Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২১ মার্চ ২০১০, ৭ চৈত্র ১৪১৬, ৪ রবিউসসানি ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 হুদার কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : ৬০ কোটি টাকার জুটমিল ৯ কোটিতে বিক্রির পাঁয়তারা

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ধ করে দেয়া ৬০ কোটি টাকা মূল্যের মনোয়ার জুট মিল মাত্র ৯ কোটি টাকায় বিক্রির পাঁয়তারা করছে বিজেএমসি। এতে সরকার ৫০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে মিলের চাকরি হারানো শ্রমিক-কর্মচারীরা গতকাল বিকেলে মনোয়ার জুট মিল চালু সংগ্রাম পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের নেতারা এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার ইসলাম। এ সময় সংগ্রাম পরিষদের অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
নেতারা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের আটিগ্রামে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে ১৯৬৫ সালে ৯ একর ৫ শতাংশ জমিতে মনোয়ার জুট মিলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর মিলটি রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। এরপর মিলটি অত্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চারদিকে পরিচিতি লাভ করে। পরে ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকার লোকসানের অজুহাতে মিলটি বন্ধ করে দেয়। ফলে মিলের সহস্রাধিক শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিজেএমসি মিলটি বিক্রির জন্য ১৯৯৭ সালের ২২ এপ্রিল টেন্ডার আহবান করে। টেন্ডারে মিলটির সর্বোচ্চ দর ওঠে ৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। মেসার্স শামসুন্নাহার জুট ইন্টারন্যাশনাল সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তার কাছে মিলটি হস্তান্তর করার জন্য একই বছরের ১০ জুনের মধ্যে লেটার অব ইনটেম্লট প্রদান করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সালের এপ্রিলের ২৬ তারিখ পর্যন্ত সতেরো বার সময়সীমা বর্ধিত করার পরও টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হয়। এ কারণে বিজেএমসি ২০০২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর স্মারক নং লেটার অফ ইনটেম্লট নং- বিজেএমসি/ পিএল/ জেএম/ বিক্রয়/১/ ৯৬-৯৭/৮৭৮, তাং- ১০.০৬.৯৭ ইং বাতিল করে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানের আর্নেস্টমানি ১৪ লাখ টাকা বাতিল করে। কিন্তু পরে দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি তার আর্নেস্টমানি বাতিলের বিষয়টি স্থগিত রাখতে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং- ৪৭৯০/০২ দায়ের করে। দীর্ঘদিন পর অজ্ঞাত কারণে ওই প্রতিষ্ঠানকে ২০০৯ সালের ২১ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত স্মারক নং- বপাম/শাঃবেঃবিঃ/ বিক্রয়-৫/০২/০৪ (২য় খণ্ড)/২৭২ পত্রে মিলটি বুঝে নেয়ার জন্য ডাউন পেমেন্ট জমাদানের চিঠি প্রেরণ করে, যেখানে ১৯৯৭ সালের ধার্যকৃত ৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা মূল্যেই মিলটি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, বর্তমান বাজারমূল্যে মিলটির শুধু জমির মূল্যই ৫০ কোটি টাকা এবং মিলের যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামোর মূল্য ১০ কোটি টাকা হবে। অথচ মিলটি মাত্র ৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি করলে সরকার প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা ১৯৯৬ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর মিলটি চালুর আবেদন করলে আবেদনটি বিবেচনার জন্য রাখা হয়েছিল। বর্তমান মহাজোট সরকার বন্ধ পাটকল চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বন্ধ করে দেয়া মনোয়ার জুট মিলটি বিক্রি না করে পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছে মনোয়ার জুট মিল চালু সংগ্রাম পরিষদ। তা না হলে মিলটি শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে ওই মূল্যেই হস্তান্তরেরও দাবি জানিয়েছে। এতে পাটশিল্প রক্ষা, দেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ ও সহস্রাধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে বলেও দাবি করেছে সংগ্রাম পরিষদ।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?