Amardesh
আজঃ ঢাকা, শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০১০, ১৫ শ্রাবণ ১৪১৭, ১৭ শাবান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রাজশাহীতে পানিপ্রবাহ বিপদসীমার ৩৬০ সেন্টিমিটার নিচে : বর্ষার ভরা মৌসুমেও পদ্মার বুকে ধূ-ধূ বালুচর : বিপর্যস্ত জীবনযাত্রা

রাজশাহী অফিস
ভরা বর্ষা মৌসুমেও রাজশাহী পয়েন্টে প্রমত্তা পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি নেই। নাব্য হ্রাস, স্থানে স্থানে অসংখ্য চর জেগে ওঠা, বৃষ্টিপাত ও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি গত ৬ বছরে কখনও বিপদসীমা স্পর্শ করেনি। রাজশাহীর রামপুর-বোয়ালিয়া পয়েন্ট পদ্মা নদীর বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। ২০০৩ সালের পর রাজশাহীতে পদ্মার পানি এই উচ্চতা স্পর্শ করেনি। ওই বছর রাজশাহীতে পদ্মার পানি ১৮ দশমিক ৮৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত পানি থাকছে না পদ্মায়। বন্যার মৌসুমেও পদ্মার বুকজুড়ে জেগে ওঠা ছোট-বড় অসংখ্য চর ও কাশবন ডুবছে না। সূত্র মতে, ২০০৪ সালে রাজশাহীতে পদ্মার পানি সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ৪৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। সে বছরও পদ্মার পানি বিপদসীমার ৪৯ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ২০০৬ সালে পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা আরও কমে যায়। ওই বছর ১৭ দশমিক ১৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়, যা ছিল বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচে। ২০০৭ সালে রাজশাহীতে পদ্মার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৮০ মিটার। এই উচ্চতা ছিল বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচে। ২০০৮ সালেও রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। ওই বছর রাজশাহীতে সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৬৫ মিটার। এই উচ্চতা বিপদসীমার ১৮৫ সেন্টিমিটার নিচে।
এবারও রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাবনা খুবই কম। ভরা মৌসুমেও অতীতের মতো পানি নেই পদ্মায়। বর্ষাকাল প্রায় শেষের দিকে। দেশের কয়েকটি স্থানে বন্যা দেখা দিলেও রাজশাহীতে পদ্মায় পানির বাড়তি প্রবাহ নেই। এখনও পদ্মার বুকজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য চর ও কাশবন জেগে আছে।
এদিকে, রাজশাহীতে পদ্মার পানি বাড়ছে খুবই ধীরগতিতে। গত ১ জুলাই পদ্মার উচ্চতা ছিল ১১ দশমিক ৮৮ মিটার, ১৫ জুলাই এই উচ্চতা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৫৩ মিটারে। ২২ জুলাই উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ২৫ মিটার। এর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় উচ্চতা বৃদ্ধি পায় প্রায় ৬৫ সেন্টিমিটার। এরপর গত ২৫ জুলাই রাজশাহীতে পদ্মা ১৪ দশমিক ৯০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়, যা বিপদসীমার ৩৬০ সেন্টিমিটার নিচে।
এদিকে পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত অনেক কমে গেছে। চলতি জুলাই মাসে রাজশাহী নগরীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ৮০ মিলিমিটার। অথচ ২০০৯ সালের জুলাই মাসে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২০০ মিলিমিটার। এ মাসে রাজশাহী নগরীতে ১১ দিন বৃষ্টি হলেও ভারি বৃষ্টি হয়নি। ১৩ জুলাই ২৩ সেন্টিমিটার ও ১৬ জুলাই ২১ সেন্টিমিটার ছিল এ মাসের উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সরওয়ার জাহান বলেছেন, পানির অভাবে এ অঞ্চলের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন এসেছে। পদ্মা পাড়ের হাজার হাজার জেলে তাদের পেশা পরিবর্তন করে কঠিন জীবনযাপন করছেন। ভরা বর্ষা মৌসুমেও পদ্মা নদীতে এখন পানির বদলে বালুচর আর কাশবন দেখা যায়। এর ফলে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও দিন দিন কমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জ না হওয়ায় পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশেও দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। ফারাক্কা বাঁধ এ অবস্থার জন্য দায়ী।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?