Amardesh
আজঃ ঢাকা, শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০১০, ১৫ শ্রাবণ ১৪১৭, ১৭ শাবান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শিক্ষা সংকোচননীতি ও বাণিজ্যকরণ : খেসারত দিচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

জাকির হোসেন/দিলরুবা সুমী
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের ভর্তি ফি ও বেতন-ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো এসব ফি নির্ধারণ করছে। প্রতি বছরই বাড়ানো হচ্ছে কোনো না কোনো ফি। কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল-কলেজের বিষয়েও সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা এখন পর্যন্ত নেই। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালা তৈরি হলেও সেটাতে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে মালিকের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কোনো ক্ষমতা নেই এই নীতিমালায়। ইউজিসি কোনো পরামর্শ দিলে সেটা মানা-না মানাটাও নির্ভর করছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের ওপর। এই নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বেতন-ভাতাসহ নানাবিধ ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বলতে গেলে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিই এসব অনুমোদন দেবে।
এদিকে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল-কলেজসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতন-ভাতার ওপর সাড়ে ৪ শতাংশ মূল্য সংযোজন করারোপ করেছে সরকার। বছর বছর ভর্তি ফি, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, বেতনের ওপর করারোপসহ নানা কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের অভিভাবকদের। এসবই সরকারের শিক্ষা সঙ্কোচন নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, ছাত্রনেতা ও ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা। এতে করে বর্তমানে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মানব উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। ২০১৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক সেবায় পরিণত করারও ওয়াদা করেছিল দলটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে। অথচ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতন-ভাতার ওপর ভ্যাট আরোপ এবং ভর্তি ও টিউশন ফি নির্ধারণ করে না দিয়ে শিক্ষাকে আরও ব্যয়বহুল করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ২০০৭ সালের জুলাই থেকে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোর মাসিক আয়ের ওপর ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করেছে। আর প্রতিষ্ঠানগুলো এই ভ্যাট ছাত্রছাত্রীদের বেতনের ওপর আরোপ করেছে। ফলে এসব ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন বেড়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মধ্য আয়ের অভিভাবকরা। বিত্তবানরাও সন্তানদের পড়াশোনার জন্য ভ্যাট দিতে নারাজ।
এদিকে চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির ওপর সাড়ে ৪ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। এর ফলে ইউনিভার্সিটি ও বিভাগভেদে প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের খরচ ১ থেকে ৩ হাজার টাকা বেড়ে যায়। সাধারণত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার মাস পরপর একটি সেমিস্টার ধরা হয়। একটি বিভাগে চার বছরে সবগুলো কোর্স শেষ করা হয় ১২টি সেমিস্টারে। একজন ছাত্রের সবগুলো সেমিস্টার শেষ করতে লাগে প্রায় ৩ থেকে ৮ লাখ টাকা। এই টাকার ভ্যাট বাবদ আসে প্রায় ১৩ থেকে ৩৭ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই তাদের পড়াশোনার জন্য ভ্যাট বাবদ এই অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি নয়।
এ বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভের চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে গত ২৪ জুলাই। সেদিন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনে রাস্তায় নামে। দিনভর সড়ক অবরোধ করে রাখে। তাদের আন্দোলনে হামলা চালায় পুলিশ। এতে অনেক ছাত্র আহত হয়। গাড়ি ভাংচুরের মতো ঘটনাও ঘটে। যার ফলে সরকারকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ভর্তি ফি ও টিউশন ফির ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। গত বুধবার রাতে রাজধানীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সম্মানে দেয়া এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী দুজনই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের বেতন-ভাতার ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন; কিন্তু ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল-কলেজে আরোপিত ভ্যাটের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক ছাত্র জানান, এই বিভাগের ৪৭টি কোর্স শেষ করতে প্রায় চার বছর সময় লাগে। এ সময়ে সবগুলো কোর্সের ফি বাবদ দিতে হবে সাড়ে ৬ লাখ টাকা। চার মাস পরপর একটি সেমিস্টারে কোর্স সংখ্যার ওপর নির্ভর করে ফি জমা দিতে হয়। প্রতিটি সেমিস্টারে একটি কোর্সের ফি ১২ হাজার টাকা। আর এর ভ্যাট আসে ৫৩০ টাকা। এভাবে সর্বোচ্চ পাঁচটি কোর্সের জন্য চার মাস পরপর ফি দিতে হয় ৬০ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও এইচএসসি পরীক্ষায় গ্রেড পয়েন্ট ‘এ’ পাওয়ার পরও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনস্বল্পতার কারণে ভর্তির সুযোগ পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। এখানে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করার জন্য আমার বাবাকে একটি জমি বিক্রি করতে হয়েছে।
নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটিতে কোর্স ফি তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগেরই একটি কোর্স ফি বাবদ প্রতি সেমিস্টারে দিতে হয় ১৫ হাজার ৬০০ টাকা। ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বর্তমানে চার বছরের বিবিএ কোর্সে দিতে হয় ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। দুই বছর আগে ২০০৮ সালে এ বিভাগের কোর্স ফি ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সব কোর্স শেষ করতে চার বছরে লাগে ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন অল প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফোরামের সহ-সভাপতি সীমান্ত রহমান আমার দেশ’কে বলেন, একই বিষয় ইউনিভার্সিটি ভেদে একেক রকম ফি নির্ধারণ করে। কিন্তু আমরা মনে করি, সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরমেয়াদি সব ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকার বেশি কেউ নিতে পারবে না। একইভাবে অন্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দিতে হবে। তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীরাও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তে পারবে।
সাউথ ব্রিজ স্কুলে সন্তানকে পড়াচ্ছেন এমন এক অভিভাবক নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কষ্ট হলেও ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে দিয়েছি। এর মধ্যে মাসিক বেতনের সঙ্গে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। সামর্থ্য থাকলেও এই ভ্যাট আমি দিতে চাচ্ছি না। কারণ সন্তানের স্কুলের বেতনের ওপর ভ্যাট দেয়াটা কিছুতেই যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে না। সব অভিভাবকই যেন তাদের সন্তানকে উন্নতমানের শিক্ষা দিতে পারেন সে ব্যবস্থা যেখানে করা দরকার সেখানে ভ্যাট আরোপ করে শিক্ষার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বেশি বেতন-ভাতা নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করছে। আর তার দায় বহন করতে হচ্ছে অভিভাবকদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ কামাল বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই অভিপ্রেত ছিল না। সরকার চাইলে টিউশন ফি নির্ধারণের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হাতে ছেড়ে দিতে পারত। একই সঙ্গে টিউশন বিষয়ে একটি সীমানা নির্ধারণ করতে পারত। কিন্তু এটা না করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দিয়ে শিক্ষাকে একেবারে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ না পেয়ে ব্যাপকসংখ্যক ছাত্রছাত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। উচ্চবিত্ত পরিবারের পক্ষে এ টিউশন ফি দেয়ার সামর্থ্য থাকলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে এ ব্যয়ভার বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল তাতে টিউশন ফি নির্ধারণের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্জুরি কমিশনকে দেয়া ছিল; কিন্তু সংসদীয় কমিটি এটা বহাল রাখেনি। এটা ভালো হয়নি। কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। কাজেই এটা সমন্বয় করা প্রয়োজন।
অধিকারের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান বলেন, আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের সূচনা শিক্ষার আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হয়। বায়ান্ন’র রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৬৬-এর শিক্ষা আন্দোলন এবং ’৬৯-এর গণঅভুত্থানসহ প্রতিটি আন্দোলনে শিক্ষাকে সম্প্রসারণের দাবি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। স্বাধীনতার পরও শিক্ষার অধিকার সম্প্রসারণের দাবিতে ছাত্ররা স্বৈরাচারী, স্বেচ্ছাচারী, ফ্যাসিবাদী শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের শাসনামলে মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এই সংগ্রাম এখনও শেষ হয়ে যায়নি। কারণ মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে এখন শিক্ষাকে পণ্য করা হয়েছে। শিক্ষাকে অধিকারের পরিবর্তে বাণিজ্যে পরিণত করা হয়েছে। শিক্ষার অধিকারের এ ধরনের সঙ্কোচন নীতি আমাদের জাতীয় চেতনার বিরোধী। আমরা আশা করব, সরকার মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত না করে শিক্ষার অধিকারকে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেবে। অন্যদিকে ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেবে। কারণ ছাত্রদের মুক্তির আন্দোলনকে গ্রেফতার করে বন্ধ করা যায় না।
ডাকসুর সাবেক জিএস ডা. মুশতাক আহমেদ বলেন, আমাদের সংবিধানেই বলা হয়েছে—শিক্ষাকে পণ্য করা যাবে না। কাজেই শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে সরকারকে অবশ্যই অবস্থান নিতে হবে। তিনি বলেন, এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ব্যাপকসংখ্যক ছাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। এখানে টিউশন ফি অনেক বেশি। টিউশন ফি পরিশোধ করতে অনেক পরিবারকে হিমশিম খেতে হয়। কাজেই ছাত্রদের উচিত এ ব্যাপারে আন্দোলন করা। অন্যদিকে সরকারের উচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি নিয়ন্ত্রণ করা। একই সঙ্গে ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগকে আরও সম্প্রসারিত করা। এ ব্যাপারে সরকারের উদাসীন হওয়া ঠিক নয়।
রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে টিউশন ফি নির্ধারণের এখতিয়ার দেয়ার বিষয়টি অত্যন্ত অন্যায়। এর মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন এবং শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করার অবাধ সুযোগ দেয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষাকে পণ্য এবং মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে দেখতে চাই না। সরকার শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ এবং সঙ্কোচন নীতি থেকে সরে এসে শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবে।
ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হলেও মালিকপক্ষ কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত বাবা-মা অনেক কষ্টে তাদের সন্তান ভর্তি করতে বাধ্য হন। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অল্প খরচে পড়ার ব্যবস্থা করা উচিত সরকারের।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মানবেন্দ্র দেব বলেন, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে ছাত্র বেতন, ভর্তি ফি থেকে ভ্যাট আদায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, সরকার শিক্ষাকে একটি পণ্য করার চক্রান্ত করছে। একমাত্র পণ্যের ওপরই ভ্যাট বসানো হয়। শিক্ষা কোনো পণ্য নয়। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনটি সরকার পুরোপুরি মালিকদের স্বার্থে করেছে। এতে শিক্ষার্থীদের কোনো লাভ হয়নি। তাছাড়া সরকার একদিকে বলছে, শিক্ষাকে একই নীতির আওতায় আনা হবে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি মাধ্যম ইত্যাদি ক্ষেত্রে নানা নীতি চালু করছে। বেসরকারি শিক্ষাকে সঙ্কুচিত করেছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?