Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২২ এপ্রিল ২০১০, ৯ বৈশাখ ১৪১৭, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নির্বাচন কমিশনের একচোখা নীতিতে হতবাক এলাকাবাসী : আ’লীগ প্রার্থীর সব দাবি পূরণ, বিএনপি প্রার্থীর কোনো কথাই আমলে আনা হচ্ছে না

কাজী জেবেল/সাইফ বাবলু, ভোলা থেকে
ভোলা-৩ শূন্য আসনে একতরফা উপনির্বাচন করতে যাচ্ছে ইসি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নূরুন্নবী চৌধুরী শাওনের দেয়া সবকটি দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। অথচ বিরোধীদলীয় বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কোনো দাবি পূরণ করেনি নির্বাচন কমিশন। উল্টো বিএনপির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন সিইসি। ইসির এ ধরনের আচরণে হতবাক স্থানীয় জনগণ। তারা মাগুরা নির্বাচনের আদলে ভোলা নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে গতকাল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী পরিবেশ নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানান। অপরদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। শেষ মুহূর্তে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ভোলায় সরকারি দলের নেতাকর্মীরা কোনো সহিংস ঘটনায় জড়িত নয় বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। আর বিএনপি বলেছে, তারা নির্বাচন বয়কটের চিন্তাও করছে না। এদিকে গতকালও সরকারদলীয় ক্যাডারদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিরোধীদলীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। ভাংচুর করা হয় বাড়িঘর। লাঞ্ছিত করা হয় নারীদের। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের এক ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকালও লালমোহন ও তজুমদ্দিনে সরকারদলীয় বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাওনের বাসায় এবং লালমোহনে তার শেষ জনসভায় প্রচুর বহিরাগত ক্যাডারকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে কিন্তু বহিরাগতদের গ্রেফতারে র্যাব ও পুলিশের তেমন কোনো তত্পরতা দেখা যায়নি।
ভোলা-৩ আসনের নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্কণ্ঠা ততই বাড়ছে। সরকারদলীয় ক্যাডাররা লালমোহন ও তজুমদ্দিনে নির্বাচনী এলাকার বিএনপি সমর্থিত সাধারণ ভোটার ও মহিলাদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার সিইসি ড. এটিএম শামসুল হুদার কাছে অস্ত্রধারী বহিরাগতদের গ্রেফতার করার দাবি জানান বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ। এছাড়া তিনি নির্বাচনী কেন্দ্রে স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ না করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েন, নির্বাচনের সময় সিইসি বা একজন কমিশনার সশরীরে উপস্থিত থাকার দাবি জানান। এসব দাবি শোনার একদিন পর গতকাল সিইসি তা নাকচ করে দেন। তজুমদ্দিন উপজেলার পঞ্চপল্লী স্কুল মাঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তাদের এখন না করা সম্ভব নয়। এছাড়া সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সিইসির সামনে অনাপত্তি জানালেও সিইসি সাফ জানিয়ে দেন—নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হবে না। মঙ্গলবারই অপর নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন জানান, নির্বাচনের দিন কোনো নির্বাচন কমিশনারই ভোলায় উপস্থিত থাকবেন না। অপরদিকে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাওনের নির্বাচন সমন্বয়কারী তোফায়েল আহমেদ সিইসিকে ২২ এপ্রিলের মধ্যে সব কেন্দ্রীয় নেতাকে লালমোহন ও তজুমদ্দিন থেকে বের করে দেয়ার আহ্বান জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন। পরে বিভিন্ন সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা বারবার ঘোষণা করেন। অথচ বিএনপি প্রার্থী মেজর হাফিজ অন্তত ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য বারবার অনুমতি চেয়েও পাননি। এছাড়া প্রশাসন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অনেক অভিযোগ পেয়েও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গতকাল তজুমদ্দিন থানার মলমচড়ার সেলিমবাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপি সমর্থক ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ভোটার আইডি কার্ড জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, এসব ভোটার যাতে নির্বাচনে ভোট দিতে না পারে, আওয়ামী লীগ তাই নতুন পন্থায় কাজ করছে। যারা ভোটার আইডি কার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে জমা দেবে না, তাদের হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাধারণ ভোটার ও বিএনপি নেতা ব্যাপক কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে ইসির একগুঁয়ে সিদ্ধান্তে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। এতে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে না। তারা বলেন, আরেকটি মাগুরা নির্বাচন ভোলায় হতে যাচ্ছে। যার নেপথ্যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশনাররা।
শেষ মুহূর্তে প্রচারণা তুঙ্গে : ভোলা-৩ আসনের নির্বাচন শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ভোটের জন্য ছুটছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। জয়-পরাজয়ের হিসাব মেলাতে প্রার্থীদের চোখে ঘুম নেই। একটি ভোটের জন্য কয়েকবার যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। তবুও নিশ্চিত হতে পারছেন না। শুধু প্রার্থীরাই নন, তাদের পক্ষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতানেত্রীরা।
নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর দাবি হাফিজের : ভোলা-৩ আসনে এখনও অসংখ্য বহিরাগত সশস্ত্র অবস্থান করছে জানিয়ে মেজর (অব.) হাফিজ তার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশের সহায়তায় সরকারি দলের ক্যাডাররা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের পুলিশের সঙ্গে খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখা যায়। অনেক সন্ত্রাসীকে র্যাবের টহল গাড়িতে চড়তেও দেখা গেছে। এসব ক্ষেত্রে ইসি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এসব সন্ত্রাসী ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভয় দেখাবে। এ অবস্থার মধ্যেও ভোটের সময় কোনো কেন্দ্রীয় নেতা ভোলা-৩ আসনে থাকতে পারবেন না বলে ইসি জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা থাকলে কারচুপির নির্বাচন হবে না, তাই ইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমি অবশ্যই নির্বাচন করব। নির্বাচন বয়কট করার কোনো চিন্তাই আমাদের নেই।
নির্বাচনকে রাজনৈতিক ইস্যু করার ষড়যন্ত্র চলছে—হানিফ : গতকাল অনেকটা আকস্মিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। বিকাল ৩টার কিছু পর সাংবাদিকদের মোবাইলে ফোন করে সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সময় সাংবাদিকরা শাওনের বাসভবনে উপস্থিত হলে অনেকটা আশ্চর্য হন তিনি। কোনো সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়নি বলেও জানান শাওন। পরে শাওনের বাসভবনের সামনের মাঠে সংবাদ সম্মেলনে হানিফ বলেন, নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় হবে। তাদের পরাজয়কে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে তারা।
আমানউল্লাহ আমান প্রধান সমন্বয়কারী : মেজর (অব.) হাফিজের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী হিসেবে আমানউল্লাহ আমনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গতকাল থেকে তিনি দায়িত্ব পালন শুর করেছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনেও এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়েছে।
সিইসির ‘আইওয়াশ’ মতবিনিময় সভা : ভোলার আতঙ্কগ্রস্ত ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের কথা শুনতে মঙ্গলবার ও বুধবার সিইসি ড. এটিএম শামসুল হুদা লালমোহন ও তজুমদ্দিনের কয়েকটি স্থানে ‘আইওয়াশ’ মতবিনিময় করেন। এসব মতবিনিময়ের লক্ষ্য ছিল ভোলার পরিস্থিতি নিয়ে ভোটাররা কি ভাবছেন তা বোঝা। কিন্তু অনেক আগ থেকে মতবিনিময়ের আয়োজন করায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তাতে আমন্ত্রণ জানানোর কারণে সাধারণ ভোটাররা মন খুলে কথা বলতে পারেননি। সিইসি বারবার তাদের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে বললেও সামনে বসে থাকা সরকারি দলের নেতাদের ভয়ে তারা তেমন কোনো কথা বলেনি।
বহিরাগত সবাইকে আজ বের করে দেয়া হচ্ছে : নির্বাচনের আচরণ বিধি অনুযায়ী ২২ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে সব ধরনের জনসভা ও পথসভা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে মঙ্গলবার লালমোহন উপজেলা পরিষদে দুই প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠকে সিইসির দেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রাত ১২টার আগে সব বহিরাগতকে নির্বাচনী এলাকা লালমোহন ও তজুমদ্দিন থেকে বের করে দেয়া হবে। কেউ এলাকা ত্যাগ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। এমনকি বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও অবস্থান করতে পারবেন না।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?