ঘাতক বাবার আদালতে স্বীকারোক্তি : অভাবের কারণেই গলাটিপে হত্যা করেছি নিজ ছেলেকে
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
অভাব আর অনটনের সংসারে ছেলের ভরণপোষণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বারবার চাপ প্রয়োগের কারণেই জিদের মাথায় আড়াই মাসের শিশুছেলে সামির হোসেনকে গলাটিপে হত্যা করেছে সোহাগ মিয়া। বুধবার হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতারকৃত সোহাগ মিয়া গতকাল নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, যৌতুকের ১ লাখ টাকা দাবিতে বুধবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের গহরদী গ্রামে আড়াই মাসের শিশুছেলে সামিরকে পানিতে ফেলে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তারই বাবা সোহাগ মিয়া। জবানবন্দিতে সোহাগ আরও জানায়, সে ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় একটি গার্মেন্টে চাকরি করার সময় আড়াইহাজার উপজেলার গহরদী গ্রামের অলেকের মেয়ে তাছলিমার সঙ্গে প্রেম অতঃপর প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। আড়াই মাস আগে তাদের পরিবারে পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। এরই মধ্যে সোহাগের চাকরি চলে যায়। এতে সোহাগ হতাশ হয়ে পড়ে। সে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নেয়। কিন্তু নিয়মিত কাজ না পাওয়ায় তার মধ্যে বিরাজমান হতাশা চরম আকার রূপ নেয়। সে আরও ভেঙে পড়ে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে সে তার শ্বশুরবাড়ি আড়াইহাজারের মাহমুদপুর ইউনিয়নের গহরদী গ্রামে যায়। ওই রাতেই তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন সোহাগকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তার স্ত্রী তাছলিমা তার ও পুত্রসন্তানের ভরণপোষণ দেয়ার জন্য জোর দেয়। এতে সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ভোরে সোহাগ তার ছেলে সামিরকে মায়ের কোল থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় কেড়ে নিয়ে হত্যা করে।
-
মহানগর


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


