Amardesh
আজঃ ঢাকা, শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০১০, ১৫ শ্রাবণ ১৪১৭, ১৭ শাবান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পটুয়াখালীতে প্রতিবাদ সভায় আ’লীগের হামলা, আহত ৩৮

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে দেড় ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় হামলায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত নির্ধারিত প্রতিবাদ সভায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়। হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত দশমিনা শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দশমিনা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপকূলীয় ভূমিহীন কৃষক-কৃষানী ফেডারেশনের প্রভাবশালী নেত্রী সামসুন্নাহার খান ডলিকে সম্প্রতি লাঞ্ছিত করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ লিটন ও তার বাহিনী। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টায় নলখোলা স্টেশনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে ট্রলারযোগে লোকজন আসতে থাকে। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা লিটনের উদ্যোগে একই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়ে মাইকে ব্যাপক প্রচার চালায় বুধবার রাত থেকে। দুটি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ সভা ডাকাকে কেন্দ্র করে শহরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যে কোনো ধরনের সহিংসতা রোধে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নিয়োজিত করা হয় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দুপুর ১২টার দিকে লিটনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। কিছুক্ষণ পর দশমিনা ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন খাল দিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের পক্ষে ট্রলারযোগে আসা লোকজনের ওপর লিটনের সন্ত্রাসী বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ১০ জন আহত হন। আতঙ্কিত অনেক নারী পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে নলখোলা স্টেশন ও ভূমি অফিসসংলগ্ন এলাকায় ডলির নেতৃত্বে পূর্ব ঘোষিত প্রতিবাদ সভা শুরু হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লিটনের সেকেন্ড ইন কমান্ড নামে খ্যাত টোকাই ভুট্টোর নেতৃত্বে প্রায় ৩০/৩৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী প্রতিবাদ সভায় হামলা চালায়। এ সময় ডলি, তার ভাই লিয়ার, মাইটিভির সাংবাদিক মনির হোসেন বাদল, মিজানুর রহমানসহ অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। ভাংচুর করা হয়েছে মাইকসহ রিকশা এবং বাসাবাড়ি। কিছুক্ষণ পর ডলির লোকজন একত্রিত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পুরো ঘটনা মনিটরিং করা হচ্ছে। এ মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা হয়নি। আপ্রাণ চেষ্টা চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য।
আহত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সামসুন্নাহার ডলি এ ঘটনার জন্য লিটনকে দায়ী করে জানান, এটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। প্রতিবাদ সভা না করার জন্য এ ষড়যন্ত্র।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা লিটন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তারা। কে বা কারা কোথায় হামলা করেছে তা তিনি জানেন না।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?