Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২২ এপ্রিল ২০১০, ৯ বৈশাখ ১৪১৭, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শাওনের ইশারা ছাড়া ডিসিসির টেন্ডারের ফয়সালা হয় না

স্টাফ রিপোর্টার
যুবলীগ নেতা নূরুন্নবী চৌধুরী শাওনের ইশারা ছাড়া ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) কোনো টেন্ডারেরই ফয়সালা হয় না। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রকাশ্যে কিংবা নেপথ্যে থেকে ডিসিসির সব ধরনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছে যুবলীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ও ভোলা-৩ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাওন। ডিসিসি ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিতে তিনি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নগরীর দক্ষিণাঞ্চল রয়েছে তার নিয়ন্ত্রণে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শাওন শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। চাপিয়ে বেড়াচ্ছেন একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। গার্মেন্টসহ একাধিক শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। গত দেড় বছরে নামে বেনামে একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসহ এলাকাগুলো ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রলীগের মাধ্যমে নূরুন্নবী চৌধুরী শাওনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হলেও নব্বইয়ের দশকে ছাত্রলীগ ছেড়ে যুক্ত হন যুবলীগের সঙ্গে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের মাধ্যমে রাজনীতির শুরু হলেও তার উত্থান ঘটেছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনীতিতে শাওনের এই উত্থানের পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিছু হর্তাকর্তার আশীর্বাদও ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তত্কালীন রমনা-তেজগাঁও এলাকার সংসদ সদস্য ডা. এইচবিএম ইকবালের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। তার নাম ভাঙিয়ে শাওন তার সহযোগীদের নিয়ে মগবাজার, মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগর এলাকায় চাঁদাবাজি শুরু করে। আওয়ামী লীগ শাসনামলের শেষদিকে মালিবাগে ডা. ইকবালের মিছিল থেকে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার যে ঘটনা ঘটে তার নেপথ্যে ছিল শাওন। এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থিক একটি গ্রুপের পক্ষ থেকে শাওনের বিচার দাবি করে রাজধানীতে পোস্টারিংও হয়।
আগামী ২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনে শাওন আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন পেলেও ওয়ান ইলেভেনের সময় তার চলাফেরা ছিল মূলধারার আওয়ামী লীগের উল্টো পথে। ওই সময় তিনি কিংস পার্টি খ্যাত ফেরদৌস আহমেদ কোরাইশীর গঠন করা প্রগেসিভ ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে (পিডিবি) যোগদানেরও ঘোষণা দেয়। যার সংবাদ তখনকার একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ঘটনার জের ধরে যুবলীগ তখন তাকে দল থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। তবে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। ওয়ান ইলেভেনে কিংস পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার সুবাদে শাওন ঢাকার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের টেন্ডার পাইয়ে দিতে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা পালন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুবলীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাওন ও তার সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন মহি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) সব ধরনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছেন। এদিকে মহিউদ্দিন মহি সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ায় অনেক সময় রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। আর এ কারণে ডিসিসির টেন্ডারের পুরো নিয়ন্ত্রণই শাওন নিজের হাতে তুলে নেন। শাওনের হস্তক্ষেপ ছাড়া নগর ভবনের কোনো টেন্ডারই হয় না বলেই ডিসিসির তালিকাভুক্ত একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, শাওনের নাওয়াল কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থাকলেও তিনি তার প্রতিষ্ঠানের নামে খুব বেশি কাজ নেন না। বেছে বেছে দু’একটি কাজ ছাড়া বাকিগুলো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করে থাকেন। তিনি মিম, মাহমুদা, মালিহাসহ বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে। বিনিময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় ধরনের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পান। গত এক বছরে টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে নগর ভবনে যতগুলো অঘটন ঘটেছে তার প্রতিটির সঙ্গেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শাওন জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। জানা গেছে, মহাজোট ক্ষমতায় আসার পরপরই বিএনপি সমর্থিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে শাওন ও তার সহযোগী যুবলীগ কর্মীরা নগর ভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। শাওনের মালিকানাধীন নাওয়াল কনস্ট্রাকশন সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ মতিঝিল এলাকার কার পার্কিয়ের কাজ বাগিয়ে নিয়েছে। এখানে আগে পার্কিংয়ের জন্য গাড়িপ্রতি ১০ টাকা টোল নেয়া হলেও শাওনের প্রতিষ্ঠান ২০ টাকা করে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, মতিঝিলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার টোল আদায়ের কাজ পেলেও গোটা মতিঝিল, দিলকুশা, দৈনিক বাংলা এলাকায় তার কর্মীবাহিনী রসিদ নিয়ে চাঁদা আদায় করছে।
ডিসিসি ছাড়াও পিডব্লিউডি, রেল ভবন, খাদ্য ভবন, ক্রীড়া পরিষদ, টিঅ্যান্ডটি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ভবনসহ এ এলাকার বেশিরভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারবাজির সঙ্গে শাওনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।
টেন্ডারবাজির পাশাপাশি শাওনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, বঙ্গবাজারসহ এ এলাকায় অবস্থিত ডিসিসির বিভিন্ন মার্কেট ও দোকান থেকে শাওন নিয়মিত মাসোহারা পান। এছাড়া বিজয়নগর, মতিঝিল, দিলকুশা, আরামবাগ ক্লাবপাড়াসহ বেশকিছু এলাকায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মহাজোট সরকারের ১৬ মাসের মধ্যে শাওন শত কোটি টাকা কামিয়েছেন। কোটি টাকা মূল্যের প্রাডো গাড়িসহ তার ব্যক্তিগত ৩/৪টি গাড়ি রয়েছে। গুলশান, বারিধারায় একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। টঙ্গীতে একটি গার্মেন্ট কারখানাসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?