পুলিশ প্রশাসন চলছে সিন্ডিকেটের নির্দেশে
ফকরুল আলম কাঞ্চন
পুলিশ প্রশাসন চলছে অলিখিত এক সিন্ডিকেটের নির্দেশে। বর্তমান সরকারের আস্থাভাজন কয়েকজন সিনিয়র অফিসার মিলে গড়ে তুলেছেন এই সিন্ডিকেট। অলিখিত এই ক্ষমতাধর সিন্ডিকেটের ইশারায় পুলিশের বদলি, পোস্টিং, ওএসডি এমনকি রিক্রুটিং বাণিজ্যও চলছে। এই সিন্ডিকেটের বাইরে বৃহত্তম বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের প্রভাবশালী দুই সংসদ সদস্যও আছেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। পুলিশ প্রশাসনের অনেক কিছুই চলে এই দুই এমপি’র আদেশ-নির্দেশে। এই দুই নেতার ঢাকার বনানী ও ধানমন্ডির বাড়ি এবং এমপি হোস্টেলে সকাল-সন্ধ্যা পুলিশ ও তদবিরকারীদের ভিড় দেখে সহজেই অনুমান করা যায় তারা কতখানি প্রভাবশালী। জনশ্রুতি রয়েছে, বাগেরহাট অঞ্চলের ওই সংসদ সদস্যের তদবির না শোনার কারণেই সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। এই বিরোধের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। পুলিশ প্রশাসনে সিন্ডিকেট এবং ক্ষমতাসীন দুই নেতার হস্তক্ষেপে পেশাদার এবং মেধাবী অফিসাররা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এ কারণে পুলিশ প্রশাসনে বিরাজ করছে চাপা অসন্তোষ। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন .সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নবগঠিত এই সিন্ডিকেটে আট সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা সক্রিয় রয়েছেন। আট কর্মকর্তার মধ্যে অতিরিক্ত আইজি পদমর্যাদার একজন সংখ্যালঘু কর্মকর্তা রয়েছেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। সিন্ডিকেটের অপর সদস্য বিশেষ জেলার বাসিন্দা ডিআইজি পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা এখন পুলিশ সদর দফতরের দুর্দান্ত ক্ষমতাবান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। অতিসম্প্রতি এই কর্মকর্তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। জমি দখলের ঘটনায় এসপি মিজানকে সাসপেন্ড করা হয়। কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় ডিআইজি এবং অপর আরও এক পুলিশ কর্মকর্তা রেহাই পেয়ে যান। এককালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন বর্তমানে ডিআইজি পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য। ডিআইজি পদমর্যাদার অপর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। তিনি এখন পুলিশের ক্ষমতাধর কর্তাব্যক্তি। সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী অপর দুই সদস্য এসপি পদমর্যাদার। এদের একজন চট্টগ্রাম এবং অপরজন ঢাকায় কর্মরত। সিন্ডিকেটের সর্বকনিষ্ঠ কর্মকর্তাটি ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার। বর্তমানে তিনি ডিসি’র (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা হয়েও তিনি ডিএমপিতে প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বিশেষ জেলার বাসিন্দা এই জুনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাকে অনেক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাও সমীহ করে চলেন।
সূত্র জানায়, পুলিশ প্রশাসনে এখন আর পেশাদারিত্ব বলে কিছু নেই। বদলি, ওএসডি, রিক্রুটিং—সবই নিয়ন্ত্রণ করছে এই সিন্ডিকেট। ক্ষমতাধর এই পুলিশ কর্মকর্তাদের সুপারিশ বা সম্মতি ছাড়া পুলিশ প্রশাসনে কিছুই হয় না। তাদের সুপারিশ ও সম্মতি পুলিশ প্রশাসনে এখন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি-তদবিরের সুপারিশও এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। বিভিন্ন মামলার তদন্তও নিয়ন্ত্রণ করে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তাদের কথার বাইরে গিয়ে কাজ করার সাহস খুব কম পুলিশ সদস্যেরই রয়েছে। অতিসম্প্রতি এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা পুলিশ অফিসারদের একটি তালিকা তৈরি করছে। ওই তালিকায় অফিসারদের ছাত্রজীবন, পারিবারিক জীবন, পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম-পরিচয়, কোন জেলার বাসিন্দা এবং রাজনৈতিকভাবে কোন মানসিকতার তা লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই নিয়মবহির্ভূত তালিকা নিয়ে একটি ভীতি কাজ করছে। জানা যায়, বর্তমান সরকার ও তার জোটভুক্ত দলের রাজনৈতিক বিশ্বাসের পুলিশ সদস্য ছাড়া অন্যরা আতঙ্গে আছেন। কারণ, তালিকায় অনেক পেশাদার ও মেধাবী পুলিশ অফিসারকে বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রস্তুতি শেষে প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের কাছে এই তালিকা পেশ করা হবে। সূত্র জানায়, রাজনৈতিক প্রভাবশালী পুলিশ অফিসাররা এভাবে তালিকা করায় সাধারণ পুিলশ অফিসারদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের মতে, পুলিশের মতো একটি ইউনিফর্ম সার্ভিসে কর্মকর্তাদের তালিকা করে বাহিনীর পেশাদারিত্বের সুনাম নষ্ট করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, পুলিশ প্রশাসনে এখন আর পেশাদারিত্ব বলে কিছু নেই। বদলি, ওএসডি, রিক্রুটিং—সবই নিয়ন্ত্রণ করছে এই সিন্ডিকেট। ক্ষমতাধর এই পুলিশ কর্মকর্তাদের সুপারিশ বা সম্মতি ছাড়া পুলিশ প্রশাসনে কিছুই হয় না। তাদের সুপারিশ ও সম্মতি পুলিশ প্রশাসনে এখন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি-তদবিরের সুপারিশও এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। বিভিন্ন মামলার তদন্তও নিয়ন্ত্রণ করে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তাদের কথার বাইরে গিয়ে কাজ করার সাহস খুব কম পুলিশ সদস্যেরই রয়েছে। অতিসম্প্রতি এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা পুলিশ অফিসারদের একটি তালিকা তৈরি করছে। ওই তালিকায় অফিসারদের ছাত্রজীবন, পারিবারিক জীবন, পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম-পরিচয়, কোন জেলার বাসিন্দা এবং রাজনৈতিকভাবে কোন মানসিকতার তা লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই নিয়মবহির্ভূত তালিকা নিয়ে একটি ভীতি কাজ করছে। জানা যায়, বর্তমান সরকার ও তার জোটভুক্ত দলের রাজনৈতিক বিশ্বাসের পুলিশ সদস্য ছাড়া অন্যরা আতঙ্গে আছেন। কারণ, তালিকায় অনেক পেশাদার ও মেধাবী পুলিশ অফিসারকে বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রস্তুতি শেষে প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের কাছে এই তালিকা পেশ করা হবে। সূত্র জানায়, রাজনৈতিক প্রভাবশালী পুলিশ অফিসাররা এভাবে তালিকা করায় সাধারণ পুিলশ অফিসারদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের মতে, পুলিশের মতো একটি ইউনিফর্ম সার্ভিসে কর্মকর্তাদের তালিকা করে বাহিনীর পেশাদারিত্বের সুনাম নষ্ট করা হচ্ছে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


