৫ম সংশোধনীর রায় প্রসঙ্গে আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া : সুনামি বা ভূমিকম্প রায় দিয়ে বন্ধ করা যায় না
স্টাফ রিপোর্টার
সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী সম্পর্কে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা বলেছেন, অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল ও সামরিক শাসন সম্পর্কে আপিল বিভাগ যে অভিমত দিয়েছেন, তা ভালো। কিন্তু যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন কিংবা ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করেন, তারা কি সুপ্রিমকোর্টের রায় পড়ে ক্ষমতা দখল করবেন? সামরিক শাসন বা সংবিধান বহির্ভূত সরকার দুর্যোগের মতো। সুনামি বা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আদালতের রায় বা কোনো ধরনের আইন দিয়ে বন্ধ করা যায় না।
প্রবীণ আইনজীবী বিচারপতি টিএইচ খান বলেন, এই রায়ে আল্লাহ সম্পর্কে যেসব কথা বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি মনে করেন তিনি তা বাদ দেবেন—তাহলে রায়ের দরকার নেই। সংসদ সার্বভৌম, তিনি চাইলেই আল্লাহর ওপর আস্থার বিষয়টি রেখে দিতে পারেন; আবার বাদও দিতে পারেন। ১৪ কোটি মুসলমানের মনে আঘাত দেয়া ঠিক হবে না। আমার মনে হয় সংবিধানে ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়াদি মুছে ফেলা ঠিক হবে না। এটা সুচিন্তিত হবে না। তিনি বলেন, এটা সরকারের মনঃপুত রায়। তারা হাঁটতে হাঁটতে এই রায় পেয়েছে। গণভোটকে এড়ানোর জন্যই এ রায়কে ব্যবহার করা হচ্ছে। যখন দেশে অন্য কোনো আইন কাজ করে না, তখন মার্শাল ল’ আসে। আর মার্শাল ল’ আসলে কাউকে জিজ্ঞেস করে আসে না। যদি ২৮ অক্টোবরের মতো আবার ঘটনা ঘটে, তাহলে সেনাবাহিনী কি বসে থাকবে? উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সুনামি বা ভূমিকম্প কি আগে থেকে বন্ধ করা সম্ভব? মার্শাল ল’ আসলে তখন সংবিধান সংশোধনের কি হবে? সামরিক শাসন সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। এগুলো যদি বাধ্যতামূলক হয়, তাহলে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এবং তার সহযোগীদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে? তিনি আপিল বিভাগের রায় সম্পর্কে বলেন, জিয়াউর রহমান বিচারকদের ব্যাপারে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা আপিল বিভাগ গ্রহণ করেছেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. এম জহির বলেন, রায় ভালোই হয়েছে। সংবিধানের কিছু কিছু ধারা বহাল রেখেছে। বাংলাদেশী, না বাঙালি—এ প্রসঙ্গে আপিল বিভাগ বলেছেন বাংলাদেশী। আমি মনে করি এটা যার যার নিজস্ব ব্যাপার। জিয়াউর রহমানের ৫ম সংশোধনী বাতিল করা হলো। তাহলে বাঙালিত্ব থেকে বাংলাদেশী উঠে গেল না কেন? এটা তো ‘পাসড অ্যান্ড ক্লোসড’-এর বিষয় নয়। এটা মামলার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয়। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হবে কিনা এটা বলা যাচ্ছে না। সামরিক শাসন নিয়ে রায়ে মূল্যবান কথা বলা হয়েছে কিন্তু যারা সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করবেন, তারা কি আদালতের রায় পড়ে আসবেন? এ রায়ের মধ্য দিয়ে সংবিধানে কি পুনর্বহাল হবে, তা বিল আকারে আসবে, না আইন আকারে আসবে—সেটা সংসদীয় কমিটি নির্ধারণ করবে বলে জানান তিনি।
সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে আমি রায় মেনে নিয়েছি। রায় বাস্তবায়নে সরকার কি পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটা দেখার বিষয়। যখন ইস্যুটি রাজনৈতিক বিষয়ে পরিণত হবে, তখন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেব। এ রায়ে সব সামরিক শাসককে শাস্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নায়ক মইন উ আহমদ সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় ছিলেন। তার এবং ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশনের শাস্তি হওয়া উচিত।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন রায় সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে বলেন, সামরিক ফরমান দিয়ে সংবিধান সংশোধন যদি অবৈধ হয়, তাহলে ৫ম সংশোধনীর কিছু জিনিস রাখলাম, কিছু জিনিস বাদ দিলাম—এটা কি দ্বৈত নীতি নয়? আর একদিকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ থাকছে, আবার ধর্মনিরপেক্ষতাও থাকছে—এটা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।
সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক শ.ম. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। কেননা, বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল ভিত্তি মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে প্রণীত সংবিধান পুনরুজ্জীবিত হলো। এছাড়া অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলকে বৈধ করার চেষ্টা এ রায়ের মাধ্যমে বন্ধ হবে। এ রায়ের মাধ্যমে জুডিশিয়ারি কার্যকরী ভূমিকা রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
প্রবীণ আইনজীবী বিচারপতি টিএইচ খান বলেন, এই রায়ে আল্লাহ সম্পর্কে যেসব কথা বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি মনে করেন তিনি তা বাদ দেবেন—তাহলে রায়ের দরকার নেই। সংসদ সার্বভৌম, তিনি চাইলেই আল্লাহর ওপর আস্থার বিষয়টি রেখে দিতে পারেন; আবার বাদও দিতে পারেন। ১৪ কোটি মুসলমানের মনে আঘাত দেয়া ঠিক হবে না। আমার মনে হয় সংবিধানে ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়াদি মুছে ফেলা ঠিক হবে না। এটা সুচিন্তিত হবে না। তিনি বলেন, এটা সরকারের মনঃপুত রায়। তারা হাঁটতে হাঁটতে এই রায় পেয়েছে। গণভোটকে এড়ানোর জন্যই এ রায়কে ব্যবহার করা হচ্ছে। যখন দেশে অন্য কোনো আইন কাজ করে না, তখন মার্শাল ল’ আসে। আর মার্শাল ল’ আসলে কাউকে জিজ্ঞেস করে আসে না। যদি ২৮ অক্টোবরের মতো আবার ঘটনা ঘটে, তাহলে সেনাবাহিনী কি বসে থাকবে? উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সুনামি বা ভূমিকম্প কি আগে থেকে বন্ধ করা সম্ভব? মার্শাল ল’ আসলে তখন সংবিধান সংশোধনের কি হবে? সামরিক শাসন সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। এগুলো যদি বাধ্যতামূলক হয়, তাহলে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এবং তার সহযোগীদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে? তিনি আপিল বিভাগের রায় সম্পর্কে বলেন, জিয়াউর রহমান বিচারকদের ব্যাপারে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা আপিল বিভাগ গ্রহণ করেছেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. এম জহির বলেন, রায় ভালোই হয়েছে। সংবিধানের কিছু কিছু ধারা বহাল রেখেছে। বাংলাদেশী, না বাঙালি—এ প্রসঙ্গে আপিল বিভাগ বলেছেন বাংলাদেশী। আমি মনে করি এটা যার যার নিজস্ব ব্যাপার। জিয়াউর রহমানের ৫ম সংশোধনী বাতিল করা হলো। তাহলে বাঙালিত্ব থেকে বাংলাদেশী উঠে গেল না কেন? এটা তো ‘পাসড অ্যান্ড ক্লোসড’-এর বিষয় নয়। এটা মামলার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয়। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হবে কিনা এটা বলা যাচ্ছে না। সামরিক শাসন নিয়ে রায়ে মূল্যবান কথা বলা হয়েছে কিন্তু যারা সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করবেন, তারা কি আদালতের রায় পড়ে আসবেন? এ রায়ের মধ্য দিয়ে সংবিধানে কি পুনর্বহাল হবে, তা বিল আকারে আসবে, না আইন আকারে আসবে—সেটা সংসদীয় কমিটি নির্ধারণ করবে বলে জানান তিনি।
সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে আমি রায় মেনে নিয়েছি। রায় বাস্তবায়নে সরকার কি পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটা দেখার বিষয়। যখন ইস্যুটি রাজনৈতিক বিষয়ে পরিণত হবে, তখন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেব। এ রায়ে সব সামরিক শাসককে শাস্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নায়ক মইন উ আহমদ সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় ছিলেন। তার এবং ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশনের শাস্তি হওয়া উচিত।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন রায় সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে বলেন, সামরিক ফরমান দিয়ে সংবিধান সংশোধন যদি অবৈধ হয়, তাহলে ৫ম সংশোধনীর কিছু জিনিস রাখলাম, কিছু জিনিস বাদ দিলাম—এটা কি দ্বৈত নীতি নয়? আর একদিকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ থাকছে, আবার ধর্মনিরপেক্ষতাও থাকছে—এটা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।
সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক শ.ম. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। কেননা, বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল ভিত্তি মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে প্রণীত সংবিধান পুনরুজ্জীবিত হলো। এছাড়া অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলকে বৈধ করার চেষ্টা এ রায়ের মাধ্যমে বন্ধ হবে। এ রায়ের মাধ্যমে জুডিশিয়ারি কার্যকরী ভূমিকা রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


