নৌ-ধর্মঘট প্রত্যাহারে বন্দরে প্রাণচাঞ্চল্য স্বস্তিতে যাত্রীরা
স্টাফ রিপোর্টার
নৌযান শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ায় ফের প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে দেশের নৌবন্দরগুলো। গতকাল ঢাকা নৌ-বন্দরসহ (সদরঘাট) দেশের সবক’টি বন্দর থেকে লঞ্চ যাতায়াত করেছে। তিনদিন নৌ-ধর্মঘট চলায় গতকাল লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর থেকে মালবাহী কার্গো, লাইটারসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করেছে। জাহাজে মাল বোঝাই ও খালাস হয়েছে। নৌ-ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এদিকে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, যেসব শ্রমিক নেতার খামখেয়ালিপনায় গত তিনদিন সারাদেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নৌ-শ্রমিকদের ২২ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে নৌ-ধর্মঘট শুরু হয়। তিনদিন ধর্মঘট চলার পর বৃহস্পতিবার রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হেয়ার রোডের বাসভবনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে সমঝোতা হওয়ার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। ওই বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী ছাড়াও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপরই শুরু হয় নৌযান চলাচল। গতকাল সরেজমিন ঢাকা নদীবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, সকালে যাত্রীদের তেমন কোনো ভিড় না থাকলে বেলা গড়াতে ক্রমেই যাত্রীদের উপস্থিতিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে বন্দর। রাতে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত সদরঘাট ও এর আশপাশ এলাকা সরব ছিল। গতকাল ঢাকা থেকে দেশের সবক’টি রুটেই লঞ্চ চলাচল করেছে। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চ সদরঘাটে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ শাহ আলম আমার দেশকে জানান, সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ২২ দফা দাবি বাস্তবায়নে সমঝোতা হওয়ার পর নৌযান শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদরঘাট টার্মিনালের ট্রাফিক পরিদর্শক মোহাম্মদ সুলায়মান জানান, সকাল থেকে স্বাভাবিক নিয়মে লঞ্চ চলাচল করেছে। এদিকে ধর্মঘটে মদতদাতাদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান। বৃহস্পতিবার রাতে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের ১২ ঘণ্টা পার না হতেই তিনি বলেছেন, ‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি গোষ্ঠী সাধারণ শ্রমিকদের ধর্মঘট করতে উস্কানি দিয়েছে। শিগগিরই তাদের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচন করা হবে।’ যুদ্ধাপরাধের বিচারের সঙ্গে এই ধর্মঘটের সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে আজকে কেউ কেউ মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন।’ গতকাল মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিআইডব্লিউটিএ আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এখনও বলছি শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক কিন্তু ধর্মঘট অযৌক্তিক ও নীতিবহির্ভূত। যেসব শ্রমিক নেতার খামখেয়ালিপনায় তিনদিন ধরে সারাদেশের মানুষ কষ্ট পেল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, গত ১৫ মার্চ শ্রমিকদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল বৃহস্পতিবারও সেই একই সিদ্ধান্তের ওপর ঐকমত্য পোষণ করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে শ্রমিকরা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একই সিদ্ধান্তের আগেই কেন ধর্মঘটকারীরা সম্মতি প্রকাশ করল না? সরকার কী বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সরাসরি উত্তর না দিয়ে শাজাহান খান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে যারা ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে তাদের আর সুযোগ দেয়া হবে না।
খুলনা অফিস জানায়, মংলা বন্দর এবং খুলনা নৌ-বন্দর এলাকায় গতকাল সকাল থেকে পুরোমাত্রায় কাজ শুরু হয়েছে। মংলা বন্দরে অবস্থানরত একমাত্র জাহাজ এমভি বাংলার মায়ায় রফতানিযোগ্য পণ্য লোডিংয়ের কাজ চলছে। খুলনার ৩টি জ্বালানি তেল ডিপোতে ট্যাঙ্কার থেকে তেল খালাসের কাজ শুরু হয়ছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। মংলা বন্দরের অ্যাসিসটেম্লট ট্রাফিক ম্যানেজার আবদুুস সালাম আমার দেশকে জানান, মংলা বন্দরে এমভি বাংলার মায়া জাহাজে পুরোমাত্রায় মাল লোডিং চলছে। খুলনার বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানিয়েছে, সকাল থেকেই লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে টার্মিনাল ছেড়ে গেছে। এ ঘাট থেকে দিন-রাতে বিভিন্ন গন্তব্যে ৬টি লঞ্চ চলাচল করছে।
নৌ-শ্রমিকদের ২২ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে নৌ-ধর্মঘট শুরু হয়। তিনদিন ধর্মঘট চলার পর বৃহস্পতিবার রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হেয়ার রোডের বাসভবনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে সমঝোতা হওয়ার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। ওই বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী ছাড়াও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপরই শুরু হয় নৌযান চলাচল। গতকাল সরেজমিন ঢাকা নদীবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, সকালে যাত্রীদের তেমন কোনো ভিড় না থাকলে বেলা গড়াতে ক্রমেই যাত্রীদের উপস্থিতিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে বন্দর। রাতে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত সদরঘাট ও এর আশপাশ এলাকা সরব ছিল। গতকাল ঢাকা থেকে দেশের সবক’টি রুটেই লঞ্চ চলাচল করেছে। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চ সদরঘাটে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ শাহ আলম আমার দেশকে জানান, সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ২২ দফা দাবি বাস্তবায়নে সমঝোতা হওয়ার পর নৌযান শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদরঘাট টার্মিনালের ট্রাফিক পরিদর্শক মোহাম্মদ সুলায়মান জানান, সকাল থেকে স্বাভাবিক নিয়মে লঞ্চ চলাচল করেছে। এদিকে ধর্মঘটে মদতদাতাদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান। বৃহস্পতিবার রাতে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের ১২ ঘণ্টা পার না হতেই তিনি বলেছেন, ‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি গোষ্ঠী সাধারণ শ্রমিকদের ধর্মঘট করতে উস্কানি দিয়েছে। শিগগিরই তাদের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচন করা হবে।’ যুদ্ধাপরাধের বিচারের সঙ্গে এই ধর্মঘটের সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে আজকে কেউ কেউ মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন।’ গতকাল মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিআইডব্লিউটিএ আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এখনও বলছি শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক কিন্তু ধর্মঘট অযৌক্তিক ও নীতিবহির্ভূত। যেসব শ্রমিক নেতার খামখেয়ালিপনায় তিনদিন ধরে সারাদেশের মানুষ কষ্ট পেল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, গত ১৫ মার্চ শ্রমিকদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল বৃহস্পতিবারও সেই একই সিদ্ধান্তের ওপর ঐকমত্য পোষণ করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে শ্রমিকরা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একই সিদ্ধান্তের আগেই কেন ধর্মঘটকারীরা সম্মতি প্রকাশ করল না? সরকার কী বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সরাসরি উত্তর না দিয়ে শাজাহান খান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে যারা ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে তাদের আর সুযোগ দেয়া হবে না।
খুলনা অফিস জানায়, মংলা বন্দর এবং খুলনা নৌ-বন্দর এলাকায় গতকাল সকাল থেকে পুরোমাত্রায় কাজ শুরু হয়েছে। মংলা বন্দরে অবস্থানরত একমাত্র জাহাজ এমভি বাংলার মায়ায় রফতানিযোগ্য পণ্য লোডিংয়ের কাজ চলছে। খুলনার ৩টি জ্বালানি তেল ডিপোতে ট্যাঙ্কার থেকে তেল খালাসের কাজ শুরু হয়ছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। মংলা বন্দরের অ্যাসিসটেম্লট ট্রাফিক ম্যানেজার আবদুুস সালাম আমার দেশকে জানান, মংলা বন্দরে এমভি বাংলার মায়া জাহাজে পুরোমাত্রায় মাল লোডিং চলছে। খুলনার বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানিয়েছে, সকাল থেকেই লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে টার্মিনাল ছেড়ে গেছে। এ ঘাট থেকে দিন-রাতে বিভিন্ন গন্তব্যে ৬টি লঞ্চ চলাচল করছে।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


