Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২২ এপ্রিল ২০১০, ৯ বৈশাখ ১৪১৭, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নিজের রায় থেকে সরে এসে বিদেশ যেতে বাধা সৃষ্টি করলেন চেম্বার জজ

অলিউল্লাহ নোমান
নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে বিদেশ যাওয়ায় বাধা না দিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা স্থগিত করলেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন। গত মঙ্গলবার সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং কয়েক দিন আগে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বিদেশে যাওয়ায় বাধা না দিতে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ স্থগিত করেছেন তিনি। এতে মানবিক কারণে তাদের বিদেশ যাওয়া আটকে গেছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী চিকিত্সার জন্য এবং মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ওমরা হজ ও মদিনায় জান্নাতুল বাকিতে নিজের স্ত্রী, বড় মেয়ে ও বোনের কবর জিয়ারতে যেতে চেয়েছিলেন। এই গ্রাউন্ডে তাদের বিদেশে যাওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া বাধা না দিতে হাইকোর্ট বিভাগ সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন। অথচ তিনি নিজের রায়েই লিখেছিলেন বিদেশে যেতে বাধা দেয়া মৌলিক মানবাধিকার পরিপন্থী ও সংবিধানের ৩৬নং অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। নিজের এই রায় থেকে সরে এসে চিকিত্সা ও ওমরা হজে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করলেন হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনাকে স্থগিত করে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে বাধা দেয় সরকার। গত বছরের ২৪ জুলাই তাকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। তখন ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওপরের ক্লিয়ারেন্স না থাকায় তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। বিদেশে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে আটকে দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনটি গ্রহণ করে প্রথমে একটি বেঞ্চ সরকারের প্রতি কারণ দর্শানোর রুল জারি করেন। পরে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি বোরহান উদ্দিন সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ রুলের শুনানি গ্রহণ করে। সরকার পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত বছরের ১২ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়া হয়। রায়ে বলা হয়, ২৪ জুলাই আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে বাংলাদেশ ত্যাগের সময় বিমানবন্দরে বাধা দেয়ার ঘটনাটি সংবিধানের ৩৬নং অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মৌলিক মানবাধিকার পরিপন্থী। একইসঙ্গে রায়ে মাওলানা সাঈদীকে বিদেশে যেতে এবং বিদেশ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে কোনো রকমের বাধা না দিতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রথমে লিভ টু আপিল দাখিলের অনুমতি চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে হাইকোর্ট বিভাগের রায় স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছিল। চেম্বার জজ আদালত তখন সরাসরি স্থগিতাদেশ না দিয়ে বিষয়টি আপিল বিভাগের ফুলকোর্টে পাঠিয়ে দেন। আপিল বিভাগের ফুলকোর্ট শুনানি শেষে ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন। আপিল বিভাগ সরকারের পক্ষে দায়ের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের রায়টি বহাল রাখেন। অর্থাত্ কাউকে বিদেশে যাওয়ায় বাধা দেয়া সংবিধানের ৩৬নং অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মৌলিক মানবাধিকার পরিপন্থী বলে হাইকোর্ট বিভাগের রায়টি বহাল থাকে। এই মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানান, আপিল বিভাগের এই রায়টি লিখেছিলেন বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন। এখন তিনি নিজেই আপিল বিভাগের রায় থেকে সরে এসে বিদেশে যাওয়ায় বাধা সৃষ্টি করলেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?