সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সা সুবিধা অপ্রতুল
এমরানা আহমেদ
দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। এই বিপুলসংখ্যক মাদকাসক্তের চিকিত্সার জন্য সরকারি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ৪টি। এগুলোতে মোট শয্যা সংখ্যা ৫৫টি। এর মধ্যে চিকিত্সক সঙ্কটে পাঁচ শয্যাবিশিষ্ট খুলনার ময়লাপোতার নিরাময় কেন্দ্র প্রায় ৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
ঢাকার তেজগাঁওয়ে ৪০ শয্যার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সক আছেন সাতজন। রাজশাহীর উপ-শহর ও চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের নিরাময় কেন্দ্রে শয্যা আছে ৫টি করে এবং চিকিত্সক আছেন একজন করে। নেই আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি।
অন্যদিকে ঢাকাসহ সারাদেশে ‘বেসরকারিভাবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে ৩ শতাধিক। এগুলোর মধ্যে ঢাকার ৬টিসহ মোট ৫৪টির মতো কেন্দ্রের অনুমোদন (লাইসেন্স) রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (চিকিত্সা ও পুনর্বাসন) আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল আমার দেশকে বলেন, সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে মাদকসেবীদের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ২০০৮ সালে অধিদফতরের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি সংস্থার জরিপ অনুযায়ী সারাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৪৬ লাখ। বিভিন্ন সংস্থার জরিপ অনুযায়ী গত দুই বছরে মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়েছে আরও ৪ লাখ। কিন্তু সেই অনুপাতে চিকিত্সা সুবিধা বাড়েনি। অধিদফতরের পরিচালক (চিকিত্সা ও পুনর্বাসন) আরও জানান, ৪টি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সকসহ ১১টি পদ দীর্ঘদিন শূন্য। বারবার আবেদন সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসব শূন্যপদ পূরণ করেনি।
ঢাকার নিরাময় কেন্দ্রটি ৪০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার অবকাঠামো ২০০৭ সালে নির্মাণ হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫০ শয্যার পুনর্বাসন কেন্দ্রও নিয়মিত হয়েছে। তবে লোকবল ও অনুষঙ্গিক সুবিধা না থাকায় এগুলো চালু করা যাচ্ছে না।
কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মাদক পাচার ও মাদকসেবীর সংখ্যা বেড়েছে। অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিনিয়ত পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে মাদক পাচার হয়ে আসছে। স্বল্প জনবল ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে তা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মতে, মাদকাসক্তি পরিপূর্ণভাবে মানসিক রোগ হিসেবে স্বীকৃত। আসক্তদের ক্ষেত্রে এটি বারবার ফিরে আসে। সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা পেলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী ভালো হয়। তবে আমাদের দেশে মাদকের পূর্ণাঙ্গ ও বহুমুখী চিকিত্সা নেই। তাই সুস্থতার হার ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ। চিকিত্সকরা আরও জানান, এটি একটি দেহমনোসামাজিক রোগের (বায়ো-সাইকো-সোশ্যাল ডিজঅর্ডার) শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। রোগটা যেমন বহুমাত্রিক, এর চিকিত্সাটাও তেমন বহুমুখী হতে হবে। মাদকের বিষ কাটিয়ে উঠতে রোগীকে নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৮৪ জন, রাজশাহীতে ৩৫ ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ১৫০ জনকে চিকিত্সা দেয়া হয়। এসব কেন্দ্রে নারী ও শিশু মাদকাসক্তদের রেখে চিকিত্সা দেয়ার ব্যবস্থা নেই। কেন্দ্রগুলোতে চিকিত্সা নিতে আসা মাদকাসক্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাদের বেশিরভাগই হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিলে আসক্ত।
এদিকে সারাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের দায়ের করা মামলার জট বেড়েই চলেছে। মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার কম। আর বেশিরভাগ মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন সাজার সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি। বেশিরভাগ সাজাই ৩ বছরের কম। এর কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলা পরিচালনায় রয়েছে ত্রুটি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রসিকিউটরের অভাব। মামলা তদন্ত ও প্রতিবেদনেও রয়েছে গলদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যেও রয়েছে সমন্বয়হীনতা।
সারাদেশে বিভিন্ন আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের দায়ের করা মাদকদ্রব্য আইনে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। অধিদফতরের সূত্র অনুযায়ী ২০০৯ সালের মার্চ পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩৪ হাজার ৩৯০টি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০১০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২০ হাজার ৫১২টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ৫৬টি মামলার সাজা হয় অভিযুক্তদের এবং ১০ হাজার ৪৫৬টি মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পায়। নিষ্পত্তিকৃত মামলাগুলোর মধ্যে সাজা পায় ১১ হাজার ৩৬ জন। আর খালাস পায় ১০ হাজার ৮৫১ জন। অর্থাত্ ৫১ ভাগ মামলায় সাজা হয়নি।
২০০৫ সালে সারাদেশে ৭ হাজার ১৯৫টি মামলা দায়ের হয়। আর নিষ্পত্তি হয় ৩ হাজার ২৯টি। ২০০৬ সালে মামলা হয় ৭ হাজার ৩৫৫টি এবং নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ৯০৪টি মামলার। ২০০৭ সালে মামলা হয় ৭ হাজার ৫৮৯টি এবং নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ৮৫৪টির। ২০০৮ সালে মামলা হয় ৭ হাজার ৮৪২টি, নিষ্পত্তি হয় ৪ হাজার ৮৬২টি। ২০০৯ সালে মামলা হয় ৭ হাজার ৭৬৪টি। আর নিষ্পত্তি হয় ১ হাজার ৮১৪টি মামলার। ২০১০ এপ্রিল পর্যন্ত মামলা হয় ৩ হাজার ৪৩০টি, নিষ্পত্তি হয় ১০৮টি মামলার।
ঢাকার তেজগাঁওয়ে ৪০ শয্যার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সক আছেন সাতজন। রাজশাহীর উপ-শহর ও চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের নিরাময় কেন্দ্রে শয্যা আছে ৫টি করে এবং চিকিত্সক আছেন একজন করে। নেই আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি।
অন্যদিকে ঢাকাসহ সারাদেশে ‘বেসরকারিভাবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে ৩ শতাধিক। এগুলোর মধ্যে ঢাকার ৬টিসহ মোট ৫৪টির মতো কেন্দ্রের অনুমোদন (লাইসেন্স) রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (চিকিত্সা ও পুনর্বাসন) আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল আমার দেশকে বলেন, সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে মাদকসেবীদের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ২০০৮ সালে অধিদফতরের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি সংস্থার জরিপ অনুযায়ী সারাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৪৬ লাখ। বিভিন্ন সংস্থার জরিপ অনুযায়ী গত দুই বছরে মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়েছে আরও ৪ লাখ। কিন্তু সেই অনুপাতে চিকিত্সা সুবিধা বাড়েনি। অধিদফতরের পরিচালক (চিকিত্সা ও পুনর্বাসন) আরও জানান, ৪টি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সকসহ ১১টি পদ দীর্ঘদিন শূন্য। বারবার আবেদন সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসব শূন্যপদ পূরণ করেনি।
ঢাকার নিরাময় কেন্দ্রটি ৪০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার অবকাঠামো ২০০৭ সালে নির্মাণ হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫০ শয্যার পুনর্বাসন কেন্দ্রও নিয়মিত হয়েছে। তবে লোকবল ও অনুষঙ্গিক সুবিধা না থাকায় এগুলো চালু করা যাচ্ছে না।
কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মাদক পাচার ও মাদকসেবীর সংখ্যা বেড়েছে। অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিনিয়ত পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে মাদক পাচার হয়ে আসছে। স্বল্প জনবল ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে তা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মতে, মাদকাসক্তি পরিপূর্ণভাবে মানসিক রোগ হিসেবে স্বীকৃত। আসক্তদের ক্ষেত্রে এটি বারবার ফিরে আসে। সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা পেলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী ভালো হয়। তবে আমাদের দেশে মাদকের পূর্ণাঙ্গ ও বহুমুখী চিকিত্সা নেই। তাই সুস্থতার হার ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ। চিকিত্সকরা আরও জানান, এটি একটি দেহমনোসামাজিক রোগের (বায়ো-সাইকো-সোশ্যাল ডিজঅর্ডার) শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। রোগটা যেমন বহুমাত্রিক, এর চিকিত্সাটাও তেমন বহুমুখী হতে হবে। মাদকের বিষ কাটিয়ে উঠতে রোগীকে নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৮৪ জন, রাজশাহীতে ৩৫ ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ১৫০ জনকে চিকিত্সা দেয়া হয়। এসব কেন্দ্রে নারী ও শিশু মাদকাসক্তদের রেখে চিকিত্সা দেয়ার ব্যবস্থা নেই। কেন্দ্রগুলোতে চিকিত্সা নিতে আসা মাদকাসক্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাদের বেশিরভাগই হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিলে আসক্ত।
এদিকে সারাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের দায়ের করা মামলার জট বেড়েই চলেছে। মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার কম। আর বেশিরভাগ মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন সাজার সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি। বেশিরভাগ সাজাই ৩ বছরের কম। এর কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলা পরিচালনায় রয়েছে ত্রুটি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রসিকিউটরের অভাব। মামলা তদন্ত ও প্রতিবেদনেও রয়েছে গলদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যেও রয়েছে সমন্বয়হীনতা।
সারাদেশে বিভিন্ন আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের দায়ের করা মাদকদ্রব্য আইনে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। অধিদফতরের সূত্র অনুযায়ী ২০০৯ সালের মার্চ পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩৪ হাজার ৩৯০টি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০১০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২০ হাজার ৫১২টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ৫৬টি মামলার সাজা হয় অভিযুক্তদের এবং ১০ হাজার ৪৫৬টি মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পায়। নিষ্পত্তিকৃত মামলাগুলোর মধ্যে সাজা পায় ১১ হাজার ৩৬ জন। আর খালাস পায় ১০ হাজার ৮৫১ জন। অর্থাত্ ৫১ ভাগ মামলায় সাজা হয়নি।
২০০৫ সালে সারাদেশে ৭ হাজার ১৯৫টি মামলা দায়ের হয়। আর নিষ্পত্তি হয় ৩ হাজার ২৯টি। ২০০৬ সালে মামলা হয় ৭ হাজার ৩৫৫টি এবং নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ৯০৪টি মামলার। ২০০৭ সালে মামলা হয় ৭ হাজার ৫৮৯টি এবং নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ৮৫৪টির। ২০০৮ সালে মামলা হয় ৭ হাজার ৮৪২টি, নিষ্পত্তি হয় ৪ হাজার ৮৬২টি। ২০০৯ সালে মামলা হয় ৭ হাজার ৭৬৪টি। আর নিষ্পত্তি হয় ১ হাজার ৮১৪টি মামলার। ২০১০ এপ্রিল পর্যন্ত মামলা হয় ৩ হাজার ৪৩০টি, নিষ্পত্তি হয় ১০৮টি মামলার।
-
মহানগর


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


