ভুটানের রাজধানী থিম্পু এখন উত্সবের নগরী : স্বাগতিক দেশের সুখ ও শান্তি এজেন্ডা
বশীর আহমেদ, থিম্পু থেকে
সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে এ এক নতুন আয়োজন। ভুটানের রাজধানী থিম্পু এখন উত্সবের নগরী। বর্ণিল সাজে সেজেছে থিম্পু। ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের পর্দা উড়ছে এখানেই। যতদূর চোখ যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড়ের পাদদেশে সবুজের ঢেউ খেলে যায় প্রতিমুহূর্তে। এই সবুজের মাঝে হাজার বছরের ঐতিহ্য আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় গড়ে তোলা হয়েছে থিম্পুকে। রঙবেরঙয়ের ফেস্টুন, পতাকা আর আল্পনা আঁকা তোরণ থিম্পুকে দিয়েছে এক নতুন রূপ। সব মিলিয়ে থিম্পু যেন রঙ-তুলিতে আঁকা একটি ছবি। মানুষের মাঝে সুখ আর শান্তি ছড়িয়ে দেয়া যেন এখানকার সাধারণ মানুষের ধর্ম। আর তাইতো এবারের সার্ক সম্মেলনে নতুন আইডিয়া ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ বা সবার জন্য সুখ ও শান্তি এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ভুটান।
ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও সার্ক সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত গণসংযোগ বিভাগের সদস্য থিনলে দর্জি বলেন, ‘এ অঞ্চলের জনগণের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার বিষয়টিকে আমরা দর্শন হিসেবে নিয়েছি। আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এটি আলোচনা করে একটি সমন্বিত জায়গায় পৌঁছাবেন বলে আশা করছি। তবে আমরা নিশ্চিত করে বলছি না যে, সব সদস্য রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে একমত হবে। সার্ক সদস্য হিসেবে আমরা আমাদের অনুভূতি উপস্থাপন করছি।’
সার্ক প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পার হতে চলেছে। কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাধারণ মানুষের কল্যাণে খুব একটা সুফল বয়ে আনতে পারেনি। দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো সাফল্য নেই। বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর এক-পঞ্চমাংশ এখানে বাস করে। সার্ককে একটি কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে এর ব্যাপ্তি বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি একে ফলপ্রসূ করতে আরও পরিবর্তন প্রয়োজন।
এ সম্মেলনে পরিবেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও বাণিজ্য নিয়ে তিনটি চুক্তি সই হবে। চুক্তিগুলো হলো—সেবা বাণিজ্য চুক্তি (ট্রেড ইন সার্ভিসেস), প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা (সার্ক ন্যাচারাল ডিজাস্টার রেসপন্স মেকানিজম) ও পরিবেশ সহযোগিতা বিষয়ক সার্ক সনদ (সার্ক কনভেনশন অন কো-অপারেশন অন এনভায়রনমেন্ট)। সম্মেলনে তিনটি চুক্তি সই ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতিতে থিম্পুতে সার্ক উন্নয়ন তহবিলের (এসডিএফ) সদর দফতর উদ্বোধন করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২৮-২৯ এপ্রিল শীর্ষ সম্মেলন হলেও এর আগে সপ্তাহজুড়েই চলবে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক। সার্ক প্রোগ্রামিং কমিটির ৩৮তম বৈঠক হবে ২৪ এপ্রিল। সার্কের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্র সচিবদের অংশগ্রহণে সার্ক স্ট্যান্ডিং কমিটির ৩৭তম বৈঠক হবে ২৫-২৬ এপ্রিল। আর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে ৩২তম সার্ক কাউন্সিল অব মিনিস্টার্স বৈঠক হবে ২৭ এপ্রিল। ২৮-২৯ এপ্রিল দু’দিনের শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রনেতারা ভুটানের রাজার সঙ্গে যৌথ সাক্ষাত্ করবেন। এছাড়াও আট দেশের শীর্ষনেতারা টারমালিংকা রিসোর্ট হোটেলে একসঙ্গে অবসর সময় কাটাবেন। সাড়ে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ প্রতিনিধি এ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে থিম্পুর মিডিয়া কমিটি জানিয়েছে। এছাড়া প্রায় ২শ’ সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মীও এ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে তারা জানায়।
থিম্পুুর লাঞ্জোপাখায় অবস্থিত ভুটানের জাতীয় সংসদ ভবনের গ্র্যান্ড অ্যাসেম্বলি হলে অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। এখানেই ২৮ এপ্রিল উদ্বোধনী এবং ২৯ এপ্রিল সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। এছাড়া আটটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের থাকার জন্য মতিথাঙ্কে সার্কপল্লী নির্মাণ করা হয়েছে। এটি মূলত ভুটান সরকারের মন্ত্রীদের জন্য নির্মাণ করা হলেও তা এখন বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য ঠিক করা হয়েছে। বাড়িগুলোর একেকটিতে একেক দেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছে। এখন থেকেই প্রতিদিন থিম্পু শহরে রিহার্সেল চলছে কীভাবে বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানানো হবে। এর জন্য বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে।
গোটা থিম্পু শহর নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সাধারণ পর্যটকদের ভুটানে ভ্রমণের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ভুটানের বিভিন্ন শহরে প্রবেশে ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সার্ক শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের সব সময়ের জন্য এখানকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড সঙ্গে রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভুটানের পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানী থিম্পুর প্রতিটি সড়ক ও প্রধান চত্বরগুলো নানা বর্ণের পতাকা ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। এছাড়া আট দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের বড় বড় ছবি ও পতাকা শোভা পাচ্ছে। প্রধান সড়কগুলোতে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে রঙিন তোরণ।
এদিকে সম্মেলনের আয়োজন সম্পর্কে ভুটানের তথ্যমন্ত্রী লিওনপো নন্দলাল রায় সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমবারের মতো সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে পেরে আমরা খুবই গর্বিত। সার্ক তার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে এবার। আমাদের হয়তো সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা আছে, তবে এবারের সম্মেলনকে সফল করতে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। ভুটানের নতুন প্রজন্ম খুবই উত্সাহী, তাই এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তারা উত্সাহের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও সার্ক সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত গণসংযোগ বিভাগের সদস্য থিনলে দর্জি বলেন, ‘এ অঞ্চলের জনগণের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার বিষয়টিকে আমরা দর্শন হিসেবে নিয়েছি। আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এটি আলোচনা করে একটি সমন্বিত জায়গায় পৌঁছাবেন বলে আশা করছি। তবে আমরা নিশ্চিত করে বলছি না যে, সব সদস্য রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে একমত হবে। সার্ক সদস্য হিসেবে আমরা আমাদের অনুভূতি উপস্থাপন করছি।’
সার্ক প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পার হতে চলেছে। কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাধারণ মানুষের কল্যাণে খুব একটা সুফল বয়ে আনতে পারেনি। দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো সাফল্য নেই। বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর এক-পঞ্চমাংশ এখানে বাস করে। সার্ককে একটি কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে এর ব্যাপ্তি বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি একে ফলপ্রসূ করতে আরও পরিবর্তন প্রয়োজন।
এ সম্মেলনে পরিবেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও বাণিজ্য নিয়ে তিনটি চুক্তি সই হবে। চুক্তিগুলো হলো—সেবা বাণিজ্য চুক্তি (ট্রেড ইন সার্ভিসেস), প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা (সার্ক ন্যাচারাল ডিজাস্টার রেসপন্স মেকানিজম) ও পরিবেশ সহযোগিতা বিষয়ক সার্ক সনদ (সার্ক কনভেনশন অন কো-অপারেশন অন এনভায়রনমেন্ট)। সম্মেলনে তিনটি চুক্তি সই ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতিতে থিম্পুতে সার্ক উন্নয়ন তহবিলের (এসডিএফ) সদর দফতর উদ্বোধন করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২৮-২৯ এপ্রিল শীর্ষ সম্মেলন হলেও এর আগে সপ্তাহজুড়েই চলবে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক। সার্ক প্রোগ্রামিং কমিটির ৩৮তম বৈঠক হবে ২৪ এপ্রিল। সার্কের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্র সচিবদের অংশগ্রহণে সার্ক স্ট্যান্ডিং কমিটির ৩৭তম বৈঠক হবে ২৫-২৬ এপ্রিল। আর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে ৩২তম সার্ক কাউন্সিল অব মিনিস্টার্স বৈঠক হবে ২৭ এপ্রিল। ২৮-২৯ এপ্রিল দু’দিনের শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রনেতারা ভুটানের রাজার সঙ্গে যৌথ সাক্ষাত্ করবেন। এছাড়াও আট দেশের শীর্ষনেতারা টারমালিংকা রিসোর্ট হোটেলে একসঙ্গে অবসর সময় কাটাবেন। সাড়ে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ প্রতিনিধি এ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে থিম্পুর মিডিয়া কমিটি জানিয়েছে। এছাড়া প্রায় ২শ’ সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মীও এ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে তারা জানায়।
থিম্পুুর লাঞ্জোপাখায় অবস্থিত ভুটানের জাতীয় সংসদ ভবনের গ্র্যান্ড অ্যাসেম্বলি হলে অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। এখানেই ২৮ এপ্রিল উদ্বোধনী এবং ২৯ এপ্রিল সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। এছাড়া আটটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের থাকার জন্য মতিথাঙ্কে সার্কপল্লী নির্মাণ করা হয়েছে। এটি মূলত ভুটান সরকারের মন্ত্রীদের জন্য নির্মাণ করা হলেও তা এখন বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য ঠিক করা হয়েছে। বাড়িগুলোর একেকটিতে একেক দেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছে। এখন থেকেই প্রতিদিন থিম্পু শহরে রিহার্সেল চলছে কীভাবে বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানানো হবে। এর জন্য বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে।
গোটা থিম্পু শহর নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সাধারণ পর্যটকদের ভুটানে ভ্রমণের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ভুটানের বিভিন্ন শহরে প্রবেশে ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সার্ক শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের সব সময়ের জন্য এখানকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড সঙ্গে রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভুটানের পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানী থিম্পুর প্রতিটি সড়ক ও প্রধান চত্বরগুলো নানা বর্ণের পতাকা ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। এছাড়া আট দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের বড় বড় ছবি ও পতাকা শোভা পাচ্ছে। প্রধান সড়কগুলোতে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে রঙিন তোরণ।
এদিকে সম্মেলনের আয়োজন সম্পর্কে ভুটানের তথ্যমন্ত্রী লিওনপো নন্দলাল রায় সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমবারের মতো সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে পেরে আমরা খুবই গর্বিত। সার্ক তার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে এবার। আমাদের হয়তো সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা আছে, তবে এবারের সম্মেলনকে সফল করতে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। ভুটানের নতুন প্রজন্ম খুবই উত্সাহী, তাই এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তারা উত্সাহের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


