গার্মেন্ট শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর ১ নভেম্বর
সৈয়দ মিজানুর রহমান
রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি হবে ৩ হাজার টাকা। এছাড়া শিক্ষানবিস হিসেবে একজন শ্রমিক বেতন পাবেন আড়াই হাজার টাকা। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।
মজুরি বোর্ডের খসড়া সুপারিশ অনুযায়ী গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বেতন কাঠামো ঘোষণা করেন শ্রমমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ সময় মজুরি বোর্ডের সদস্য, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ঘোষণার পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, এ পরিমাণ বেতন দিতে তাদের আপত্তি নেই। শ্রমিকপক্ষও তা মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী বলেন, নতুন বেতন কাঠামোতে মালিক-শ্রমিক উভয়পক্ষই খুশি হবে। তবে এই ঈদে (রোজার ঈদ) শ্রমিকরা শুধু সু-খবর নিয়েই বাড়ি যাবেন। এর ফল পেতে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হবে। মন্ত্রী জানান, মজুরির যে খসড়া সুপারিশ করেছে তা গেজেট আকারে প্রকাশ হবে। এটি হবে খসড়া গেজেট। এ গেজেট প্রকাশের পর ১৪ দিন সময় দেয়া হবে মতামত প্রদানের জন্য। এ সময় দেশের যে কোনো নাগরিক মজুরি নিয়ে তাদের মতামত জানাতে পারবেন। পরে সবার মতামত নিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সভাপতি একে আজাদ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি সেলিম ওসমান, বিজিএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত মজুরি কাঠামোতে গার্মেন্ট শিল্পখাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের ৭টি শ্রেণীতে বিন্যাস করা হয়েছে। কর্মচারীদের বিভক্ত করা হয়েছে ৪টি শ্রেণীতে। একজন শ্রমিক ৭ম গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন পাবেন ৩ হাজার টাকা। এ গ্রেডের শ্রমিকরা হচ্ছেন পোশাক শিল্পের সহকারী সেলাই মেশিন অপারেটর, সহকারী উইনডিং মেশিন অপারেটর, সহকারী নিটিং মেশিন অপারেটর, সহকারী মেডিং অপারেটর, সহকারী কাটার, মার্কার, ক্রিজিং ম্যান, লাইন আয়রন ম্যান, ড্রাই ওয়াশিং ম্যান, ওভারলক মেশিন সহকারী, বাটন মেশিন সহকারী, কাঞ্চাই মেশিন সহকারী, ফিনিশিং সহকারী, সহকারী বাইন্ডলিং ম্যান, সহকারী ফিউজিং মেশিন অপারেটর, সহকারী অটো স্প্রেডার, লে-ম্যান, এম্ব্রয়ডারি অপারেটর, প্রিন্টিং অপারেটর, প্রিন্টার, হেলপার ইত্যাদি।
এ গ্রেডে শিক্ষানবিস শ্রমিকরা বেতন পাবেন মাসে আড়াই হাজার টাকা। একজন শ্রমিকের শিক্ষানবিস সময়কাল হবে ৩ মাস। তবে মালিকপক্ষ যদি মনে করে শিক্ষানবিস শ্রমিক তার কাজের প্রথম তিন মাস দক্ষতা দেখাতে পারেনি, তবে এ সময়কাল আরও ৩ মাস বাড়াতে পারবে।
কর্মচারীদের ৪টি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। শ্রেণীগুলোর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণী বা গ্রেডে বেতন ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৮০ টাকা। এ শ্রেণীর কর্মচারীরা হচ্ছেন-পোশাক কারখানার পিয়ন, দারোয়ান, কুক, সুইপার, জুনিয়র ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, স্টোর হেলপার, লোডার গার্ড, মেসেঞ্জার, টি বয়, ক্লিনার, ড্রাইভার ইত্যাদি।
ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে শ্রমমন্ত্রীর হাতে এর একটি খসড়া সুপারিশ তুলে দেন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইকতেদার আহমেদ। এ খসড়া সুপারিশে সই করেন পোশাক শিল্প মালিকপক্ষের সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, নিরপেক্ষ সদস্য অধ্যাপক ইকবাল আহমদ, মালিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ, শ্রমিকপক্ষের সদস্য বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হাবিবুর রহমান সিরাজ।
মজুরি বোর্ডের খসড়া সুপারিশে বলা হয়, এ শিল্পে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের আগে শ্রমিকদের জীবনযাপন ব্যয় ও মান, মালিকদের উত্পাদনশীলতা, উত্পাদিত দ্রব্যের দাম, মূল্যস্ফীতি, ব্যবসায়িক সামর্থ্য ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রমআইন, ২০০৬ এর ১৩৯ ধারা বলে এ খসড়া সুপারিশ পেশ করেছে মজুরি বোর্ড। এর আগে ২০০৬ সালে পোশাক খাতে সর্বশেষ মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল।
মজুরি বোর্ডের সুপারিশে প্রথম গ্রেড বা শ্রেণীতে শ্রমিকদের মজুরি ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩০০ টাকা; যা ২০০৬ সালে ছিল ৫ হাজার ১৪০ টাকা, বৃদ্ধির হার ৮০ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দ্বিতীয় গ্রেডে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২০০ টাকা। বৃদ্ধির হার ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। তৃতীয় গ্রেডে ৪ হাজার ১২০ টাকা, বৃদ্ধির হার ৬৮ দশমিক ২৩ ভাগ। চতুর্থ গ্রেডে ৩ হাজার ৭৬৩ টাকা, বৃদ্ধির হার ৬৭ দশমিক ২৪ ভাগ, পঞ্চম গ্রেডে ৩ হাজার ৪৫৫ টাকা, বৃদ্ধির হার ৬৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩ হাজার ২১০ টাকা, বৃদ্ধির হার ৭৩ দশমিক ৪২ ভাগ এবং সপ্তম গ্রেডে নতুন বেতন নির্ধারণ হয়েছে ৩ হাজার টাকা, যা ২০০৬ সালে ঘোষণা হয়েছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা। ৭ম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ৮০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মজুরি বৃদ্ধির হার হচ্ছে শিক্ষানবিস শ্রমিকদের বেলায়। এ ক্ষেত্রে বেতন বাড়ানো হয়েছে ১০৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
প্রথম গ্রেডের শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন-প্যাটার্ন মাস্টার, চিফ কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, চিফ কাটিং মাস্টার, চিফ মেকানিক, চিফ ইলেকট্রিশিয়ান, কালার মাস্টার ও গ্রাফিক ডিজাইনার।
মজুরি কাঠামো ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী বলেন, এর আগে সরকার ২০০৬ সালে পোশাক খাতের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করেছিল। শ্রমআইন অনুযায়ী কোনো শিল্পে মজুরি ঘোষণার ৫ বছর পর নতুন মজুরি কাঠামো ঠিক হবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির দিকটি মাথায় রেখে সরকার এখনই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করল। তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি দিতে গিয়ে মালিকদের অনেক কষ্ট হবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মালিকরা ঠিকমতো বিদ্যুত্ পাচ্ছেন না, গ্যাস নেই, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উত্পাদনে সমস্যা হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের সরকার নির্ধারিত হারে বেতন বাড়াতে হবে।
কবে নতুন ন্যূনতম মজুরি কাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকরা বেতন পাবেন জানতে চাইলে শ্রমমন্ত্রী বলেন, ১ নভেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে। দেরিতে কার্যকর হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, মালিকপক্ষ তাদের কাছে আবেদন করেছে অন্তত ৪ মাস পর বেতন কার্যকর করার। তবে সরকার তাদের ৩ মাস সময় দিয়েছে। সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে সব কারখানায় বেতন দেয়া হবে কিনা-জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, শতভাগ কারখানায় ১ নভেম্বর থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেয়ার নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারছি না। তবে সবাই যাতে এ হারে বেতন দেয় সেজন্য মালিকদের অনুপ্রেরণা দেয়া হবে।
বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, কারখানার উত্পাদন বিভিন্ন কারণে প্রায় ৪০ ভাগ কমে গেছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আগেই যাতে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু হয়।
নতুন বেতন কাঠামো শ্রমিকরা মেনে নিয়েছে কিনা-জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শ্রমিক নেত্রী শিরিন আক্তার বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার টাকা করার। তবে মালিকদের বিষয়টিও দেখতে হবে। আমরা ১৪ দিন পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাব। তবে আশা করছি সবাই এটা মেনে নেবেন।
মজুরি বোর্ডের খসড়া সুপারিশ অনুযায়ী গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বেতন কাঠামো ঘোষণা করেন শ্রমমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ সময় মজুরি বোর্ডের সদস্য, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ঘোষণার পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, এ পরিমাণ বেতন দিতে তাদের আপত্তি নেই। শ্রমিকপক্ষও তা মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী বলেন, নতুন বেতন কাঠামোতে মালিক-শ্রমিক উভয়পক্ষই খুশি হবে। তবে এই ঈদে (রোজার ঈদ) শ্রমিকরা শুধু সু-খবর নিয়েই বাড়ি যাবেন। এর ফল পেতে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হবে। মন্ত্রী জানান, মজুরির যে খসড়া সুপারিশ করেছে তা গেজেট আকারে প্রকাশ হবে। এটি হবে খসড়া গেজেট। এ গেজেট প্রকাশের পর ১৪ দিন সময় দেয়া হবে মতামত প্রদানের জন্য। এ সময় দেশের যে কোনো নাগরিক মজুরি নিয়ে তাদের মতামত জানাতে পারবেন। পরে সবার মতামত নিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সভাপতি একে আজাদ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি সেলিম ওসমান, বিজিএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত মজুরি কাঠামোতে গার্মেন্ট শিল্পখাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের ৭টি শ্রেণীতে বিন্যাস করা হয়েছে। কর্মচারীদের বিভক্ত করা হয়েছে ৪টি শ্রেণীতে। একজন শ্রমিক ৭ম গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন পাবেন ৩ হাজার টাকা। এ গ্রেডের শ্রমিকরা হচ্ছেন পোশাক শিল্পের সহকারী সেলাই মেশিন অপারেটর, সহকারী উইনডিং মেশিন অপারেটর, সহকারী নিটিং মেশিন অপারেটর, সহকারী মেডিং অপারেটর, সহকারী কাটার, মার্কার, ক্রিজিং ম্যান, লাইন আয়রন ম্যান, ড্রাই ওয়াশিং ম্যান, ওভারলক মেশিন সহকারী, বাটন মেশিন সহকারী, কাঞ্চাই মেশিন সহকারী, ফিনিশিং সহকারী, সহকারী বাইন্ডলিং ম্যান, সহকারী ফিউজিং মেশিন অপারেটর, সহকারী অটো স্প্রেডার, লে-ম্যান, এম্ব্রয়ডারি অপারেটর, প্রিন্টিং অপারেটর, প্রিন্টার, হেলপার ইত্যাদি।
এ গ্রেডে শিক্ষানবিস শ্রমিকরা বেতন পাবেন মাসে আড়াই হাজার টাকা। একজন শ্রমিকের শিক্ষানবিস সময়কাল হবে ৩ মাস। তবে মালিকপক্ষ যদি মনে করে শিক্ষানবিস শ্রমিক তার কাজের প্রথম তিন মাস দক্ষতা দেখাতে পারেনি, তবে এ সময়কাল আরও ৩ মাস বাড়াতে পারবে।
কর্মচারীদের ৪টি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। শ্রেণীগুলোর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণী বা গ্রেডে বেতন ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৮০ টাকা। এ শ্রেণীর কর্মচারীরা হচ্ছেন-পোশাক কারখানার পিয়ন, দারোয়ান, কুক, সুইপার, জুনিয়র ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, স্টোর হেলপার, লোডার গার্ড, মেসেঞ্জার, টি বয়, ক্লিনার, ড্রাইভার ইত্যাদি।
ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে শ্রমমন্ত্রীর হাতে এর একটি খসড়া সুপারিশ তুলে দেন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইকতেদার আহমেদ। এ খসড়া সুপারিশে সই করেন পোশাক শিল্প মালিকপক্ষের সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, নিরপেক্ষ সদস্য অধ্যাপক ইকবাল আহমদ, মালিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ, শ্রমিকপক্ষের সদস্য বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হাবিবুর রহমান সিরাজ।
মজুরি বোর্ডের খসড়া সুপারিশে বলা হয়, এ শিল্পে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের আগে শ্রমিকদের জীবনযাপন ব্যয় ও মান, মালিকদের উত্পাদনশীলতা, উত্পাদিত দ্রব্যের দাম, মূল্যস্ফীতি, ব্যবসায়িক সামর্থ্য ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রমআইন, ২০০৬ এর ১৩৯ ধারা বলে এ খসড়া সুপারিশ পেশ করেছে মজুরি বোর্ড। এর আগে ২০০৬ সালে পোশাক খাতে সর্বশেষ মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল।
মজুরি বোর্ডের সুপারিশে প্রথম গ্রেড বা শ্রেণীতে শ্রমিকদের মজুরি ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩০০ টাকা; যা ২০০৬ সালে ছিল ৫ হাজার ১৪০ টাকা, বৃদ্ধির হার ৮০ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দ্বিতীয় গ্রেডে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২০০ টাকা। বৃদ্ধির হার ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। তৃতীয় গ্রেডে ৪ হাজার ১২০ টাকা, বৃদ্ধির হার ৬৮ দশমিক ২৩ ভাগ। চতুর্থ গ্রেডে ৩ হাজার ৭৬৩ টাকা, বৃদ্ধির হার ৬৭ দশমিক ২৪ ভাগ, পঞ্চম গ্রেডে ৩ হাজার ৪৫৫ টাকা, বৃদ্ধির হার ৬৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩ হাজার ২১০ টাকা, বৃদ্ধির হার ৭৩ দশমিক ৪২ ভাগ এবং সপ্তম গ্রেডে নতুন বেতন নির্ধারণ হয়েছে ৩ হাজার টাকা, যা ২০০৬ সালে ঘোষণা হয়েছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা। ৭ম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ৮০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মজুরি বৃদ্ধির হার হচ্ছে শিক্ষানবিস শ্রমিকদের বেলায়। এ ক্ষেত্রে বেতন বাড়ানো হয়েছে ১০৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
প্রথম গ্রেডের শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন-প্যাটার্ন মাস্টার, চিফ কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, চিফ কাটিং মাস্টার, চিফ মেকানিক, চিফ ইলেকট্রিশিয়ান, কালার মাস্টার ও গ্রাফিক ডিজাইনার।
মজুরি কাঠামো ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী বলেন, এর আগে সরকার ২০০৬ সালে পোশাক খাতের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করেছিল। শ্রমআইন অনুযায়ী কোনো শিল্পে মজুরি ঘোষণার ৫ বছর পর নতুন মজুরি কাঠামো ঠিক হবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির দিকটি মাথায় রেখে সরকার এখনই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করল। তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি দিতে গিয়ে মালিকদের অনেক কষ্ট হবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মালিকরা ঠিকমতো বিদ্যুত্ পাচ্ছেন না, গ্যাস নেই, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উত্পাদনে সমস্যা হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের সরকার নির্ধারিত হারে বেতন বাড়াতে হবে।
কবে নতুন ন্যূনতম মজুরি কাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকরা বেতন পাবেন জানতে চাইলে শ্রমমন্ত্রী বলেন, ১ নভেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে। দেরিতে কার্যকর হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, মালিকপক্ষ তাদের কাছে আবেদন করেছে অন্তত ৪ মাস পর বেতন কার্যকর করার। তবে সরকার তাদের ৩ মাস সময় দিয়েছে। সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে সব কারখানায় বেতন দেয়া হবে কিনা-জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, শতভাগ কারখানায় ১ নভেম্বর থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেয়ার নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারছি না। তবে সবাই যাতে এ হারে বেতন দেয় সেজন্য মালিকদের অনুপ্রেরণা দেয়া হবে।
বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, কারখানার উত্পাদন বিভিন্ন কারণে প্রায় ৪০ ভাগ কমে গেছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আগেই যাতে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু হয়।
নতুন বেতন কাঠামো শ্রমিকরা মেনে নিয়েছে কিনা-জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শ্রমিক নেত্রী শিরিন আক্তার বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার টাকা করার। তবে মালিকদের বিষয়টিও দেখতে হবে। আমরা ১৪ দিন পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাব। তবে আশা করছি সবাই এটা মেনে নেবেন।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


