সুবিধা বৃদ্ধি করায় বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
জানা গেছে, গত বছর ১৭ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটে ঋণ সুবিধার ক্ষেত্রে এনএভির শর্ত আরোপ করেছিল এসইসি। ওই সময় এসইসি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মূল্য এনএভির সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি হলে মার্জিন লোন পাবে না বলে নির্দেশ জারি করে। কিন্তু বাজারে অধিকাংশ মিউচুয়াল ফান্ডের মূল্য এনএভির তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট ক্রয়ে মার্জিন লোন সুবিধা পাননি গ্রাহকরা। পরে গত মার্চে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। সম্প্রতি শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের শেয়ারের দর কমতে থাকায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের পক্ষ থেকে মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের শেয়ারে মার্জিন লোন সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
সম্প্রতি মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দর কমতে থাকায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশই এ খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করছে। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে মিউচুয়াল ফান্ডের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। এসইসিও বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়াতে প্রতি মাসেই দুটি করে মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিয়ে আসছে। কিন্তু একদিকে মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন। অন্যদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটে এ খাতের দরপতনে দু’য়ের সমন্বয় করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা গতকাল ফান্ড ইউনিটের মার্জিন লোন সুবিধা বাড়িয়ে দেয়।
কিন্তু বাজার বিশ্লেষকরা এসইসির এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের মার্জিন লোন সুবিধা বাড়িয়ে এসইসি এ খাতকে অস্থির করে তুলবে। এমনিতেই বর্তমানে বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর অতিমূল্যায়িত। এর মধ্যে মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে ঋণ সুবিধা বাড়িয়ে দেয়ায় মাধ্যমে বাজারকে আরও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তারা বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের মূল্য তার এনএভির কাছাকাছি হওয়া উচিত। এখন বেশিরভাগ মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দাম এনএভির কাছাকাছি। কিন্তু মার্জিন লোন সুবিধা বৃদ্ধি করার ফলে ইউনিটের মূল্য এনএভি থেকে অনেকগুণ বেড়ে যাবে।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এবং ডিএস্টরি সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটে মার্জিন লোন সুবিধা বাড়ানো উচিত হয়নি। দর সংশোধনের মাধ্যমে ফান্ড ইউনিটগুলোর দাম যৌক্তিক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু মার্জিন লোন সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইউনিটগুলোর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তা মোটেও ঠিক হয়নি।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, সেকেন্ডারি মার্কেটে মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনে মার্জিন লোনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। মার্জিন লোন বৃদ্ধি করা হলে ফান্ডের সম্পদ মূল্য বাড়বে না, ফান্ডের নৈপুণ্য বা দক্ষতা কোনোটিই বৃদ্ধি পাবে না। কাউকে সুযোগ করে দিতেই মার্জিন লোন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
এদিকে মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটে মার্জিন লোন সুবিধা বৃদ্ধির পেছনে অন্য কারণ রয়েছে বলে একটি সূত্র। সূত্রটির অভিযোগ, সম্প্রতি কয়েকটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন পেয়েছে। এসব ফান্ডের একটি বড় অংশই প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল। অনেকে আবার প্রাইভেট প্লেসমেন্টের একটি বড় অংশ ফরোয়ার্ড সেল করে দিয়েছেন। কিন্তু মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারদর কমতে থাকায় প্রাইভেট প্লেসমেন্টে যারা শেয়ার ক্রয় করেছেন, তারা আর্থিকভাবে খুব একটা লাভবান হতে পারছেন না। তাদের বিশেষ সুযোগ পাইয়ে দেয়ার জন্যই মিউচুয়াল ফান্ডের ঋণ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত বছর ১৭ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটে ঋণ সুবিধার ক্ষেত্রে এনএভির শর্ত আরোপ করেছিল এসইসি। ওই সময় এসইসি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মূল্য এনএভির সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি হলে মার্জিন লোন পাবে না বলে নির্দেশ জারি করে। কিন্তু বাজারে অধিকাংশ মিউচুয়াল ফান্ডের মূল্য এনএভির তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট ক্রয়ে মার্জিন লোন সুবিধা পাননি গ্রাহকরা। পরে গত মার্চে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। সম্প্রতি শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের শেয়ারের দর কমতে থাকায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের পক্ষ থেকে মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের শেয়ারে মার্জিন লোন সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
সম্প্রতি মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দর কমতে থাকায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশই এ খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করছে। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে মিউচুয়াল ফান্ডের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। এসইসিও বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়াতে প্রতি মাসেই দুটি করে মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিয়ে আসছে। কিন্তু একদিকে মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন। অন্যদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটে এ খাতের দরপতনে দু’য়ের সমন্বয় করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা গতকাল ফান্ড ইউনিটের মার্জিন লোন সুবিধা বাড়িয়ে দেয়।
কিন্তু বাজার বিশ্লেষকরা এসইসির এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের মার্জিন লোন সুবিধা বাড়িয়ে এসইসি এ খাতকে অস্থির করে তুলবে। এমনিতেই বর্তমানে বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর অতিমূল্যায়িত। এর মধ্যে মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে ঋণ সুবিধা বাড়িয়ে দেয়ায় মাধ্যমে বাজারকে আরও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তারা বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের মূল্য তার এনএভির কাছাকাছি হওয়া উচিত। এখন বেশিরভাগ মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দাম এনএভির কাছাকাছি। কিন্তু মার্জিন লোন সুবিধা বৃদ্ধি করার ফলে ইউনিটের মূল্য এনএভি থেকে অনেকগুণ বেড়ে যাবে।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এবং ডিএস্টরি সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটে মার্জিন লোন সুবিধা বাড়ানো উচিত হয়নি। দর সংশোধনের মাধ্যমে ফান্ড ইউনিটগুলোর দাম যৌক্তিক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু মার্জিন লোন সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইউনিটগুলোর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তা মোটেও ঠিক হয়নি।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, সেকেন্ডারি মার্কেটে মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনে মার্জিন লোনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। মার্জিন লোন বৃদ্ধি করা হলে ফান্ডের সম্পদ মূল্য বাড়বে না, ফান্ডের নৈপুণ্য বা দক্ষতা কোনোটিই বৃদ্ধি পাবে না। কাউকে সুযোগ করে দিতেই মার্জিন লোন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
এদিকে মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটে মার্জিন লোন সুবিধা বৃদ্ধির পেছনে অন্য কারণ রয়েছে বলে একটি সূত্র। সূত্রটির অভিযোগ, সম্প্রতি কয়েকটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন পেয়েছে। এসব ফান্ডের একটি বড় অংশই প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল। অনেকে আবার প্রাইভেট প্লেসমেন্টের একটি বড় অংশ ফরোয়ার্ড সেল করে দিয়েছেন। কিন্তু মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারদর কমতে থাকায় প্রাইভেট প্লেসমেন্টে যারা শেয়ার ক্রয় করেছেন, তারা আর্থিকভাবে খুব একটা লাভবান হতে পারছেন না। তাদের বিশেষ সুযোগ পাইয়ে দেয়ার জন্যই মিউচুয়াল ফান্ডের ঋণ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
-
ব্যবসা বাণিজ্য


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


