Amardesh
আজঃ ঢাকা, শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০১০, ১৫ শ্রাবণ ১৪১৭, ১৭ শাবান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দুদক আইন সংশোধনে সরকারের প্রস্তাবে জনসমর্থন নেই : টিআইবি

স্টাফ রিপোর্টার
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইন সংশোধনে সরকারের প্রস্তাবনাগুলো জনগণ সমর্থন করে না বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-টিআইবি। অধিকাংশ মানুষ সরকারের এসব প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। টিআইবির এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। টিআইবি দেশের ৭টি বিভাগের ২৯ জেলা ও ৭টি উপজেলায় ৩ হাজার ৯৯৮ জনের মধ্যে এ জরিপ চালায়। জরিপে ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারের ৪টি প্রস্তাবেরই বিরোধিতা করে। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম হাফিজউদ্দিন বলেন, সরকারের দুদক আইন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সংশোধনী জনগণ সমর্থন করে না। একটি গণতান্ত্রিক দেশে কিছু প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে সরকারও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত কক্তব্যে বলা হয়, দুদক আইন-২০০৪ সংশোধনীতে যে ৪টি প্রস্তাব জনগণ সমর্থন করে না, সেগুলো হলো—সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলে দুদককে সরকারের অনুমতি নিতে হবে, দুদকের সচিব নিয়োগ দেবে সরকার, দুদক রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহি করবে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্নীতির মামলা করা হলে ৫ বছরের কারাদণ্ড হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নিতে দুদককে সরকারের অনুমতি নিতে হবে—এ প্রস্তাব ৭৩ ভাগ উত্তরদাতা সমর্থন করেননি। তারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুমতি পাওয়া যাবে না।
দুদক সচিব নিয়োগ দেবে সরকার—এ প্রস্তাব ৭১ ভাগ উত্তরদাতা সমর্থন করেননি। দুদক রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহি করবে—এ প্রস্তাব ৪৮ ভাগ উত্তরদাতা সমর্থন করেছেন। উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্নীতির মামলা করা হলে ৫ বছরের কারাদণ্ড হবে—এ প্রস্তাব ৪৯ ভাগ সমর্থন করেন।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী সদস্য সুলতানা কামাল বলেন, দুদক আইনের সংশোধনীতে ৪টি প্রস্তাবের ওপর জনগণ দ্বিমত প্রকাশ করেছে। মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হলে সাধারণ মানুষ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করতে ভীষণভাবে নিরুত্সাহিত হবে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করা উচিত। দুদক আইন সংশোধনীতে এই ৪টি প্রস্তাব পাস করা হলে দুদকের স্বাধীনতা খর্ব হবে। এ কারণে সরকার প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করতে পারে।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুদককে শক্তিশালী করতে বলেছেন। সরকার নির্বাচনী ইশতেহারেও দুদককে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু গত ১৮ মাসে বর্তমান সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। এমনকি মন্ত্রী-এমপিরাও সম্পদের হিসাব দেননি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য সুলতানা কামাল।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?