Amardesh
আজঃ ঢাকা, শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০১০, ১৫ শ্রাবণ ১৪১৭, ১৭ শাবান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সামরিক তথ্য পাচার ধরা পড়লেন মার্কিন সেনাকর্তা স্যাডলে

এপি
চোরের কীর্তি ফাঁস করে দিলেন ‘হ্যাকার’ই। সবার চোখ এড়িয়ে মাসের পর মাস গোপন সামরিক তথ্য একটি অনলাইন সংস্থাকে পাচার করছিলেন তিনি। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার একজন সাবেক কম্পিউটার ‘হ্যাকার’কে নিজের এই ‘কীর্তি’র কথা ফলাও করে বলতে গিয়েই ফাঁদে পড়ে গেলেন। ওই হ্যাকারই ফাঁস করে দিলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর অফিসার ২২ বছরের ওই যুবকের ‘কীর্তি’।
স্যাডলে ম্যানিং নামে ওই অফিসার সেনা গোয়েন্দা দফতরে তথ্য বিশ্লেষকের কাজ করতেন। উইকিলিকস নামে একটি অনলাইন সংস্থাকে গোপন তথ্য পাচারের দায়ে বাগদাদের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে ম্যানিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও দু’সপ্তাহ আগেই ম্যানিংকে ধরা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে ধরা পড়লেন ম্যানিং? উইকিলিকসকে কেনই বা গোপন তথ্য পাচার করছিলেন তিনি?
বাগদাদের কাছের ওই সামরিক ঘাঁটিতে গোয়েন্দা দফতরের হাতে আসা শত্রু শিবিরের গোপন সঙ্কেত বিশ্লেষণ করে তথ্য উদ্ধার করতেন ম্যানিং। সে কারণেই বহু গোপন তথ্যের সন্ধান পান তিনি। সে সব তথ্য তিনি পাচার করতেন উইকিলিকসকে। ফেব্রুয়ারি মাসে উইকিলিকসে আইসল্যান্ড থেকে মার্কিন দূতাবাসের পাঠানো একটি গোপন তথ্য প্রকাশ পায়। এপ্রিলে বের হয় একটি মার্কিন সামরিক ভিডিও। তাতে দেখা যায়, ২০০৭ সালে একটি মার্কিন সেনা হেলিকপ্টার থেকে বাগদাদের রাস্তায় সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে।
এভাবে একের পর এক গোপন তথ্য ফাঁস হয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসে হোয়াইট হাউস। সেনার সঙ্গে সঙ্গে এফবিআইও নেমে পড়ে তদন্তে। এমন সময়ই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক ‘হ্যাকার’ আদ্রিয়ান লামো।
তিনি জানান, মে মাস নাগাদ তার সঙ্গে একজনের অনলাইনে পরিচয় হয়। তিনি লামোকে জানান যে, তিনি সেনা গোয়েন্দা দফতরে তথ্য বিশ্লেষকের কাজ করেন এবং তিনিই বাগদাদের মার্কিন সেনাদের হেলিকপ্টার থেকে গুলি করার মতো নানা গোপন তথ্য ইউকিলিকসকে সরবরাহ করেছেন। এমনকি, লামোকে তিনি দু’টি গোপন নেটওয়ার্কের হদিসও দেন।
কিন্তু লামোর ভালো ঠেকেনি গোটা ব্যাপারটা। তাই বিষয়টি তিনি এফবিআইকে জানান। লামোর কথায়, ‘সেনাদের গোপন তথ্য নিয়ে এ রকম ছেলেখেলা করা মানে লাখ লাখ লোকের জীবনকে বিপদে ফেলা। তাই বিষয়টি গোয়েন্দাদের জানাব বলে ঠিক করি।’ তার পরেই গ্রেফতার করা হয় ম্যানিংকে। ম্যানিং লামোকে জানান, ২০০৯ সালের নভেম্বরে তিনি উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার পর থেকেই তথ্য পাচার করে চলেছেন তিনি। ব্র্যাডলের বক্তব্য, এসব তথ্য জানার অধিকার সবার। তাই ‘জনস্বার্থে’ তিনি এই কাজ করেছেন। ব্র্যাডলের এক বন্ধু জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে ছুটিতে এসে ব্র্যাডলে স্বীকার করেন যে, তার কাছে গোপন সামরিক তথ্য রয়েছে। আর তিনি সেগুলো প্রকাশ করবেন কিনা ভাবছেন। এমনকি, এপ্রিলে উইকিলিকসে ওই ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর ব্র্যাডলে তার কাছে মানুষের প্রতিক্রিয়া কী রকম তাও জানতে চান।
তবে ছেলের গ্রেফতারের ঘটনায় অবাক ব্র্যাডলের বাবা ব্রিয়ান ম্যানিং। পাঁচ বছর সেনায় থাকার পর তিনি ভাবতে পারছেন না, তার ছেলে এরকম কিছু করতে পারে। দোষী প্রমাণিত হলে ব্র্যাডলের ৫২ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?