বিচারপতি ইমান আলী ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী
অলিউল্লাহ নোমান
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোঃ ইমান আলী ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। সম্প্রতি তার ব্রিটিশ পাসপোর্টের মেয়াদ আরও ১০ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্ধিত মেয়াদ অনুযায়ী তার ব্রিটিশ পাসপোর্টের বৈধতা হচ্ছে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ২০০৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তার ব্রিটিশ পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এটির মেয়াদ ১০ বছর বৃদ্ধি করা হয়। তার স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সবাই ব্রিটেনের নাগরিক হিসেবে সেখানে বসবাস করেন।
ব্রিটিশ পাসপোর্টে তাকে ‘ব্রিটিশ সিটিজেন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওকালতির বায়োডাটায় তিনি জাতীয়তা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বাংলাদেশী নাগরিক। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভের যোগ্যতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—‘(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হইলে, এবং (ক) সুপ্রিম কোর্টে অন্যূন দশ বত্সরকাল অ্যাডভোকেট না থাকিয়া থাকিলে, অথবা (খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বত্সরকাল কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করিয়া থাকিলে, অথবা (গ) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগ লাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা না থাকিয়া থাকিলে তিনি বিচারক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।’
সাংবিধানিক পদ হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে কোনো বিদেশি পাসপোর্টধারী ব্যক্তি বহাল থাকতে পারেন না। কারো এ ধরনের নাগরিকত্ব থাকলে বিদেশি পাসপোর্ট পরিত্যাগ করে শুধুমাত্র বাংলাদেশী নাগরিকত্ব রাখতে হয়। এছাড়া সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকে না।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিচারপতি মোঃ ইমান আলীর পাসপোর্ট ও সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নামের আগে ‘মোহাম্মদ’ (গঁযধসসধফ ওসসধহ অষর) পুরো উল্লেখ রয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির তালিকায় তার নামের আগে ‘মোঃ’ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়। তার ব্রিটিশ পাসপোর্টে নাগরিকত্বের স্থানে উল্লেখ রয়েছে ব্রিটিশ সিটিজেন। তার বায়োডাটায় উল্লেখ রয়েছে বাংলাদেশী নাগরিক। বায়োডাটা অনুযায়ী তিনি ছাত্রজীবনে পড়ালেখাও করেছেন ব্রিটেনে। তখন থেকেই তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে বলে জানা গেছে। ১৯৮২ সালের ১১ মে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন। ১৯৯১ সালের ১৪ আগস্ট সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারির দেয়া একটি প্রত্যয়নপত্রে তার আইনজীবী হিসেবে যোগদানের তারিখে কাটাকাটি রয়েছে। প্রথমে লেখা হয় ১৯৮৪ সালে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন। ১৯৮৪ শব্দটি কেটে ওপরে লেখা রয়েছে ১৯৭৯।
২০০১ সালের ২২ ফেবু্রয়ারি তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার কয়েক মাস আগে তাকে হাইকোর্ট বিভাগের অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার অস্থায়ী মেয়াদ শেষে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি তালিকার ক্রম অনুযায়ী তিনি বর্তমানে চতুর্থ জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি।
গতকাল রাতে তার সঙ্গে বাসায় যোগাযোগ করে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে আইনে বাধা আছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। সেটা আইনে বাধা আছে। আমার সম্পর্কে কোনো বিষয় জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্ট রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’ আবারও জানতে চাওয়া হয় বিচারপতি হওয়ার পর ব্রিটিশ পাসপোর্ট কোথাও জমা দিয়েছেন কিনা। তিনি বলেন, ‘বললাম তো আপনার সঙ্গে কথা বলা আমার আইনে নিষেধ আছে।’
সুপ্রিমকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের জন্য নীতিমালা করার বিধান তৈরি করতে সংবিধানে উল্লেখ থাকলেও কোনো সরকারই এই নীতিমালা বা আইন তৈরি করেনি। হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে, এমন যে কাউকে রাষ্ট্রপতি চাইলেই বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারছেন।
ব্রিটিশ পাসপোর্টে তাকে ‘ব্রিটিশ সিটিজেন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওকালতির বায়োডাটায় তিনি জাতীয়তা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বাংলাদেশী নাগরিক। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভের যোগ্যতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—‘(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হইলে, এবং (ক) সুপ্রিম কোর্টে অন্যূন দশ বত্সরকাল অ্যাডভোকেট না থাকিয়া থাকিলে, অথবা (খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বত্সরকাল কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করিয়া থাকিলে, অথবা (গ) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগ লাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা না থাকিয়া থাকিলে তিনি বিচারক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।’
সাংবিধানিক পদ হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে কোনো বিদেশি পাসপোর্টধারী ব্যক্তি বহাল থাকতে পারেন না। কারো এ ধরনের নাগরিকত্ব থাকলে বিদেশি পাসপোর্ট পরিত্যাগ করে শুধুমাত্র বাংলাদেশী নাগরিকত্ব রাখতে হয়। এছাড়া সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকে না।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিচারপতি মোঃ ইমান আলীর পাসপোর্ট ও সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নামের আগে ‘মোহাম্মদ’ (গঁযধসসধফ ওসসধহ অষর) পুরো উল্লেখ রয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির তালিকায় তার নামের আগে ‘মোঃ’ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়। তার ব্রিটিশ পাসপোর্টে নাগরিকত্বের স্থানে উল্লেখ রয়েছে ব্রিটিশ সিটিজেন। তার বায়োডাটায় উল্লেখ রয়েছে বাংলাদেশী নাগরিক। বায়োডাটা অনুযায়ী তিনি ছাত্রজীবনে পড়ালেখাও করেছেন ব্রিটেনে। তখন থেকেই তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে বলে জানা গেছে। ১৯৮২ সালের ১১ মে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন। ১৯৯১ সালের ১৪ আগস্ট সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারির দেয়া একটি প্রত্যয়নপত্রে তার আইনজীবী হিসেবে যোগদানের তারিখে কাটাকাটি রয়েছে। প্রথমে লেখা হয় ১৯৮৪ সালে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন। ১৯৮৪ শব্দটি কেটে ওপরে লেখা রয়েছে ১৯৭৯।
২০০১ সালের ২২ ফেবু্রয়ারি তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার কয়েক মাস আগে তাকে হাইকোর্ট বিভাগের অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার অস্থায়ী মেয়াদ শেষে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি তালিকার ক্রম অনুযায়ী তিনি বর্তমানে চতুর্থ জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি।
গতকাল রাতে তার সঙ্গে বাসায় যোগাযোগ করে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে আইনে বাধা আছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। সেটা আইনে বাধা আছে। আমার সম্পর্কে কোনো বিষয় জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্ট রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’ আবারও জানতে চাওয়া হয় বিচারপতি হওয়ার পর ব্রিটিশ পাসপোর্ট কোথাও জমা দিয়েছেন কিনা। তিনি বলেন, ‘বললাম তো আপনার সঙ্গে কথা বলা আমার আইনে নিষেধ আছে।’
সুপ্রিমকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের জন্য নীতিমালা করার বিধান তৈরি করতে সংবিধানে উল্লেখ থাকলেও কোনো সরকারই এই নীতিমালা বা আইন তৈরি করেনি। হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে, এমন যে কাউকে রাষ্ট্রপতি চাইলেই বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারছেন।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া



